০৪:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কূটনৈতিক সমাধানের দিকে তাকিয়ে বিশ্ব

  • ফ্রান্স-জার্মানি-ব্রিটেন-ইইউ’র সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান
  • ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করেছে : জাতিসংঘে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের মানুষদের আনন্দিত করেছে : খামেনি
  • তেহরানে হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে : ইরান
  • ইরানের সরকারি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার : ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখুন : হোয়াইট হাউস

ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে পারমাণবিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশ্ব কূটনৈতিক সমাধানের আশায় তাকিয়ে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বে ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করছে। এর আগে জেনেভায় ইউরোপীয় কূটনীতিকদের প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রান্স ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইরানকে একটি কূটনৈতিক প্রস্তাব দেবে যাতে সংঘাতের অবসান ঘটে। ইরানের প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ইসরায়েলের নিঃশর্ত আগ্রাসন বন্ধ না হলে সংঘাত বন্ধ অসম্ভব।’ এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় হামলা আরও জোরদার করা হয়েছে। ইরান দাবি করছে, একাধিক হাসপাতালে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা খামেনি বলেছেন, ‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের মানুষদের আনন্দিত করেছে।’ হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখুন।’ যুদ্ধের এই সংকটময় সময়েও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই স্থায়ী শান্তির প্রত্যাশা করছে।
নিজেদের পরমাণু প্রকল্প এবং ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত ঠেকাতে ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। গতকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত এর কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এ বৈঠকে থাকবেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেন-নোয়েল ব্যারট, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল, ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান কাজা কালাস। ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে অভিযোগ তুলে গত ১৩ জুন থেকে দেশটিতে বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। হামলায় ইতোমধ্যে ইরানের বেশ কয়েকজন প্রথম সারির সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী ও পরমাণু প্রকল্পের প্রধানসহ নিহত হয়েছেন ৬ শতাধিক মানুষ।
এদিকে জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন যুক্তরাজ্য, ইইউ, ফ্রান্স এবং জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে কথা বলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। গতকাল শুক্রবার প্যারিসের ঠিক বাইরে লে বোর্গেটে সাংবাদিকদের ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘ইরানকে দেখাতে হবে যে তারা আলোচনার টেবিলে যোগ দিতে ইচ্ছুক।’
এদিকে জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে বক্তব্য শুরু করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর ইসরায়েলের হামলা ‘নিকৃষ্ট যুদ্ধাপরাধ’। ইসরায়েল ইরানের ওপর বিনা উস্কানিতে আগ্রাসন শুরু করেছে, যা জাতিসংঘ সনদের অনুচ্ছেদ ২, অনুচ্ছেদ ৪ এর সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। তিনি বলেন, তেজস্ক্রিয় পদার্থের লিকেজ থেকে পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকলেও, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলের আক্রমণ গুরুতর যুদ্ধাপরাধ। চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাঝামাঝি আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছিল।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইসরায়েলের আগ্রাসন নিঃশর্তভাবে বন্ধ করাই এ সংঘাত বন্ধের একমাত্র উপায়। গতকাল শুক্রবার এক্স-এ দেয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমরা সব সময় শান্তি ও স্থিতিশীলতা চেয়েছি। চলমান চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অবসানের একমাত্র পথ হলো শত্রুর আগ্রাসন নিঃশর্তভাবে বন্ধ করা এবং জায়নিস্ট সন্ত্রাসীদের দুঃসাহসিক তৎপরতা চিরতরে বন্ধের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। ওই ভিডিওর শুরুতেই দেখানো হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলা ও লোকজনের ওপর চালানো সহিংসতার দৃশ্য। এরপর ভিডিওতে দেখানো হয়, ইসরাইলের ওপর ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মানুষের উল্লাস এবং সেসব ক্ষেপণাস্ত্রের ফলে ইসরাইলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে-এমন ক্ষেপণাস্ত্র যা বিশ্বের সম্মানিত ও মর্যাদাবান মানুষদের আনন্দ দিয়েছে।
অন্যদিকে তেহরানের একটি হাসপাতালে আবারও ইসরায়েলি বোমা হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধানের বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এটা তৃতীয় হাসপাতাল, যা ইসরায়েলি হামলার শিকার হলো। হামলায় ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নির্মম হামলার শিকার হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, সাত দিনের কাপুরুষোচিত আগ্রাসনে ইসরায়েল ছয়টির বেশি আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
এছাড়া ইরানের ‘শাসন ব্যবস্থার প্রতীক’ হিসেবে চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এসব হামলার উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরান সরকারকে দুর্বল করে ফেলা। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য ইসরায়েলের যুদ্ধনীতিতে একটি স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরমাণু কর্মসূচির ওপর সীমিত হামলা থেকে এখন ইরান সরকারকে অস্থিতিশীল করার কৌশলের দিকে যাচ্ছে দেশটি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়ার কথা বলা হলে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার নেতৃত্বে আমেরিকা ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ অর্জন করেছিল, যা বিশ্বকে নিরাপদ রেখেছিল।
অন্যদিকে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে নাক গলানোর ব্যাপারে লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন হুমকির তোয়াক্কা না করে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে হিজবুল্লাহর বর্তমান নেতা শেখ নাইম কাসেম বলেছেন, ইরানে যা চলছে, সেটা ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের মিলিত বর্বর আগ্রাসন ছাড়া কিছু নয়। এখানে তারা নিরপেক্ষ থাকবে না। তারা নিজেদের বিবেচনা অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

কূটনৈতিক সমাধানের দিকে তাকিয়ে বিশ্ব

আপডেট সময় : ০৮:২৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
  • ফ্রান্স-জার্মানি-ব্রিটেন-ইইউ’র সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান
  • ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করেছে : জাতিসংঘে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের মানুষদের আনন্দিত করেছে : খামেনি
  • তেহরানে হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে : ইরান
  • ইরানের সরকারি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার : ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখুন : হোয়াইট হাউস

ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে পারমাণবিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশ্ব কূটনৈতিক সমাধানের আশায় তাকিয়ে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বে ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করছে। এর আগে জেনেভায় ইউরোপীয় কূটনীতিকদের প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রান্স ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইরানকে একটি কূটনৈতিক প্রস্তাব দেবে যাতে সংঘাতের অবসান ঘটে। ইরানের প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ইসরায়েলের নিঃশর্ত আগ্রাসন বন্ধ না হলে সংঘাত বন্ধ অসম্ভব।’ এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় হামলা আরও জোরদার করা হয়েছে। ইরান দাবি করছে, একাধিক হাসপাতালে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা খামেনি বলেছেন, ‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের মানুষদের আনন্দিত করেছে।’ হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখুন।’ যুদ্ধের এই সংকটময় সময়েও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই স্থায়ী শান্তির প্রত্যাশা করছে।
নিজেদের পরমাণু প্রকল্প এবং ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত ঠেকাতে ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। গতকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত এর কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এ বৈঠকে থাকবেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেন-নোয়েল ব্যারট, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল, ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান কাজা কালাস। ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে অভিযোগ তুলে গত ১৩ জুন থেকে দেশটিতে বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। হামলায় ইতোমধ্যে ইরানের বেশ কয়েকজন প্রথম সারির সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী ও পরমাণু প্রকল্পের প্রধানসহ নিহত হয়েছেন ৬ শতাধিক মানুষ।
এদিকে জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন যুক্তরাজ্য, ইইউ, ফ্রান্স এবং জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে কথা বলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। গতকাল শুক্রবার প্যারিসের ঠিক বাইরে লে বোর্গেটে সাংবাদিকদের ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘ইরানকে দেখাতে হবে যে তারা আলোচনার টেবিলে যোগ দিতে ইচ্ছুক।’
এদিকে জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে বক্তব্য শুরু করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর ইসরায়েলের হামলা ‘নিকৃষ্ট যুদ্ধাপরাধ’। ইসরায়েল ইরানের ওপর বিনা উস্কানিতে আগ্রাসন শুরু করেছে, যা জাতিসংঘ সনদের অনুচ্ছেদ ২, অনুচ্ছেদ ৪ এর সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। তিনি বলেন, তেজস্ক্রিয় পদার্থের লিকেজ থেকে পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকলেও, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলের আক্রমণ গুরুতর যুদ্ধাপরাধ। চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাঝামাঝি আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছিল।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইসরায়েলের আগ্রাসন নিঃশর্তভাবে বন্ধ করাই এ সংঘাত বন্ধের একমাত্র উপায়। গতকাল শুক্রবার এক্স-এ দেয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমরা সব সময় শান্তি ও স্থিতিশীলতা চেয়েছি। চলমান চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অবসানের একমাত্র পথ হলো শত্রুর আগ্রাসন নিঃশর্তভাবে বন্ধ করা এবং জায়নিস্ট সন্ত্রাসীদের দুঃসাহসিক তৎপরতা চিরতরে বন্ধের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। ওই ভিডিওর শুরুতেই দেখানো হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলা ও লোকজনের ওপর চালানো সহিংসতার দৃশ্য। এরপর ভিডিওতে দেখানো হয়, ইসরাইলের ওপর ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মানুষের উল্লাস এবং সেসব ক্ষেপণাস্ত্রের ফলে ইসরাইলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে-এমন ক্ষেপণাস্ত্র যা বিশ্বের সম্মানিত ও মর্যাদাবান মানুষদের আনন্দ দিয়েছে।
অন্যদিকে তেহরানের একটি হাসপাতালে আবারও ইসরায়েলি বোমা হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধানের বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এটা তৃতীয় হাসপাতাল, যা ইসরায়েলি হামলার শিকার হলো। হামলায় ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নির্মম হামলার শিকার হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, সাত দিনের কাপুরুষোচিত আগ্রাসনে ইসরায়েল ছয়টির বেশি আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
এছাড়া ইরানের ‘শাসন ব্যবস্থার প্রতীক’ হিসেবে চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এসব হামলার উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরান সরকারকে দুর্বল করে ফেলা। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য ইসরায়েলের যুদ্ধনীতিতে একটি স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরমাণু কর্মসূচির ওপর সীমিত হামলা থেকে এখন ইরান সরকারকে অস্থিতিশীল করার কৌশলের দিকে যাচ্ছে দেশটি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়ার কথা বলা হলে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার নেতৃত্বে আমেরিকা ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ অর্জন করেছিল, যা বিশ্বকে নিরাপদ রেখেছিল।
অন্যদিকে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে নাক গলানোর ব্যাপারে লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন হুমকির তোয়াক্কা না করে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে হিজবুল্লাহর বর্তমান নেতা শেখ নাইম কাসেম বলেছেন, ইরানে যা চলছে, সেটা ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের মিলিত বর্বর আগ্রাসন ছাড়া কিছু নয়। এখানে তারা নিরপেক্ষ থাকবে না। তারা নিজেদের বিবেচনা অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।