০৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যমুনার চড়ে জুলহাসের বিমান দেখতে পাইলট আব্দুল্লাহ আল ফারুক। দেখতে জনস্রোত

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ষাইটঘর গ্রামের তরুণ উদ্ভাবক জুলহাস রহমান। তার তৈরি উড়োজাহাজ এখন দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দীর্ঘ চার বছরের পরিশ্রমের পর সফলভাবে আকাশে উড়তে সক্ষম হয়েছে তার তৈরি উড়োজাহাজ। এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই হাজারো উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন তার তৈরি উড়োজাহাজ দেখতে।
শিবালয় উপজেলার যমুনার চর—জাফরগঞ্জে গত ৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের তৈরি উড়োজাহাজ ওড়ান জুলহাস রহমান। ছোট আকারের এই উড়োজাহাজটিতে রয়েছে একটি আসন, ইঞ্জিন ও নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি কাঠামো। তার উড়োজাহাজ উড়ার সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হলে তিনি রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যান। দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন তার এই উদ্ভাবন দেখার জন্য।
আজ এই অনন্য আবিষ্কার দেখতে হেলিকপ্টারে মানিকগঞ্জে আসেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত পাইলট ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক। তিনি জুলহাস, তার মা ও বাবাকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে আকাশে ঘুরে দেখেন।
এদিকে, জুলহাসের তৈরি উড়োজাহাজ দেখতে সকাল থেকেই যমুনার চরে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থী। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞরাও তার এই প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করছেন।
স্থানীয় দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, অবিশ্বাস্য! আমাদের গ্রামের একজন ছেলে নিজ হাতে উড়োজাহাজ বানিয়ে উড়িয়েছে—এটা ভাবতেই অবাক লাগছে! যদি সে সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পায়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু করতে পারবে।
ঢাকা থেকে আসা ইঞ্জিনিয়ার সাদিকুর রহমান জানান, আমি নিজেও একজন ইঞ্জিনিয়ার, কিন্তু কখনো ভাবিনি যে এমন গ্রাম থেকে একজন তরুণ নিজ হাতে উড়োজাহাজ বানিয়ে আকাশে উড়াতে পারবে! এটি আমাদের দেশের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। কারণ ইতিপূর্বেও অনেক ভিডিও দেখেছি কিন্তু সেগুলো আকাশে উড়ার সক্ষমতা ছিল না। কিন্তু জুলহাস রহমানেরটা আকাশে উড়েছে।
জাফরগঞ্জ এলাকার সালাম হোসেন বলেন, আমি বহু বছর ধরে যমুনার চরে আছি, কিন্তু কখনো ভাবিনি যে এই জায়গা থেকে কেউ উড়োজাহাজ তৈরি করতে পারে। এটা আমাদের এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। জুলহাসের আবিষ্কার আমাদের তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে। প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারে, যদি এমন উদ্ভাবকদের পাশে দেশ দাঁড়াও।
২০২১ সালে প্রথমবারের মতো রিমোট কন্ট্রোল প্লেন দেখার পরই নিজের হাতে উড়োজাহাজ বানানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চার বছরের সাধনা। একাধিকবার ব্যর্থতার পরও হাল ছাড়েননি তিনি। পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের জোরে সফল হয়েছেন অবশেষে।
তরুণ উদ্ভাবক জুলহাস রহমান বলেন, আমি অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি। গতবছরও একটি উড়োজাহাজ তৈরি করেছিলাম কিন্তু সেটি আকাশে উড়াতে পারিনাই। এবার সফল হয়েছি। এই উড়োজাহাজ গত ৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সামনে উড়িয়েছি। সেদিন অনেক সাংবাদিক ভাই আমার এই সংবাদ প্রচার করেন। তারপর থেকেই আমি ভাইরাল হয়ে যাই। আমাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দল থেকে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি সাথে থাকার কথা জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, অ্যালুমিনিয়াম ও লোহা দিয়ে উড়োজাহাজটির অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। পানির পাম্পের ‘সেভেন হর্স পাওয়ারের’ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। চার বছর চেষ্টার পরে আজকে আমি সফল হয়েছি। এটি তৈরিতে আমার খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা। বাণিজ্যিকভাবে এটি তৈরি করা হয়নি।
অবসরপ্রাপ্ত পাইলট ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, জুলহাসের এই সফলতা প্রমাণ করে, মেধা ও পরিশ্রম থাকলে সব অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। যদি সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হতে পারে আরও উন্নত উড়োজাহাজ।
জনপ্রিয় সংবাদ

এবারের বিপিএলে কে কোন পুরস্কার জিতলেন

যমুনার চড়ে জুলহাসের বিমান দেখতে পাইলট আব্দুল্লাহ আল ফারুক। দেখতে জনস্রোত

আপডেট সময় : ০৬:৫০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ষাইটঘর গ্রামের তরুণ উদ্ভাবক জুলহাস রহমান। তার তৈরি উড়োজাহাজ এখন দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দীর্ঘ চার বছরের পরিশ্রমের পর সফলভাবে আকাশে উড়তে সক্ষম হয়েছে তার তৈরি উড়োজাহাজ। এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই হাজারো উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন তার তৈরি উড়োজাহাজ দেখতে।
শিবালয় উপজেলার যমুনার চর—জাফরগঞ্জে গত ৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের তৈরি উড়োজাহাজ ওড়ান জুলহাস রহমান। ছোট আকারের এই উড়োজাহাজটিতে রয়েছে একটি আসন, ইঞ্জিন ও নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি কাঠামো। তার উড়োজাহাজ উড়ার সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হলে তিনি রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যান। দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন তার এই উদ্ভাবন দেখার জন্য।
আজ এই অনন্য আবিষ্কার দেখতে হেলিকপ্টারে মানিকগঞ্জে আসেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত পাইলট ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক। তিনি জুলহাস, তার মা ও বাবাকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে আকাশে ঘুরে দেখেন।
এদিকে, জুলহাসের তৈরি উড়োজাহাজ দেখতে সকাল থেকেই যমুনার চরে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থী। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞরাও তার এই প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করছেন।
স্থানীয় দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, অবিশ্বাস্য! আমাদের গ্রামের একজন ছেলে নিজ হাতে উড়োজাহাজ বানিয়ে উড়িয়েছে—এটা ভাবতেই অবাক লাগছে! যদি সে সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পায়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু করতে পারবে।
ঢাকা থেকে আসা ইঞ্জিনিয়ার সাদিকুর রহমান জানান, আমি নিজেও একজন ইঞ্জিনিয়ার, কিন্তু কখনো ভাবিনি যে এমন গ্রাম থেকে একজন তরুণ নিজ হাতে উড়োজাহাজ বানিয়ে আকাশে উড়াতে পারবে! এটি আমাদের দেশের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। কারণ ইতিপূর্বেও অনেক ভিডিও দেখেছি কিন্তু সেগুলো আকাশে উড়ার সক্ষমতা ছিল না। কিন্তু জুলহাস রহমানেরটা আকাশে উড়েছে।
জাফরগঞ্জ এলাকার সালাম হোসেন বলেন, আমি বহু বছর ধরে যমুনার চরে আছি, কিন্তু কখনো ভাবিনি যে এই জায়গা থেকে কেউ উড়োজাহাজ তৈরি করতে পারে। এটা আমাদের এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। জুলহাসের আবিষ্কার আমাদের তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে। প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারে, যদি এমন উদ্ভাবকদের পাশে দেশ দাঁড়াও।
২০২১ সালে প্রথমবারের মতো রিমোট কন্ট্রোল প্লেন দেখার পরই নিজের হাতে উড়োজাহাজ বানানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চার বছরের সাধনা। একাধিকবার ব্যর্থতার পরও হাল ছাড়েননি তিনি। পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের জোরে সফল হয়েছেন অবশেষে।
তরুণ উদ্ভাবক জুলহাস রহমান বলেন, আমি অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি। গতবছরও একটি উড়োজাহাজ তৈরি করেছিলাম কিন্তু সেটি আকাশে উড়াতে পারিনাই। এবার সফল হয়েছি। এই উড়োজাহাজ গত ৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সামনে উড়িয়েছি। সেদিন অনেক সাংবাদিক ভাই আমার এই সংবাদ প্রচার করেন। তারপর থেকেই আমি ভাইরাল হয়ে যাই। আমাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দল থেকে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি সাথে থাকার কথা জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, অ্যালুমিনিয়াম ও লোহা দিয়ে উড়োজাহাজটির অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। পানির পাম্পের ‘সেভেন হর্স পাওয়ারের’ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। চার বছর চেষ্টার পরে আজকে আমি সফল হয়েছি। এটি তৈরিতে আমার খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা। বাণিজ্যিকভাবে এটি তৈরি করা হয়নি।
অবসরপ্রাপ্ত পাইলট ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, জুলহাসের এই সফলতা প্রমাণ করে, মেধা ও পরিশ্রম থাকলে সব অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। যদি সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হতে পারে আরও উন্নত উড়োজাহাজ।