০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দলালের দৌরাত্ন্য, অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
প্রতিনিয়ত হাসপাতাল কেন্দ্রিক দালালের দৌরাত্ন্য বেড়েই চলেছে।
সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে সেনা ও যৌথবাহিনীর অভিযানে কয়েকজন
দালাল আটক হলেও জেলার বিভিন্ন হসপিটাল ও কমিউনিটি সেন্টার গুলোতে
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্টাফ ও দালালদের রোগী নিয়ে টানাটানিতে অতিষ্ট
হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, জেলায় প্রায় দেড় থেকে দুইশ সেন্টার ও হসপিটাল রয়েছে।
যার অধিকাংশই যথাযথ কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকায় অবৈধ। প্রশাসনের
নাকের ডগায় এ সব প্রতিষ্ঠান টেস্ট ফির নামে মনগড়া ও গলা কাটা টাকা
আদায় করলে অভিযানতো দুরের কথা ও সংশ্লিষ্টরা নীরব। একেকজন নানা
উপায়ে রোগী ও স্বজনদের সাথে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে এখন আঙ্গুল
ফুলে কলাগাছ এবং সমাজের দর্পন হিসাবে পরিচয় দেয়। ফলে ক্ষোভে ফুঁসছে
সাধারন মানুষ।
এমনি এক ঘটনা সহ কমলনগরে রোগী নিয়ে ‘দালালদের’ মধ্যে মারামারির
ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় দেশ-মা-মাটি ল্যাবের আব্বাস (৩৫) ও হাই-
কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্টাফ রাকিব (২৬) সহ দুটি ডায়াগনস্টিক
সেন্টারের দুই স্টাফ আহত হন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতার
কারণে হাসপাতাল চত্বরে এসব ‘দালালদের’ দৌরাত্ম্য বৃদ্ধিতে প্রায়ই
অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চরমার্টিন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা
রোগী আমেনা বেগম জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসাপত্র নিয়ে বের হলে
দেশ-মা-মাটি ল্যাবের আব্বাস প্রথমে তার গতিরোধ করে কথা বলতে শুরু করে।
এ সময় হাই-কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্টাফ রাকিব এসে একই
রোগীকে তার পরিচিত দাবি করে টানা-হেঁচড়া শুরু করে। কথা-কাটাকাটির
এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে কিল-ঘুষির মারামারি শুরু হয়।পরে উপস্থিত অন্য
লোকজনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এদিকে হাসপাতাল চত্বরে ডাক্তারদের উপস্থিতিতে চিকিৎসা নিতে আসা
রোগীদের নিয়ে ‘দালালচক্রের’ টানা-হেঁচড়া করে লাঞ্চিত করার ঘটনা নিয়ে

এলাকাবাসীর মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়ত রোগী সাধারণ ও
লোকজনকে ‘দালাল’ চক্রের হাতে লাঞ্চিত হতে হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সব্যসাচী দেবনাথ এ
হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই হাসপাতাল এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন
ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পক্ষে নিয়োজিত ‘দালালরা’ বেপরোয়া হয়ে
ওঠে।চিকিৎসাপত্র নিয়ে রোগীরা বের হওয়া মাত্র দালালরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে
রোগী ও রোগীর স্বজনদের ওপর।
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সব্যসাচী দেবনাথ ঘটনার সত্যতায়
বলেন, হাসপাতাল চত্বরে মারামারির ঘটনায় কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিষয়টি তাকে অবগত করেছেন। পক্ষদ্বয়ের কেউ লিখিত
অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোট পর্যবেক্ষণে দেশি-বিদেশি সাড়ে ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক

কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দলালের দৌরাত্ন্য, অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা

আপডেট সময় : ০২:৩৪:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
প্রতিনিয়ত হাসপাতাল কেন্দ্রিক দালালের দৌরাত্ন্য বেড়েই চলেছে।
সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে সেনা ও যৌথবাহিনীর অভিযানে কয়েকজন
দালাল আটক হলেও জেলার বিভিন্ন হসপিটাল ও কমিউনিটি সেন্টার গুলোতে
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্টাফ ও দালালদের রোগী নিয়ে টানাটানিতে অতিষ্ট
হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, জেলায় প্রায় দেড় থেকে দুইশ সেন্টার ও হসপিটাল রয়েছে।
যার অধিকাংশই যথাযথ কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকায় অবৈধ। প্রশাসনের
নাকের ডগায় এ সব প্রতিষ্ঠান টেস্ট ফির নামে মনগড়া ও গলা কাটা টাকা
আদায় করলে অভিযানতো দুরের কথা ও সংশ্লিষ্টরা নীরব। একেকজন নানা
উপায়ে রোগী ও স্বজনদের সাথে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে এখন আঙ্গুল
ফুলে কলাগাছ এবং সমাজের দর্পন হিসাবে পরিচয় দেয়। ফলে ক্ষোভে ফুঁসছে
সাধারন মানুষ।
এমনি এক ঘটনা সহ কমলনগরে রোগী নিয়ে ‘দালালদের’ মধ্যে মারামারির
ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় দেশ-মা-মাটি ল্যাবের আব্বাস (৩৫) ও হাই-
কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্টাফ রাকিব (২৬) সহ দুটি ডায়াগনস্টিক
সেন্টারের দুই স্টাফ আহত হন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতার
কারণে হাসপাতাল চত্বরে এসব ‘দালালদের’ দৌরাত্ম্য বৃদ্ধিতে প্রায়ই
অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চরমার্টিন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা
রোগী আমেনা বেগম জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসাপত্র নিয়ে বের হলে
দেশ-মা-মাটি ল্যাবের আব্বাস প্রথমে তার গতিরোধ করে কথা বলতে শুরু করে।
এ সময় হাই-কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্টাফ রাকিব এসে একই
রোগীকে তার পরিচিত দাবি করে টানা-হেঁচড়া শুরু করে। কথা-কাটাকাটির
এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে কিল-ঘুষির মারামারি শুরু হয়।পরে উপস্থিত অন্য
লোকজনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এদিকে হাসপাতাল চত্বরে ডাক্তারদের উপস্থিতিতে চিকিৎসা নিতে আসা
রোগীদের নিয়ে ‘দালালচক্রের’ টানা-হেঁচড়া করে লাঞ্চিত করার ঘটনা নিয়ে

এলাকাবাসীর মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়ত রোগী সাধারণ ও
লোকজনকে ‘দালাল’ চক্রের হাতে লাঞ্চিত হতে হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সব্যসাচী দেবনাথ এ
হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই হাসপাতাল এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন
ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পক্ষে নিয়োজিত ‘দালালরা’ বেপরোয়া হয়ে
ওঠে।চিকিৎসাপত্র নিয়ে রোগীরা বের হওয়া মাত্র দালালরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে
রোগী ও রোগীর স্বজনদের ওপর।
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সব্যসাচী দেবনাথ ঘটনার সত্যতায়
বলেন, হাসপাতাল চত্বরে মারামারির ঘটনায় কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিষয়টি তাকে অবগত করেছেন। পক্ষদ্বয়ের কেউ লিখিত
অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।