০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কক্সবাজারে উপজেলা পরিষদ শেখ রাসেল শিশু পার্ক

নেই শিশুদের খেলার পরিবেশ

কক্সবাজার সদর উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের অভ্যন্তরে এক ‘অদ্ভুত’ শিশু পার্কের দেখা মিলেছে। নাম উপজেলা পরিষদ শেখ রাসেল শিশু পার্ক। তবে সেখানে নেই কোনো শিশু, নেই কোলাহল, নেই খেলা। আছে মাত্র তিনটি খেলনা—আর প্রকল্প ব্যয়? ১০ লক্ষ টাকা!
সরকারি অর্থে নির্মিত এই ‘নীরব’ শিশু পার্ক এখন শহরের চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রে। অনেকেই বলছেন, “শিশুদের জন্য নাকি পার্ক, কিন্তু সেখানে ঢোকা তো দূরের কথা—শিশুদের ছায়াও পড়ে না!”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ (উপজেলা উন্নয়ন সহায়ক তহবিল) এর বাস্তবায়নে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের ২০২৪ সালের ৭ মার্চ কাজ শুরু হয়। মাত্র ৮ দিনের মাথায়, অর্থাৎ ১৫ মার্চ কাজ শেষ দেখিয়ে পুরো টাকা ছাড় করা হয়। এত অল্প সময়ে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের খবর শুনে কেউ কেউ রসিকতা করে বলছেন, “এতো দ্রুত তো রকেটও গন্তব্যে পৌঁছায় না!”
এলজিআরডি’র তথ্য সূত্রে জানা যায়, পার্কে থাকার কথা ছিল— উন্নতমানের ১টি জাম্পার, ১টি স্লাইডার, ১টি গো-রাউন্ড, চারপাশে ওয়াল বান্ডিয়ারি ও গ্রিল।
কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১টি প্লাস্টিকের সস্তা জাম্পার, ১টি ছোট স্লাইডার, ২টি স্টিলের দোলনা।
এর বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা। কিন্তু বিল উঠেছে ১০ লক্ষ টাকা। প্রশ্ন উঠেছে—বাকি টাকা গেল কোথায়?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা কর্মকর্তা বলেন, “যে ওয়াল বান্ডিয়ারি ও গ্রিল দেখানো হয়েছে, সেটা অনেক আগে থেকেই ছিল। নতুন করে কিছুই হয়নি। মনে হচ্ছে তৎকালীন ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যান বুঝে-শুনে খেলেছেন বাজেটের সাথে। শিশু তো খেলতে পারেনি, বাজেটই একমাত্র খেলেছে!”
তিনি আরও বলেন, “আমি বহু বছর ধরে উপজেলা অফিসে আছি, এই পার্কে কোনো শিশুকে খেলতে দেখিনি। সরকারি টাকায় এমন অব্যবহারযোগ্য প্রকল্প নিছক অপচয় ছাড়া কিছু নয়।”
স্থানীয় নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি উপযুক্ত শিশু পার্কের দাবি ছিল বহুদিনের। সৈকতের কবিতা চত্বরে এর জায়গাও নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন না করে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে এক প্রকার গোপন পার্ক বানিয়ে ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে দিলো!”তারা আরও বলেন, “এটা কি শিশুদের জন্য, না বিশেষ কিছু লোকজনের জন্য?”
বর্তমান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফা ইয়াসমিন বলেন, “এটা আমার পূর্ববর্তী ইউএনও মহোদয়ের সময়ের প্রকল্প। আমি মন্তব্য করতে পারছি না।”
এমআর/সব

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে উপজেলা পরিষদ শেখ রাসেল শিশু পার্ক

নেই শিশুদের খেলার পরিবেশ

আপডেট সময় : ০৫:৪২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

কক্সবাজার সদর উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের অভ্যন্তরে এক ‘অদ্ভুত’ শিশু পার্কের দেখা মিলেছে। নাম উপজেলা পরিষদ শেখ রাসেল শিশু পার্ক। তবে সেখানে নেই কোনো শিশু, নেই কোলাহল, নেই খেলা। আছে মাত্র তিনটি খেলনা—আর প্রকল্প ব্যয়? ১০ লক্ষ টাকা!
সরকারি অর্থে নির্মিত এই ‘নীরব’ শিশু পার্ক এখন শহরের চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রে। অনেকেই বলছেন, “শিশুদের জন্য নাকি পার্ক, কিন্তু সেখানে ঢোকা তো দূরের কথা—শিশুদের ছায়াও পড়ে না!”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ (উপজেলা উন্নয়ন সহায়ক তহবিল) এর বাস্তবায়নে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের ২০২৪ সালের ৭ মার্চ কাজ শুরু হয়। মাত্র ৮ দিনের মাথায়, অর্থাৎ ১৫ মার্চ কাজ শেষ দেখিয়ে পুরো টাকা ছাড় করা হয়। এত অল্প সময়ে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের খবর শুনে কেউ কেউ রসিকতা করে বলছেন, “এতো দ্রুত তো রকেটও গন্তব্যে পৌঁছায় না!”
এলজিআরডি’র তথ্য সূত্রে জানা যায়, পার্কে থাকার কথা ছিল— উন্নতমানের ১টি জাম্পার, ১টি স্লাইডার, ১টি গো-রাউন্ড, চারপাশে ওয়াল বান্ডিয়ারি ও গ্রিল।
কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১টি প্লাস্টিকের সস্তা জাম্পার, ১টি ছোট স্লাইডার, ২টি স্টিলের দোলনা।
এর বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা। কিন্তু বিল উঠেছে ১০ লক্ষ টাকা। প্রশ্ন উঠেছে—বাকি টাকা গেল কোথায়?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা কর্মকর্তা বলেন, “যে ওয়াল বান্ডিয়ারি ও গ্রিল দেখানো হয়েছে, সেটা অনেক আগে থেকেই ছিল। নতুন করে কিছুই হয়নি। মনে হচ্ছে তৎকালীন ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যান বুঝে-শুনে খেলেছেন বাজেটের সাথে। শিশু তো খেলতে পারেনি, বাজেটই একমাত্র খেলেছে!”
তিনি আরও বলেন, “আমি বহু বছর ধরে উপজেলা অফিসে আছি, এই পার্কে কোনো শিশুকে খেলতে দেখিনি। সরকারি টাকায় এমন অব্যবহারযোগ্য প্রকল্প নিছক অপচয় ছাড়া কিছু নয়।”
স্থানীয় নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি উপযুক্ত শিশু পার্কের দাবি ছিল বহুদিনের। সৈকতের কবিতা চত্বরে এর জায়গাও নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন না করে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে এক প্রকার গোপন পার্ক বানিয়ে ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে দিলো!”তারা আরও বলেন, “এটা কি শিশুদের জন্য, না বিশেষ কিছু লোকজনের জন্য?”
বর্তমান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফা ইয়াসমিন বলেন, “এটা আমার পূর্ববর্তী ইউএনও মহোদয়ের সময়ের প্রকল্প। আমি মন্তব্য করতে পারছি না।”
এমআর/সব