১১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে বাবার ব্যবসা ভোগ করতে হত্যার হুমকি, হাত ভেঙ্গে দিয়েছে ছোট ভাই

বাবার সারের ডিলার শীপ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এককভাবে পেতে স্বাক্ষর না দেওয়ায় বড় ভাইয়ের হাত ভেঙ্গে দিয়েছে ছোট ভাই। থেতলে দেয়া হয়েছে পা। টানা ২৪ দিন জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভূক্তভোগী রুমন সরকার।

রোববার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে প্রেসক্লাব জামালপুর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভূক্তভোগী।

রুমন সরকার বলেন, আমার বাবা জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলা পোগলদিঘা ইউনিয়নের চেঁচিয়াবাধা গ্রামের মরহুম ইদ্রিস আলী সরকার গত বছর মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর তার নামে বিসিআইসির সারের ডিলার শীপ সহ অন্যান্য ব্যবসা একক বাবে ভোগদখল করতে মরিয়া হয়ে উঠে আমার বড় ভাই রুমেল সরকার। বাবার সকল ব্যবসায় আমার কোন অধিকার থাকবে না মর্মে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে চাপ প্রয়োগ করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ।

এই ঘটনার জের ধরে গত ১৮ মার্চ সকাল সাড়ে ১১ টায় আমাকে বড় ভাই রুমেল সরকারের নির্দেশে ছোট ভাই লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আমার বাম হাত ভেঙ্গে দেয়। এছাড়া আমার পায়ের হাঁড়ও ভেঙ্গে গেছে। মারপিটের এক পর্যায়ে আমাকে খুন ও গুম করার চেষ্টা করে। আমি ৯৯৯ লাইনে ফোন করলে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে। পরে তারা প্রথমে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা আমার অবস্থার অবনতি দেখে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানেই টানা ২৪ দিন হাসপাতালের বেডে পড়ে ছিলাম। অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছিনা। ঘটনার দিন পুলিশ আমার উপর হামলাকারী ছোট রাজিক রানাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু আমার পরিবারের লোকজন আপোস মিমাংসার কথা বলে থানায় মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। এরপর থেকে আবারো আমাকে মারপিটের হুমকি দিয়ে আসছে। আমি বর্তমানে স্ত্রী সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ি থানায় একটি সাধারণ অভিযোগ করছি। আমার দুই ভাই আমাকে মিথ্যা মামলা দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমার ধারণা আমাকে তারা হত্যা করে লাশ গুম করতে পারে।

তিনি তার ও স্ত্রী সন্তানের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রাজিক রানা বলেন, আমার বিরুদ্ধে নাটক সাজিয়ে বাবার সম্পদ তার অপকর্ম গোপন করার চেষ্টা করছে। আমি তো বাবার কোথায় কি আছে জানিই না। আমি রাজধানীতে পড়াশোনা করেছি। চাকরি করার ইচ্ছা ছিল। সে আমাকে চাকরি করতে দেয়নি। বিদেশে যাবার জন্য তার কাছে ২ লাখ টাকা রেখেছিলাম। যখন আমার যাবার সবকিছু ঠিকঠাক তখন টাকাটা দেয়নি। দুঃখকষ্টে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আত্বহত্যার চেষ্টা করেছি। ঘটনার দিন আমার সাথে কথা কাটাকাটি ধাক্কাধাকি হয়েছে। তার অভিযোগ মিথ্যা ও নিজের মনগড়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে বাবার ব্যবসা ভোগ করতে হত্যার হুমকি, হাত ভেঙ্গে দিয়েছে ছোট ভাই

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৫

বাবার সারের ডিলার শীপ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এককভাবে পেতে স্বাক্ষর না দেওয়ায় বড় ভাইয়ের হাত ভেঙ্গে দিয়েছে ছোট ভাই। থেতলে দেয়া হয়েছে পা। টানা ২৪ দিন জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভূক্তভোগী রুমন সরকার।

রোববার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে প্রেসক্লাব জামালপুর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভূক্তভোগী।

রুমন সরকার বলেন, আমার বাবা জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলা পোগলদিঘা ইউনিয়নের চেঁচিয়াবাধা গ্রামের মরহুম ইদ্রিস আলী সরকার গত বছর মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর তার নামে বিসিআইসির সারের ডিলার শীপ সহ অন্যান্য ব্যবসা একক বাবে ভোগদখল করতে মরিয়া হয়ে উঠে আমার বড় ভাই রুমেল সরকার। বাবার সকল ব্যবসায় আমার কোন অধিকার থাকবে না মর্মে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে চাপ প্রয়োগ করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ।

এই ঘটনার জের ধরে গত ১৮ মার্চ সকাল সাড়ে ১১ টায় আমাকে বড় ভাই রুমেল সরকারের নির্দেশে ছোট ভাই লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আমার বাম হাত ভেঙ্গে দেয়। এছাড়া আমার পায়ের হাঁড়ও ভেঙ্গে গেছে। মারপিটের এক পর্যায়ে আমাকে খুন ও গুম করার চেষ্টা করে। আমি ৯৯৯ লাইনে ফোন করলে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে। পরে তারা প্রথমে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা আমার অবস্থার অবনতি দেখে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানেই টানা ২৪ দিন হাসপাতালের বেডে পড়ে ছিলাম। অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছিনা। ঘটনার দিন পুলিশ আমার উপর হামলাকারী ছোট রাজিক রানাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু আমার পরিবারের লোকজন আপোস মিমাংসার কথা বলে থানায় মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। এরপর থেকে আবারো আমাকে মারপিটের হুমকি দিয়ে আসছে। আমি বর্তমানে স্ত্রী সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ি থানায় একটি সাধারণ অভিযোগ করছি। আমার দুই ভাই আমাকে মিথ্যা মামলা দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমার ধারণা আমাকে তারা হত্যা করে লাশ গুম করতে পারে।

তিনি তার ও স্ত্রী সন্তানের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রাজিক রানা বলেন, আমার বিরুদ্ধে নাটক সাজিয়ে বাবার সম্পদ তার অপকর্ম গোপন করার চেষ্টা করছে। আমি তো বাবার কোথায় কি আছে জানিই না। আমি রাজধানীতে পড়াশোনা করেছি। চাকরি করার ইচ্ছা ছিল। সে আমাকে চাকরি করতে দেয়নি। বিদেশে যাবার জন্য তার কাছে ২ লাখ টাকা রেখেছিলাম। যখন আমার যাবার সবকিছু ঠিকঠাক তখন টাকাটা দেয়নি। দুঃখকষ্টে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আত্বহত্যার চেষ্টা করেছি। ঘটনার দিন আমার সাথে কথা কাটাকাটি ধাক্কাধাকি হয়েছে। তার অভিযোগ মিথ্যা ও নিজের মনগড়া।