০৭:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এজন্য মিয়ানমারে শান্তি পুনপ্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (১৪ মার্চ) বিকালে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে আমি দুটি স্পষ্ট বার্তা পেয়েছি। প্রথমত, আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই মিয়ানমারে শান্তি পুনপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করে কোন ধরনের বৈষম্যের শিকার তারা যেন না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গারা আরও ভালো পরিবেশ চায় ক্যাম্পে। দুর্ভাগ্যবশত যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অনেক দেশ সম্প্রতি নাটকীয়ভাবে মানবিক সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে। এই কারণে আমাদের মানবিক সহায়তার মধ্যে খাবারের রেশন কমাতে হয়েছে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। যত দেশ সম্ভব আমি কথা বলবো, যাতে করে ফান্ড পাওয়া যায় এবং এর থেকে আরও খারাপ পরিস্থিতি না আসে।’
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ভুলে যাবে, এমনটি প্রত্যাশা করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে জোরালো আওয়াজ তুলবো। কারণ সম্মানের সঙ্গে এখানে বসবাসের জন্য এই সম্প্রদায়ের মানবিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
মায়ানমারে নিপীড়ন ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা লাখো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে ইফতার করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে ইফতার করার সুযোগ পেয়ে রোহিঙ্গারা মহাখুশি।
রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটির সভাপতি মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আশ্রয়শিবিরে আসার খবরে সাধারণ রোহিঙ্গারা খুবই উৎফুল্ল।  বৈঠকে আমরা মহাসচিবের কাছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আরাকান রাজ্যে সেফ জোন প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়। খাদ্যসহায়তায় কাটছাঁট করার ফলে শরণার্থীদের জীবনে যে নেতাবাচক প্রভাব পড়ছে, তাও তুলে ধরা হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি।  এর মধ্যে ৮ লাখ এসেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরের কয়েক মাসে। দীর্ঘ ৮ বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।  উল্টো গত কয়েক মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয়শিবিরে ঠাঁই নিয়েছেন ৬০ থেকে ৭০ হাজার রোহিঙ্গা।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজার পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
কক্সবাজার বিমানবন্দরে জাতিসংঘ মহাসচিবকে অভ্যর্থনা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ফারুক ই আজম। পরে মহাসচিব সেখান থেকে সরাসরি উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রওনা হন।
কক্সবাজার সফরকালে, প্রধান উপদেষ্টা কক্সবাজারে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের অগ্রগতি সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। বেবিচকের তথ্যমতে, বিমানবন্দর নির্মাণের ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরে এটি চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরে, ড. ইউনূস বিয়াম ফাউন্ডেশনে স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে হেলিকপ্টারযোগে রোহিঙ্গা শিবিরে যান। জাতিসংঘ মহাসচিব দুপুর ১টা ১০ মিনিটে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাপ থেকে গাড়ি বহর নিয়ে বেরিয়ে আসেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সুশিক্ষা ছাড়া সুনাগরিক গড়ে ওঠে না : ড. আবদুল  মঈন খান

রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

আপডেট সময় : ০৮:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫
মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এজন্য মিয়ানমারে শান্তি পুনপ্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (১৪ মার্চ) বিকালে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে আমি দুটি স্পষ্ট বার্তা পেয়েছি। প্রথমত, আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই মিয়ানমারে শান্তি পুনপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করে কোন ধরনের বৈষম্যের শিকার তারা যেন না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গারা আরও ভালো পরিবেশ চায় ক্যাম্পে। দুর্ভাগ্যবশত যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অনেক দেশ সম্প্রতি নাটকীয়ভাবে মানবিক সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে। এই কারণে আমাদের মানবিক সহায়তার মধ্যে খাবারের রেশন কমাতে হয়েছে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। যত দেশ সম্ভব আমি কথা বলবো, যাতে করে ফান্ড পাওয়া যায় এবং এর থেকে আরও খারাপ পরিস্থিতি না আসে।’
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ভুলে যাবে, এমনটি প্রত্যাশা করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে জোরালো আওয়াজ তুলবো। কারণ সম্মানের সঙ্গে এখানে বসবাসের জন্য এই সম্প্রদায়ের মানবিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
মায়ানমারে নিপীড়ন ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা লাখো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে ইফতার করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে ইফতার করার সুযোগ পেয়ে রোহিঙ্গারা মহাখুশি।
রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটির সভাপতি মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আশ্রয়শিবিরে আসার খবরে সাধারণ রোহিঙ্গারা খুবই উৎফুল্ল।  বৈঠকে আমরা মহাসচিবের কাছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আরাকান রাজ্যে সেফ জোন প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়। খাদ্যসহায়তায় কাটছাঁট করার ফলে শরণার্থীদের জীবনে যে নেতাবাচক প্রভাব পড়ছে, তাও তুলে ধরা হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি।  এর মধ্যে ৮ লাখ এসেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরের কয়েক মাসে। দীর্ঘ ৮ বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।  উল্টো গত কয়েক মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয়শিবিরে ঠাঁই নিয়েছেন ৬০ থেকে ৭০ হাজার রোহিঙ্গা।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজার পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
কক্সবাজার বিমানবন্দরে জাতিসংঘ মহাসচিবকে অভ্যর্থনা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ফারুক ই আজম। পরে মহাসচিব সেখান থেকে সরাসরি উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রওনা হন।
কক্সবাজার সফরকালে, প্রধান উপদেষ্টা কক্সবাজারে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের অগ্রগতি সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। বেবিচকের তথ্যমতে, বিমানবন্দর নির্মাণের ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরে এটি চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরে, ড. ইউনূস বিয়াম ফাউন্ডেশনে স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে হেলিকপ্টারযোগে রোহিঙ্গা শিবিরে যান। জাতিসংঘ মহাসচিব দুপুর ১টা ১০ মিনিটে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাপ থেকে গাড়ি বহর নিয়ে বেরিয়ে আসেন।