ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির করায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্য করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিকর্ণ দাস দিব্য এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী প্রণয় কুন্ডুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে তারা।
গতকাল (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন, স্বাধীনতা চত্বর হয়ে প্রধান ফটকে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং পরে শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করে তোলেন। তাদের স্লোগানের মধ্যে ছিল “উগ্রবাদের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও”, “ইসলামের শত্রুরা হুশিয়ার, সাবধান”, “ধর্ম অবমাননাকারীদের জন্য এক দফা, এক দাবি চূড়ান্ত বিচার চাই”, “উগ্র হিন্দুত্ববাদ বাংলাদেশে চলবে না” ইত্যাদি।
শিক্ষার্থীদের জানান, প্রণয় কুন্ডু সম্প্রতি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ইসলামবিষয়ক আলোচক ড. জাকির নায়েকের একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেই পোস্টে বিকর্ণ দাস দিব্য কমেন্ট করেন “ড. জাকির নায়েকের মূত্র সেবন করতে পারলেই তার ভক্তরা জান্নাতে যাবেন।”
তার এই মন্তব্যকে ইসলাম ধর্মের প্রতি চরম অবমাননাকর ও উসকানিমূলক বলে অভিহিত করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তারা বিক্ষোভে নামেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, “বিকর্ণ দাস দিব্য ও প্রণয় কুন্ডু ইসলাম ধর্ম নিয়ে যেভাবে অবমাননাকর মন্তব্য করেছে, তা শুধু মুসলমানদের নয়, সামগ্রিকভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্যও হুমকিস্বরূপ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধর্মের শিক্ষার্থী সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পড়াশোনা করে। কিন্তু কিছু উগ্র হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় উসকানি দিচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের কাছে তাদের স্থায়ী বহিষ্কারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাই।”
একজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই এখানে ভাই ভাই হয়ে বসবাস করে। কিন্তু কিছু কুলাঙ্গার ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে সেই সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। আমরা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ আশা করছি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ধর্ম অবমাননার দুঃসাহস না দেখায়।”






















