ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড কেন্দ্র করে উত্তাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। তবে, নিয়োগ বন্ধে বিভাগীয় সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে অপহরণের অভিযোগে ওঠে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে। তবে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিভাগীয় সভাপতিকে হাজির করেন ছাত্রদল আহবায়ক।
জানা যায়, এদিন সকাল ১০ টায় টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ বোর্ড শুরু হওয়ার কথা ছিলো। পাশাপাশি সকাল ১১ টায় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন শাপলা ফোরামের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন চলছিলো। এরইমাঝে টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে অপহরণ করা হয়েছে বলে খবর আসে। অভিযোগ করা হয়, নিয়োগ বোর্ড থাকায় সকাল ৮ টায় ঝিনাইদহে নিজ বাসভবন থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে বের হলে বিভাগীয় সভাপতিকে একটি মোটরবাইকে তুলে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অপহরণের অভিযোগটি সামনে আসলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে বিভাগীয় শিক্ষার্থী, শাখা ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিবিএ অনুষদ প্রদক্ষিণ করে মেইন গেটে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করে। এরপর প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এসময় তারা নিয়োগ নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না; চাঁদাবাজির রাজনীতি, চলবে না; অপহরণের রাজনীতি চলবে না না; নিয়োগ বাণিজ্যের রাজনীতি, চলবে না চলবে না; শিক্ষক কেন অপহরণ ,প্রশাসন জবাব চাই; ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা; কন্ঠে আবার লাগা জোর, চাঁদাবাজদের কবর খোড়; আদু ভাই দেইখে যা, রাজপথে তোর বাপেরা; অপহরক অপহরক, আদু ভাই আদু ভাই; আদু ভাইয়ের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট একশনসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন ।
এদিকে অপহরণের অভিযোগের ব্যাপারে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে নিজের অবস্থান জানান৷ তিনি বলেন, সকালে THM বিভাগের সন্মানিত চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জুয়েল নিরাপত্তাহীনতায় থাকায় আমাকে সকালে ফোন দিয়েছিল এবং আমি নিজে স্বশরীরে গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসি। সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েল আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত ছোট ভাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং রেজিস্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তারা ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে হুমকি ধামকি দিয়েছে এবং গত সোমবার প্রক্টরের নির্দেশে টুরিজম বিভাগে গুটিকয়েক লোক পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করে তাদের ৪ জন শিক্ষককে জোর পূর্বক মারধর হুমকি দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্ল্যানিং করেছে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। ৪ জন শিক্ষককে প্রাননাশের হুমকি এবং সিসি ক্যামেরা ফুটেজ জোর পূর্বক ডিলিট করা হয়েছে। গতকাল এবং আজ প্রক্টর তাকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এজন্য নিরাপত্তার সার্থে জুয়েল আমার কাছে ছিলো। জুয়েল এই মূহুর্তে তাঁর নিজ বাসা ঝিনাইদহে অবস্থান করছে।
এই পোস্টের কিছুক্ষণ পরেই ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ ফেসবুক লাইভে আসেন। এসময় তিনি বিভাগের সেই সভাপতি শরিফুল ইসলাম জুয়েল কে উপস্থাপন করেন। এসময় লাইভে নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও প্রক্টরের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম জনি, রয়েল হক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের ড্রাইভার ও সভাপতি জুয়েলের ছোট ভাই কে দেখা যায়।
অপহরণের বিষয়ে বিভাগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম জুয়েল ফেসবুক লাইভে বলেন, আমি বাসায় আছি এবং নিরাপদে আছি। আমার নিরাপত্তাহীনতার জন্য সকাল ৯ টায় সাহেদ ভাই আমাকে আমার বাসায় দিয়ে যায়। আমি কোনরকম অপহরণের শিকার হই নাই। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার কর্মীরাও আছে। গত পরশুদিন বিভাগে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটেছিল। সেই থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম। এখন নিরাপদে আছি।
বিভাগের সভাপতির কথা বলা শেষে লাইভে আবারও ছাত্রদলের আহবায়ক বলেন, ‘আপনারা অনর্থক কোনো ব্লেম গেম খেলবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে গত পরশু চারজন শিক্ষককে জিম্মি করে হুমকি ধামকি দিয়ে প্ল্যানিং করেছে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। আমি ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের নির্দেশে এসব ঘটেছে। চেয়ারম্যান আমার দীর্ঘদিনের কাছের ছোটভাই। সকালে আমাকে ফোন দিয়েছিল, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। প্রক্টর এবং রেজিস্ট্রার তাকে হুমকিধামকি দেয়, যদি না যায় তবে চাকরি খেয়ে দিবে শোকজ করবে। প্রক্টর নিজে নির্দেশ দিয়ে এটা করেছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমাদের দুজন সিকিউরিটি অফিসারকে তার বাড়িতে পাঠানো হয় এবং সে তখন নিজ বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে আমাদের প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তাকে হুমকি দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে, গত ৩ দিনে তার (বিভাগের সভাপতি জুয়েল) সাথে কোন যোগাযোগ ই হয়নি বলে জানান তিনি।
এদিকে উক্ত বিভাগের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সুস্থভাবে না ফেরা অব্দি শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিভাগীয় সভাপতিকে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের গেটে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা ও ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বিভাগের সভাপতি জুয়েল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ডিবি অফিসেই আছেন।
শু/সবা

























