গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী এক নারী ধর্মান্তরিত হয়ে এক মুসলমান যুবককে বিয়ে করার কারণে তার ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন এলাকার হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের কিছু লোকজন। এই অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গোপালগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ের হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ওই অনামিকা লাকি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, আমার প্রয়াত স্বামী অসীম কুমার সাহা গত ৫ বছর পূর্বে কিডনি ও ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। দুটি নাবালিকা মেয়েসহ সেখান থেকে শুরু হয় আমার জীবনযুদ্ধ। সম্পত্তির লোভে আমার ভাশুর-দেবররা অত্যাচার চালান আমার উপর। আমার নামে কুৎসা রটনাসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করতে থাকেন তারা। এদিকে আমার বড় কন্যা লাবণ্য সাহা অপ্রাপ্ত বয়সে একটি বখাটে ছেলের প্রেমে পড়ে দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে সন্তান সম্ভাব্য দেখা দিলে আমি তাকে মারধর করতে উদ্যত হলে আমাকে উল্টো তার প্রেমিকসহ শারীরিক ও মানসিক ভাবে অত্যাচার করতে থাকে। আমার দেবর-ভাশুরসহ মেয়ে ও তার প্রেমিকের কারসাজিতে ২০২৩ সালে আমার দোকান থেকে ৩০ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এই ব্যাপারে টুঙ্গিপাড়া থানায় ডায়েরি করা আছে। আমি নিঃস্ব অবস্থায় মহাজনের কাছ থেকে স্বর্ণ বাকি নিয়ে আবারো কঠোর পরিশ্রম করতে থাকি। কিন্তু আমার মেয়ে লাবণ্য সাহা ২০২৪ সালে রাতের অন্ধকারে দোকানে রাখা ১২ ভরি স্বর্ণালংকারসহ নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে ঐ কুলাঙ্গার গৌরব সাহার সাথে পালিয়ে যায়। আমি আবারও আমার স্বামীর রেখে যাওয়া অর্থ হারিয়ে ফেলি। আমার পূর্ব হতেই ইসলাম ধর্মের প্রতি টান ছিল। ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে আমি স্নাতক লাভ করি। গত ৪ মে আমি এফিডেফিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করি এবং মুসলমান একজনকে বিয়ে করি। এটাই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। আমাকে রাতের অন্ধকারে এক কাপড়ে আমার ভাশুর বিনয় সাহা, সঞ্জিত সাহা, গৌতম সাহাসহ বাজার কমিটির সভাপতির প্রত্যক্ষ নির্দেশে আমার অবাধ্য বড় মেয়ে ও তার স্বামীকে দিয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া করে। আমি আমার ছোট নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে স্বামীর কাছে গিয়ে ঠাঁই নিলে এদিকে তাহারা সবাই মিলে আমার বসতঘরের তালা ভেঙ্গে আমার অবাধ্য মেয়ে জামাইকে ঘরে তুলে দেন। আমার সম্পা জুয়েলার্স, পাটগাতী, টুঙ্গিপাড়া দোকানে ওরা ওভার তালা লাগিয়ে দেন। আমাকে পাটগাতি বাজারে গেলে হত্যার হুমকি দেন। আমি প্রাণ ভয়ে বাজারে যেতে পারছি না। এ দিকে আমার দোকানে যারা গহনার অর্ডার দিয়েছিল তাদের গয়না দোকানের সিন্দুকে রাখা বিধায় দিতে পারছি না। কাস্টমার হুমকি প্রদর্শন করছেন। এখন আমার বেঁচে থাকা দায়। আমার পরনের কাপড়-চোপড় পর্যন্ত আনতে দিচ্ছেন না। মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করাটা কি আমার অন্যায় হয়েছে আমার কি ধর্মান্তরের স্বাধীনতা নেই আমার কি বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।
শিরোনাম
সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি
ধর্মান্তর, বিয়ে ও সম্পত্তি নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
-
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি - আপডেট সময় : ০৯:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
- ।
- 207
জনপ্রিয় সংবাদ
























