০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে সংঘর্ষের পর জামায়াত-বিএনপি’র সংবাদ সম্মেলন

প্রচার  প্রচারনাকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধায় বিএনপি- জামায়াত নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গতকাল ৩টার দিকে টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কাসাইটাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে আবারও দুই পক্ষের দফায় দফায় সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়ে দলের অন্তত্য ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়। আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশসুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার সুত্রপাত হিসেবে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছেন।

সোমবার সকালে জামায়াতের নারী সংগঠনের জেলা সেক্রেটারী তামান্না বেগম  ও বেলা ১২ টায় বাংলাদেশ জামায়াতী ইসলামের  হাতীবান্ধা উপজেলা শাখার আমির রফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজুর মহিলাকর্মীরা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ভোট চাইতে গেলে  বিএনপির লোকজন এসে মহিলাদের মুখের হিযাব খুলে ফেলার চেষ্টা করে।

 

জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংবাদ সম্মেলন

পরে আরও বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে আমাদের মহিলা পুরুষদের উপর হামলা করে। এবং বাড়িঘর ভাংচুরসহ বেশ কয়েকটি মোটর সাইকেলও ভাংচুর করে। এতে আমাদের  বর্তমানে ১০ নেতাকর্মী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট চাইতে দিতে দিচ্ছেন না বিএনপির লোকজন। মহিলা কর্মীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এবং সাধারণ ভোটারদের বাড়িতে গিয়েও হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। যে দলের নেতাকর্মীদের কাছে আমাদের শ্রদ্ধেয় মা বোনদের পর্দা হিযাব, নেকাব ও ইজ্জত নিরাপদ নয় সেই দল রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় আসলে জাতি কতটুকু নিরাপদ থাকবে।

অপর দিকে বিকাল ৩টায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোশারফ হোসেন দলীয় কার্যকালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, জামায়াতের মহিলাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটাদের বলেন একমাত্র দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতে যেতে পারবেন। তবে স্বামী সন্তান আপনাকে জান্নাতে নিতে পারবে না।

বিএনপি নেতাকর্মীদের সংবাদ সম্মেলন

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের লোকজন উদ্দেশ্যে প্রণীতভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শান্তিপুর্ণ পরিবেশ নষ্টের জন্য জামায়াত শিবির হামলা ভাংচুর এবং জনমনে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করছে। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, হিযাব খুলে নেয়ার ঘটনাটি একটি গুজব ও সম্পুর্ণভাবে ভিত্তিহীন।

উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার ভোট চাওয়া ও হিযাব খোলাকে কেন্দ্রকরে জামায়াত বিএনপির দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত্য ৩০ জন আহত হন। এরমধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন মো: আমানুল্যাহ  বলেন, গতকালের সংর্ঘষের পর বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যাতে আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আমরা তৎপর রয়েছি।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটে সংঘর্ষের পর জামায়াত-বিএনপি’র সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৬:২৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

প্রচার  প্রচারনাকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধায় বিএনপি- জামায়াত নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গতকাল ৩টার দিকে টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কাসাইটাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে আবারও দুই পক্ষের দফায় দফায় সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়ে দলের অন্তত্য ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়। আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশসুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার সুত্রপাত হিসেবে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছেন।

সোমবার সকালে জামায়াতের নারী সংগঠনের জেলা সেক্রেটারী তামান্না বেগম  ও বেলা ১২ টায় বাংলাদেশ জামায়াতী ইসলামের  হাতীবান্ধা উপজেলা শাখার আমির রফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজুর মহিলাকর্মীরা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ভোট চাইতে গেলে  বিএনপির লোকজন এসে মহিলাদের মুখের হিযাব খুলে ফেলার চেষ্টা করে।

 

জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংবাদ সম্মেলন

পরে আরও বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে আমাদের মহিলা পুরুষদের উপর হামলা করে। এবং বাড়িঘর ভাংচুরসহ বেশ কয়েকটি মোটর সাইকেলও ভাংচুর করে। এতে আমাদের  বর্তমানে ১০ নেতাকর্মী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট চাইতে দিতে দিচ্ছেন না বিএনপির লোকজন। মহিলা কর্মীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এবং সাধারণ ভোটারদের বাড়িতে গিয়েও হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। যে দলের নেতাকর্মীদের কাছে আমাদের শ্রদ্ধেয় মা বোনদের পর্দা হিযাব, নেকাব ও ইজ্জত নিরাপদ নয় সেই দল রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় আসলে জাতি কতটুকু নিরাপদ থাকবে।

অপর দিকে বিকাল ৩টায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোশারফ হোসেন দলীয় কার্যকালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, জামায়াতের মহিলাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটাদের বলেন একমাত্র দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতে যেতে পারবেন। তবে স্বামী সন্তান আপনাকে জান্নাতে নিতে পারবে না।

বিএনপি নেতাকর্মীদের সংবাদ সম্মেলন

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের লোকজন উদ্দেশ্যে প্রণীতভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শান্তিপুর্ণ পরিবেশ নষ্টের জন্য জামায়াত শিবির হামলা ভাংচুর এবং জনমনে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করছে। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, হিযাব খুলে নেয়ার ঘটনাটি একটি গুজব ও সম্পুর্ণভাবে ভিত্তিহীন।

উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার ভোট চাওয়া ও হিযাব খোলাকে কেন্দ্রকরে জামায়াত বিএনপির দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত্য ৩০ জন আহত হন। এরমধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন মো: আমানুল্যাহ  বলেন, গতকালের সংর্ঘষের পর বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যাতে আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আমরা তৎপর রয়েছি।

শু/সবা