০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রায়গঞ্জে আয়না ঘরের সন্ধান

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আয়না ঘরের সন্ধান মিলেছে উক্ত আয়না ঘর থেকে অক্ষত অবস্থায় শিল্পী খাতুন ও আব্দুর জুব্বার নামে দুইজন মুক্তি পেয়েছেন।

শুক্রবার (২ মে) সকালে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সোনারাম গ্রামে এই ‘আয়নাঘর’ এর সন্ধান পাওয়া যায়। এটি দেখতে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় জমিয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে দীর্ঘ ছয় মাস বন্দি থাকা একই ইউনিয়নের পূর্ব পাইকড়া গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর ছেলে আব্দুল জুব্বার (৭৫) ও লক্ষ্মী বিষ্ণু প্রসাদ গ্রামের মুনসুর আলীর স্ত্রী শিল্পী খাতুন (৪৮) মুক্ত হন। তারা টানা চার-পাঁচদিন ধারালো কাঁচি দিয়ে মেঝে খুঁড়ে একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করে বের হন। এরপর তারা পরিবার-পরিজনকে এ লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন। পরে তারা ঘটনাস্থলে এসে ‘আয়নাঘর’ এর সত্যতা পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

কথিত এই আয়নাঘর থেকে মুক্ত হওয়া ভুক্তভোগী শিল্পী খাতুন বলেন, পাঁচ মাস ধরে বন্দি করে রেখেছে। একমাস অন্য জায়গায় রেখেছিল। তবে কোথায় রেখেছিল জানি না। মাঝে মধ্যে শরীরে ইনজেকশন দিতো তারা।

কারা তাকে বন্দি করেছিল, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি পল্লি চিকিৎসক আরাফাত, শরীফ মেম্বার, কামরুল ইসলাম, হাফিজুল, পান্না এবং আরও তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বন্দি ঘরে তার সাথে আব্দুল জব্বার নামে আরও একজন ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, ওই ভবনের মালিক জহুরুল ইসলামের ছেলে সুমন শেখ। তার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ভবনের নিচে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করে এই ‘আয়না ঘর’ বানিয়েছেন পশ্চিম লক্ষীকোলা গ্রামের রেজাউল করিম তালুকদারের ছেলে পল্লি চিকিৎসক নাজমুল হোসেন আরাফাত। তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগী গভীর রাতে ওই বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন।

এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত পল্লি চিকিৎসক নাজমুল হোসেন আরাফাতের বাড়ি উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।

আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তার ছেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা গত বছরের ৮ নভেম্বর বিকেল ৩টার দিকে নিখোঁজ হন। পরে কোথাও খুঁজে না পেয়ে ১২ নভেম্বর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। তাতেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কিন্তু গভীর রাতে বাবা ওই আয়নাঘর থেকে কৌশলে বের হয়েছেন। তিনি খুব অসুস্থ, আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।

এসময় চক্রের এক সদস্য নাজমুল ইসলাম আরফাত কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়ান্দা বাহিনীর লোকজন তুলে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নিখোঁজ দুই ব্যক্তির পরিবার থেকে অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক হোসেন বলেন, ওটা আসলে আয়নাঘর কি না- সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে আরাফাত নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়গঞ্জে আয়না ঘরের সন্ধান

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আয়না ঘরের সন্ধান মিলেছে উক্ত আয়না ঘর থেকে অক্ষত অবস্থায় শিল্পী খাতুন ও আব্দুর জুব্বার নামে দুইজন মুক্তি পেয়েছেন।

শুক্রবার (২ মে) সকালে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সোনারাম গ্রামে এই ‘আয়নাঘর’ এর সন্ধান পাওয়া যায়। এটি দেখতে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় জমিয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে দীর্ঘ ছয় মাস বন্দি থাকা একই ইউনিয়নের পূর্ব পাইকড়া গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর ছেলে আব্দুল জুব্বার (৭৫) ও লক্ষ্মী বিষ্ণু প্রসাদ গ্রামের মুনসুর আলীর স্ত্রী শিল্পী খাতুন (৪৮) মুক্ত হন। তারা টানা চার-পাঁচদিন ধারালো কাঁচি দিয়ে মেঝে খুঁড়ে একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করে বের হন। এরপর তারা পরিবার-পরিজনকে এ লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন। পরে তারা ঘটনাস্থলে এসে ‘আয়নাঘর’ এর সত্যতা পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

কথিত এই আয়নাঘর থেকে মুক্ত হওয়া ভুক্তভোগী শিল্পী খাতুন বলেন, পাঁচ মাস ধরে বন্দি করে রেখেছে। একমাস অন্য জায়গায় রেখেছিল। তবে কোথায় রেখেছিল জানি না। মাঝে মধ্যে শরীরে ইনজেকশন দিতো তারা।

কারা তাকে বন্দি করেছিল, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি পল্লি চিকিৎসক আরাফাত, শরীফ মেম্বার, কামরুল ইসলাম, হাফিজুল, পান্না এবং আরও তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বন্দি ঘরে তার সাথে আব্দুল জব্বার নামে আরও একজন ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, ওই ভবনের মালিক জহুরুল ইসলামের ছেলে সুমন শেখ। তার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ভবনের নিচে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করে এই ‘আয়না ঘর’ বানিয়েছেন পশ্চিম লক্ষীকোলা গ্রামের রেজাউল করিম তালুকদারের ছেলে পল্লি চিকিৎসক নাজমুল হোসেন আরাফাত। তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগী গভীর রাতে ওই বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন।

এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত পল্লি চিকিৎসক নাজমুল হোসেন আরাফাতের বাড়ি উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।

আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তার ছেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা গত বছরের ৮ নভেম্বর বিকেল ৩টার দিকে নিখোঁজ হন। পরে কোথাও খুঁজে না পেয়ে ১২ নভেম্বর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। তাতেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কিন্তু গভীর রাতে বাবা ওই আয়নাঘর থেকে কৌশলে বের হয়েছেন। তিনি খুব অসুস্থ, আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।

এসময় চক্রের এক সদস্য নাজমুল ইসলাম আরফাত কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়ান্দা বাহিনীর লোকজন তুলে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নিখোঁজ দুই ব্যক্তির পরিবার থেকে অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক হোসেন বলেন, ওটা আসলে আয়নাঘর কি না- সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে আরাফাত নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।