০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ রেখে পালিয়েছে ঠিকাদার।। ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়ায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ বন্ধ রেখে পালিয়েছে ঠিকাদার। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। তবে ঠিকাদারের দাবি, চাইনিজ ওয়্যার সাপ্লাই না থাকায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেনী এলজিডির নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক।

জানাগেছে, ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর- লেমুয়া সংযোগ সেতু ভাঙন দেখা দেয়। এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে বিগত সরকার২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৬৭ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মানের জন্য প্রায় ১৩ কোটি বরাদ্দ দেয়া হয়।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বাবুল এন্টারপ্রাইজ সেতুটির কার্যাদেশ পায়। চলতি অর্থবছরের শুরুতে কাজ চালু করলেও দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে দুপারের মানুষ। কোনমতে কাঠের সাকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে দুই গ্রামের মানুষ।

মামুন ভুঞা নামে এক ব্যবসায়ী জানান, বাজার- সওদা নিয়ে যাতায়াতে সমস্যা হয়। লেমুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাইমারি স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থানীয়রা বারবার ঠিকাদার ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের অবহিত করার পরও কেউ কর্নপাত করেনি।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী কামরুল হাসান নিরব বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার ঝরাজীর্ণ সেতুটি নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারনে মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শিক্ষার্থীসহ জনগনের ভোগান্তি লাগবে দ্রুত সেতুটির নির্মান কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বাবুল চৌধুরী বলেন, সেতুর স্প্যান বানানোর জন্য যে চাইনিজ ওয়্যার লাগে, সেটার সাপ্লাই নেই। ওয়্যার সাপ্লাই না হওয়া পর্যন্ত কাজ শুরু করা যাবেনা।
বিষয়টি এলজিইডি, ফেনী কর্মকর্তাগণ অবগত আছেন। এছাড়া, আগস্টের বন্যায় কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এলজিইডি ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, কার্যাদেশ অনুযায়ী জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। সমস্যার কারনে ঠিকাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ছয় মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ রেখে পালিয়েছে ঠিকাদার।। ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

আপডেট সময় : ০৪:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫

ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়ায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ বন্ধ রেখে পালিয়েছে ঠিকাদার। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। তবে ঠিকাদারের দাবি, চাইনিজ ওয়্যার সাপ্লাই না থাকায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেনী এলজিডির নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক।

জানাগেছে, ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর- লেমুয়া সংযোগ সেতু ভাঙন দেখা দেয়। এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে বিগত সরকার২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৬৭ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মানের জন্য প্রায় ১৩ কোটি বরাদ্দ দেয়া হয়।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বাবুল এন্টারপ্রাইজ সেতুটির কার্যাদেশ পায়। চলতি অর্থবছরের শুরুতে কাজ চালু করলেও দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে দুপারের মানুষ। কোনমতে কাঠের সাকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে দুই গ্রামের মানুষ।

মামুন ভুঞা নামে এক ব্যবসায়ী জানান, বাজার- সওদা নিয়ে যাতায়াতে সমস্যা হয়। লেমুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাইমারি স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থানীয়রা বারবার ঠিকাদার ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের অবহিত করার পরও কেউ কর্নপাত করেনি।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী কামরুল হাসান নিরব বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার ঝরাজীর্ণ সেতুটি নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারনে মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শিক্ষার্থীসহ জনগনের ভোগান্তি লাগবে দ্রুত সেতুটির নির্মান কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বাবুল চৌধুরী বলেন, সেতুর স্প্যান বানানোর জন্য যে চাইনিজ ওয়্যার লাগে, সেটার সাপ্লাই নেই। ওয়্যার সাপ্লাই না হওয়া পর্যন্ত কাজ শুরু করা যাবেনা।
বিষয়টি এলজিইডি, ফেনী কর্মকর্তাগণ অবগত আছেন। এছাড়া, আগস্টের বন্যায় কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এলজিইডি ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, কার্যাদেশ অনুযায়ী জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। সমস্যার কারনে ঠিকাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ছয় মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।