৯ ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ বাতিল ও প্রক্টরিয়াল বডির ৩ সদস্যের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের একাংশ।
রবিবার (৯ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘অবিলম্বে বহিষ্কারাদেশ, বাতিল কর করতে হবে’, ‘লুকিয়ে করা বহিষ্কার, প্রহসনটা পরিষ্কার’, ‘নারী মানেই হানি না, এই প্রক্টর মানি না’, ‘মবতন্ত্রের ইজারাদার, প্রক্টর তুই গদি ছাড়’ এসব স্লোগান দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ঈশা দে বলেন, ‘যে ঘটনার উপর বিষয়টি জটিল হয়েছিল সেটি হচ্ছে, একজন প্রক্টরের গায়ে এক ছাত্রী হাত তুলেছিল। এটি অবশ্যই নিন্দনীয় এবং কখনোই এমন আচরণ প্রত্যাশিত না। কিন্তু যখন এ ঘটনায় সে হলের হাউজ-টিউটর সৈয়দা ফারিহা লাহরিন ম্যাম মেযেদের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এটা প্রশাসনের কেমন প্রহসন সেটা আপনারাই বুঝুন।
তিনি আরো বলেন, গত ৪ মার্চ প্রশাসন থেকে বহিষ্কারাদেশের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বহিষ্কৃতরা যে অপরাধী না, তার কারণ দর্শাতে বলেছে। সবার চিঠিতে একই ধরনের লেখা। চিঠিতে ১০ জনকে বলা হয়েছে বিশৃঙ্খলার নেতৃত্ব দান করেছেন। ১০ জন কীভাবে নেতৃত্ব দেন? আমরা চাই, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। বহিষ্কারাদেশ বাতিল হোক এবং প্রক্টরিয়াল বডির প্রধান প্রক্টর তানভীর স্যার এবং দুই সহকারী প্রক্টর কানন স্যার ও কোরবান আলী স্যারকে পদত্যাগ করতে হবে।
আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ তন্ময় বলেন, ‘বহিষ্কারের চিঠিতে ছয়টা অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ছয় নম্বরটিতে বলা হয়েছে অন্যান্য অপরাধ। এটা আসলে কী? এটা খুবই প্রহসনমূলক চিঠি। আবার বলা হয়েছে হলের গেট ভাঙার কথা। এখন প্রশ্ন, গেট বন্ধ থাকবে কেন? বিশ্ববিদ্যালয়ে কি সান্ধ্য আইন রয়েছে? কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল?’
ইমতিয়াজ তন্ময় বলেন, ‘শিক্ষার্থী হিসেবে আমি স্বচ্ছতা চাই। আমি জানতে চাই, ঠিক কোন প্রমাণে এসব অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়। কিছু ভিডিও ফুটেজ তো আমরাও দেখেছি, যেখানে কিছু শিক্ষক অশালীন ভাষায় কথা বলছেন। কোনো শিক্ষক কি কাউকে গালাগাল করতে পারেন? শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া হলেও ওসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?
গত ৫ ফেব্রুয়ারি চবির শেখ হাসিনা হলের নৌকা প্রতীক ও শেখ হাসিনার ম্যুরাল ভাঙাকে কেন্দ্র করে হলটির নারী শিক্ষার্থীদের দ্বারা শিক্ষক-সাংবাদিক লাঞ্ছিত হন। এই ঘটনায় তদন্ত করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ বাতিল এবং ৯ শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এরপরই এ বহিষ্কারাদেশ বাতিলের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।





















