০৬:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে জমে ওঠছে ঈদ বাজার

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; hdrForward: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (0.029166667, 0.37395832);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: auto;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 35;

গতবছর পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিকে চরফ্যাশনের ঈদ মার্কেট জমে ওঠলেও এবার ঈদ মার্কেট জমে ওঠতে বেশ সময় লেগেছে। মাসের অর্ধেক শেষে গত দু’ দিন যাবত বেচা বিক্রিতে বিপনী বিতানগুলো সরগম হয়ে ওঠছে। নারী- পুরুষ আবাল বৃদ্ধ বণিতাসহ সকল শ্রেণির ক্রেতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে মার্কেটগুলোতে। তবে ক্রেতা হিসেবে তরণীদের সংখ্যাই বেশি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপছে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে পোশাক ও জুতার দোকানগুলোতে।
গতকাল চরফ্যাশন বাজারের জনতা রোডের বিপনী বিতানগুলোতে গিয়ে দেখা যায় তরুণী ও মধ্য বয়সী নারীদের ভীড় বেশি। তাদের অনেকেই পরিবারের সবার জন্য পোশাক কেনার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে নিজের জন্যই কিনছেন। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে তাদের পছন্দের পোশাক কিনছেন। বয়স্করা নিজেদের তুলনায় শিশুদের জন্যই পোশাক বেশি ক্রয় করছেন।

শিক্ষক বনি আমিন বলেন, মুসলিম ধর্মের সবচেয়ে বড় দুটি উৎসব হচ্ছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। দীর্ঘ ১ মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের দিন নতুন পোশাক পরিধান করে ধর্মপ্রাণ মানুষ। সেজন্য যে যার সাধ্য অনুযায়ী পোশাক কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদ বোনাস দিয়ে চলছে পুরোদমে ঈদের কেনাকাটা।

সামর্থ অনুযায়ী মানুষ পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের কেনাকাটায় মেতে উঠেছেন সবাই। শহরের বড় বড় বিপনী বিতান ও ফুটপাতে মানুষের ঢল। অভিজাত বিপণী বিতান থেকে শুরু করে ফুটপাত, সবখানেই ব্যস্ততা। সারাদিন রোজা রেখেও কেনাকাটায় কোন ক্লান্তির ছাপ নেই রোজাদারদের। ব্যস্ততা, কোলাহল, ভিড় উপেক্ষা করে প্রিয় মানুষটির জন্য মানানসই পোশাকটি খুঁজে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে । বাঙালী নারীদের ঐতিহ্যবাহী অনুসঙ্গ শাড়ি। অনেকে থ্রিপিসের সাথে শাড়ি কিনছে । সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। পোশাক কেনার পাশাপাশি প্রসাধনী, অলংকার, জুতা সেন্ডেল ও দর্জি দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। ঈদের আমেজ যেন ছড়িয়ে পড়েছে সবখানেই। চরফ্যাশন বাজারের সদর রোড, জনতা রোড, মেইন রোড,চক রোড ও বটতলা রোডে ভিড় উপচে পড়ছে। গত বছরের তুলনায় দাম বেশি বলে দাবি করেছেন ক্রেতাদরা। ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে দর কষাকষির শেষে বাড়ি ফেরার পথে সবার হাতেই থাকছে এক বা একাধিক নতুন কাপড়ের শপিং ব্যাগ। মেয়েদের তানাবানা শাড়ি, ঐতিহ্যবাহী কাতান, বালিচুরি, রাজশাহী সিল্ক, জামদানি , ইন্ডিয়ান শাড়ি , পাকিস্তানি থ্রি পিস, ইন্ডিয়ান থ্রিপিস ,সারারা, গারারা, টু পিস, থ্রি পিস, পুষ্পা টু সেকেন্দার, প্রিয়তমা, রাজকুমারসহ বাহারি থ্রিপিস, শাড়ি, গজ কাপড় বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের পাঞ্জাবি, পাজামা, শার্ট প্যান্ট, লুঙ্গি, ফতোয়া বিক্রি হচ্ছে।

চরফ্যাশন উপজেলার মিয়াজানপুর গ্রাম থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন কামরুন নাহার, ঈদের কেনাকাটার বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবার এবং আত্নীয় স্বজনের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। ঈদের দিন পরিবারের সবাইকে নতুন পোশাক পরতে দেখলে ঈদের আনন্দটা বেড়ে যায়। ছোটবেলায় আমাদের বাবা ঈদ উপলক্ষে একটা পোশাক কিনে দিতেন। কিন্তু আমার ছেলেমেয়েদের একাধিক পোশাক কিনে দিতে হয়। এতে নিজের ও ভালো লাগে। তিনি মেয়ের জন্য চারটা থ্রিপিস, ছেলের শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবিসহ পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করেছেন । তবে এবার ঈদে পোশাকের দামটা গত বছরের তুলনায় বেশি বলে তিনি জানান।
উত্তর আইচা থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন রাহাত হালিম তিনি বলেন, ঈদের কেনাকাটা করতে ভালই লাগে। ঈদ মানে আনন্দ, নতুন পোশাকে ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তাই পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কিনেছি।
চরফ্যাশন ফ্যাশন কর্ণধার রাসেল ইসলাম বলেন, এ বছর তরুণীদের পছন্দ পাকিস্তানি থ্রি পিচ, মেয়েদের পোশাকের মধ্যে এবার পাথরের কাজের তুলনায় সূতার কাজের কামিজগুলো ভালো চলছে। এছাড়া জরি, সূতা, পুঁথি, চুমকি, কুন্দন ইত্যাদি দিয়ে নকশা করা সালোয়ার-কামিজের চাহিদা আছে বেশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের স্বার্থে জনগণকে ‘না’ ভোট দিতে হবে: জিএম কাদের

চরফ্যাশনে জমে ওঠছে ঈদ বাজার

আপডেট সময় : ০৫:১০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

গতবছর পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিকে চরফ্যাশনের ঈদ মার্কেট জমে ওঠলেও এবার ঈদ মার্কেট জমে ওঠতে বেশ সময় লেগেছে। মাসের অর্ধেক শেষে গত দু’ দিন যাবত বেচা বিক্রিতে বিপনী বিতানগুলো সরগম হয়ে ওঠছে। নারী- পুরুষ আবাল বৃদ্ধ বণিতাসহ সকল শ্রেণির ক্রেতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে মার্কেটগুলোতে। তবে ক্রেতা হিসেবে তরণীদের সংখ্যাই বেশি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপছে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে পোশাক ও জুতার দোকানগুলোতে।
গতকাল চরফ্যাশন বাজারের জনতা রোডের বিপনী বিতানগুলোতে গিয়ে দেখা যায় তরুণী ও মধ্য বয়সী নারীদের ভীড় বেশি। তাদের অনেকেই পরিবারের সবার জন্য পোশাক কেনার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে নিজের জন্যই কিনছেন। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে তাদের পছন্দের পোশাক কিনছেন। বয়স্করা নিজেদের তুলনায় শিশুদের জন্যই পোশাক বেশি ক্রয় করছেন।

শিক্ষক বনি আমিন বলেন, মুসলিম ধর্মের সবচেয়ে বড় দুটি উৎসব হচ্ছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। দীর্ঘ ১ মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের দিন নতুন পোশাক পরিধান করে ধর্মপ্রাণ মানুষ। সেজন্য যে যার সাধ্য অনুযায়ী পোশাক কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদ বোনাস দিয়ে চলছে পুরোদমে ঈদের কেনাকাটা।

সামর্থ অনুযায়ী মানুষ পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের কেনাকাটায় মেতে উঠেছেন সবাই। শহরের বড় বড় বিপনী বিতান ও ফুটপাতে মানুষের ঢল। অভিজাত বিপণী বিতান থেকে শুরু করে ফুটপাত, সবখানেই ব্যস্ততা। সারাদিন রোজা রেখেও কেনাকাটায় কোন ক্লান্তির ছাপ নেই রোজাদারদের। ব্যস্ততা, কোলাহল, ভিড় উপেক্ষা করে প্রিয় মানুষটির জন্য মানানসই পোশাকটি খুঁজে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে । বাঙালী নারীদের ঐতিহ্যবাহী অনুসঙ্গ শাড়ি। অনেকে থ্রিপিসের সাথে শাড়ি কিনছে । সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। পোশাক কেনার পাশাপাশি প্রসাধনী, অলংকার, জুতা সেন্ডেল ও দর্জি দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। ঈদের আমেজ যেন ছড়িয়ে পড়েছে সবখানেই। চরফ্যাশন বাজারের সদর রোড, জনতা রোড, মেইন রোড,চক রোড ও বটতলা রোডে ভিড় উপচে পড়ছে। গত বছরের তুলনায় দাম বেশি বলে দাবি করেছেন ক্রেতাদরা। ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে দর কষাকষির শেষে বাড়ি ফেরার পথে সবার হাতেই থাকছে এক বা একাধিক নতুন কাপড়ের শপিং ব্যাগ। মেয়েদের তানাবানা শাড়ি, ঐতিহ্যবাহী কাতান, বালিচুরি, রাজশাহী সিল্ক, জামদানি , ইন্ডিয়ান শাড়ি , পাকিস্তানি থ্রি পিস, ইন্ডিয়ান থ্রিপিস ,সারারা, গারারা, টু পিস, থ্রি পিস, পুষ্পা টু সেকেন্দার, প্রিয়তমা, রাজকুমারসহ বাহারি থ্রিপিস, শাড়ি, গজ কাপড় বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের পাঞ্জাবি, পাজামা, শার্ট প্যান্ট, লুঙ্গি, ফতোয়া বিক্রি হচ্ছে।

চরফ্যাশন উপজেলার মিয়াজানপুর গ্রাম থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন কামরুন নাহার, ঈদের কেনাকাটার বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবার এবং আত্নীয় স্বজনের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। ঈদের দিন পরিবারের সবাইকে নতুন পোশাক পরতে দেখলে ঈদের আনন্দটা বেড়ে যায়। ছোটবেলায় আমাদের বাবা ঈদ উপলক্ষে একটা পোশাক কিনে দিতেন। কিন্তু আমার ছেলেমেয়েদের একাধিক পোশাক কিনে দিতে হয়। এতে নিজের ও ভালো লাগে। তিনি মেয়ের জন্য চারটা থ্রিপিস, ছেলের শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবিসহ পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করেছেন । তবে এবার ঈদে পোশাকের দামটা গত বছরের তুলনায় বেশি বলে তিনি জানান।
উত্তর আইচা থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন রাহাত হালিম তিনি বলেন, ঈদের কেনাকাটা করতে ভালই লাগে। ঈদ মানে আনন্দ, নতুন পোশাকে ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তাই পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কিনেছি।
চরফ্যাশন ফ্যাশন কর্ণধার রাসেল ইসলাম বলেন, এ বছর তরুণীদের পছন্দ পাকিস্তানি থ্রি পিচ, মেয়েদের পোশাকের মধ্যে এবার পাথরের কাজের তুলনায় সূতার কাজের কামিজগুলো ভালো চলছে। এছাড়া জরি, সূতা, পুঁথি, চুমকি, কুন্দন ইত্যাদি দিয়ে নকশা করা সালোয়ার-কামিজের চাহিদা আছে বেশ।