০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে আ’লীগের ৭৭০ জনকে অভিযুক্ত করে ছাত্র প্রতিনিধির মামলা 

ছবি, মামলার আসামী মৃত জাফর আলম

৪২৭ নং আসামী দুবছর ধরে প্রবাসী, ৩২৪ ও ৫২০ নং আসামী মৃত
ঘটনার ৭মাস পরে মামলা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা মুখর কক্সবাজার
সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজারেও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে  গত ৪ আগষ্ট কক্সবাজারের লালদিঘির পাড় এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা ও আইন শৃঙ্খলা বিঘ্ন করার অভিযোগে আওয়ামীলীগের ৫২০ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরাও ২৫০ জনের নাম উল্লেখ ছাড়া অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছে এক ছাত্র প্রতিনিধি।
শনিবার এনামুল হক নামের ওই ছাত্র প্রতিনিধি বাদী হয়ে মামলা দায়েরের বিষয়টি জানান কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ইলিয়াস খান।
বাদী এনামুল হকের স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রামের বাঁশখালী হলেও তিনি বর্তমানে কক্সবাজার থাকেন বলে উল্লেখ করা হয় এজাহারে।
মামলায় আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফাকে প্রধান আসামী করে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের আরো ৫২০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়।
এতে  ৪২৭ নং আসামী দুবছর ধরে প্রবাসী, ৩২৪ ও ৫২০ নং আসামী মৃত। এক নাম একাধিক বার এসেছে। হঠাৎ এমন মামলা, মামলায় প্রবাসী ও মৃত ব্যক্তির নাম।  এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন আগে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মামলার আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
মৃত জাফর আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমার বাবা জাফর আলম ঈদগাঁওয়ের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগছিলেন এবং ২০২৩ সালের ৬ জুন তার অপারেশন হয়। এরপর গত বছরের ৫ আগস্ট বিকেলে তিনি মারা যান। অথচ তার নাম মামলার আসামির তালিকায় দেখে আমরা হতবাক।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াস খান বলেন, এমন কিছু হয়ে থাকলে তদন্ত করে মৃত ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া হবে।
এই মামলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ কক্সবাজারে আলোচনা সমালোচনা থামছে না। এ নিয়ে বাদি এনামুল হক তার ফেসবুক পেজে লিখেন,
ভুলক্রমে আমার অজান্তে নিরপরাধ কোন ব্যক্তির নাম আসলে সে নাম আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোর্টে জবানবন্দি দিয়ে নাম বাদ দিব, কেউ নাম বাদ দিতে ১টাকাও লেনদেন করবেননা, আই রিপিট ১টাকাও নাহ, জাস্ট এনসিউর করুন যে আপনি লীগ করে কারো ক্ষতি করেননাই, আন্দোলনের বিরুদ্ধে ছিলেননা।
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোট পর্যবেক্ষণে দেশি-বিদেশি সাড়ে ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক

কক্সবাজারে আ’লীগের ৭৭০ জনকে অভিযুক্ত করে ছাত্র প্রতিনিধির মামলা 

আপডেট সময় : ০৫:০৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
৪২৭ নং আসামী দুবছর ধরে প্রবাসী, ৩২৪ ও ৫২০ নং আসামী মৃত
ঘটনার ৭মাস পরে মামলা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা মুখর কক্সবাজার
সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজারেও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে  গত ৪ আগষ্ট কক্সবাজারের লালদিঘির পাড় এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা ও আইন শৃঙ্খলা বিঘ্ন করার অভিযোগে আওয়ামীলীগের ৫২০ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরাও ২৫০ জনের নাম উল্লেখ ছাড়া অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছে এক ছাত্র প্রতিনিধি।
শনিবার এনামুল হক নামের ওই ছাত্র প্রতিনিধি বাদী হয়ে মামলা দায়েরের বিষয়টি জানান কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ইলিয়াস খান।
বাদী এনামুল হকের স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রামের বাঁশখালী হলেও তিনি বর্তমানে কক্সবাজার থাকেন বলে উল্লেখ করা হয় এজাহারে।
মামলায় আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফাকে প্রধান আসামী করে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের আরো ৫২০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়।
এতে  ৪২৭ নং আসামী দুবছর ধরে প্রবাসী, ৩২৪ ও ৫২০ নং আসামী মৃত। এক নাম একাধিক বার এসেছে। হঠাৎ এমন মামলা, মামলায় প্রবাসী ও মৃত ব্যক্তির নাম।  এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন আগে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মামলার আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
মৃত জাফর আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমার বাবা জাফর আলম ঈদগাঁওয়ের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগছিলেন এবং ২০২৩ সালের ৬ জুন তার অপারেশন হয়। এরপর গত বছরের ৫ আগস্ট বিকেলে তিনি মারা যান। অথচ তার নাম মামলার আসামির তালিকায় দেখে আমরা হতবাক।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াস খান বলেন, এমন কিছু হয়ে থাকলে তদন্ত করে মৃত ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া হবে।
এই মামলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ কক্সবাজারে আলোচনা সমালোচনা থামছে না। এ নিয়ে বাদি এনামুল হক তার ফেসবুক পেজে লিখেন,
ভুলক্রমে আমার অজান্তে নিরপরাধ কোন ব্যক্তির নাম আসলে সে নাম আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোর্টে জবানবন্দি দিয়ে নাম বাদ দিব, কেউ নাম বাদ দিতে ১টাকাও লেনদেন করবেননা, আই রিপিট ১টাকাও নাহ, জাস্ট এনসিউর করুন যে আপনি লীগ করে কারো ক্ষতি করেননাই, আন্দোলনের বিরুদ্ধে ছিলেননা।