০২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রামুতে ক্ষতিকর তামাক চাষে ঝুঁকছে কৃষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশ থেকে তামাকঘর সারাতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম

Oplus_131072

ক্ষতিকর তামাক চাষে ছেয়ে গেছে রামু। যত্রতত্র পোড়ানো হচ্ছে তামাক। স্কুল-মাদ্রাসার আশে পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য তামাকঘর।

রামু উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে গড়ে উঠা তামাকঘর সারাতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন রামু উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, গর্জনিয়া কচ্ছপিয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে যেসব তামাক পড়ানোর ঘর রয়েছে। সবগুলো আগামী ৭ দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে। না হলে পরিবেশ রক্ষার্থে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ভেঙে ফেলা হবে।

চলতি বছর রামুতে ১৪০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সরেজমিনে দেখা গেছে, রামুর রাজারকুল, কাউয়ারখোপ, মনিরঝিল, মৈষকুম, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়ার নাপিতেরচর ও ফাক্রিকাটা এলাকায় বাঁকখালী নদীর দুই তীরে তামাকের ক্ষেত। এ ছাড়া ফসলি ক্ষেতে এবং পাহাড়ি এলাকায় চাষ বেড়েছে তামাকের।

বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। স্বাস্থ্য ও পরিবেশে ঝুঁকি জেনেও অনেকেই অতিরিক্ত লাভের আশায় তামাক চাষ ছাড়তে পারছে না।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ইতিমধ্যে বেশ কটি বেসরকারি সংস্থা কক্সবাজার জেলায় কাজ করলেও কৃষকের পক্ষ থেকে তামাক চাষ বন্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে অনেকটা বিনা বাধায় স্থানীয় কৃষকদের জিম্মি করে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো প্রতিবছর তামাক চাষে বিনিয়োগ করে আসছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা রামু উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, তামাক কোম্পানিগুলোর ঋণসহায়তার নামে লোভনীয় প্রলোভনের লোভে ফেলে তামাক চাষে বাধ্য করে। দিন দিন তামাক চাষের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। তামাকে অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার প্রয়োগের ফলে নদীদূষণ বেড়েছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র। পাশাপাশি তামাক পোড়ানোর জন্য সংরক্ষিত বন ও ভিটেবাড়ির গাছ কেটে উজাড় করা হচ্ছে।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশীষ কুমার জানিয়েছেন, তামাক চাষ আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। এখন শাক সবজি ও ফলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক কৃষকরা তামাক চাষ ছেড়ে অনেকটা ফসলের দিকে ঝুঁকছে। তামাক পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর একটি উপাদান। তামাক চাষের ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। যে ভূমিতে একবার তামাক চাষ করা হয়, সেখানে অন্য কোন ফসল হয় না। যারা তামাক চাষ করেন, তাদের কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হয় না। কৃষকদের তামাক চাষ থেকে সরে আসতে আমরা নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। এটি অব্যাহত থাকলে তামাক চাষ একেবারে কমে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রামুতে ক্ষতিকর তামাক চাষে ঝুঁকছে কৃষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশ থেকে তামাকঘর সারাতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম

আপডেট সময় : ০৪:১১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫

ক্ষতিকর তামাক চাষে ছেয়ে গেছে রামু। যত্রতত্র পোড়ানো হচ্ছে তামাক। স্কুল-মাদ্রাসার আশে পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য তামাকঘর।

রামু উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে গড়ে উঠা তামাকঘর সারাতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন রামু উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, গর্জনিয়া কচ্ছপিয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে যেসব তামাক পড়ানোর ঘর রয়েছে। সবগুলো আগামী ৭ দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে। না হলে পরিবেশ রক্ষার্থে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ভেঙে ফেলা হবে।

চলতি বছর রামুতে ১৪০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সরেজমিনে দেখা গেছে, রামুর রাজারকুল, কাউয়ারখোপ, মনিরঝিল, মৈষকুম, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়ার নাপিতেরচর ও ফাক্রিকাটা এলাকায় বাঁকখালী নদীর দুই তীরে তামাকের ক্ষেত। এ ছাড়া ফসলি ক্ষেতে এবং পাহাড়ি এলাকায় চাষ বেড়েছে তামাকের।

বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। স্বাস্থ্য ও পরিবেশে ঝুঁকি জেনেও অনেকেই অতিরিক্ত লাভের আশায় তামাক চাষ ছাড়তে পারছে না।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ইতিমধ্যে বেশ কটি বেসরকারি সংস্থা কক্সবাজার জেলায় কাজ করলেও কৃষকের পক্ষ থেকে তামাক চাষ বন্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে অনেকটা বিনা বাধায় স্থানীয় কৃষকদের জিম্মি করে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো প্রতিবছর তামাক চাষে বিনিয়োগ করে আসছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা রামু উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, তামাক কোম্পানিগুলোর ঋণসহায়তার নামে লোভনীয় প্রলোভনের লোভে ফেলে তামাক চাষে বাধ্য করে। দিন দিন তামাক চাষের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। তামাকে অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার প্রয়োগের ফলে নদীদূষণ বেড়েছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র। পাশাপাশি তামাক পোড়ানোর জন্য সংরক্ষিত বন ও ভিটেবাড়ির গাছ কেটে উজাড় করা হচ্ছে।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশীষ কুমার জানিয়েছেন, তামাক চাষ আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। এখন শাক সবজি ও ফলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক কৃষকরা তামাক চাষ ছেড়ে অনেকটা ফসলের দিকে ঝুঁকছে। তামাক পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর একটি উপাদান। তামাক চাষের ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। যে ভূমিতে একবার তামাক চাষ করা হয়, সেখানে অন্য কোন ফসল হয় না। যারা তামাক চাষ করেন, তাদের কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হয় না। কৃষকদের তামাক চাষ থেকে সরে আসতে আমরা নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। এটি অব্যাহত থাকলে তামাক চাষ একেবারে কমে আসবে।