পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুমোদনহীনভাবে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ করায় উপ-রেজিস্ট্রার এস.এম জহরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন কর্মকর্তাদের একাংশ।
ইফতার অনুষ্ঠান কমিটির আহ্বায়ক এস.এম. গোলজার হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা একাডেমিক ভবনের সামনে বিকেল ৩টায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এস.এম. গোলজার হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ইফতারের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা তোলার আহ্বান জানানো হয় । তবে এই আয়োজনের জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করে রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগপ্ত্র দিয়েছেন উপ-রেজিস্ট্রার এস.এম. জহরুল ইসলাম।
পাবিপ্রবির উপ-রেজিস্ট্রার এস.এম. জহুরুল ইসলাম এই চাঁদা উত্তোলনকে “অন্যায় ও প্রশাসনিক নিয়মের লঙ্ঘন” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অর্থ আদায় হিসাব শাখার মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্টে জমা হওয়ার নিয়ম থাকলেও এখানে হাতে হাতে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অনৈতিক।”
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, অনুমোদন ছাড়া আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং প্রশাসনিক প্রটোকল উপেক্ষা করে পত্র জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের দপ্তরে গিয়ে চাঁদা তোলা “১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ” বলে উল্লেখ করেন।
এই অভিযোগের জবাবে বিকেলে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ইফতার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক এস.এম. গোলজার হোসেন বলেন, “ইফতার মাহফিল একটি মহতি আয়োজন। এখানে শুভেচ্ছা ফি নেওয়া যদি দণ্ডনীয় অপরাধ হয়, তাহলে দেশের কোথাও ইফতার আয়োজন করা যাবে না। মুসলিমরা ইফতার থেকে বঞ্চিত হবে, যা বিগত সরকারের আমলেও হয়েছে। আমরা দেখেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ইফতার নিষিদ্ধ ছিল। আমরা সেই রীতি চাই না।”
উল্লেখ্য, উপ-রেজিস্ট্রার এস.এম জহরুল ইসলাম ক্যাম্পাসে আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড পাবনা জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।




















