০৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় বাদীর বাড়ীতে হামলায় আহত ৫

নিরাপত্তাহীনতায় বাদীপক্ষ

জামালপুরের ইসলামপুরে ধর্ষণ মামলায় বাদীর বাড়ীতে হামলায় ৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০ টায় গুরুত্বর আহত অবস্থায় ৪ জন জামালপুর ২৫০ শয্যা জেলারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতরা হলেন ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ভাটিপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মোমেন এর ছেলে ইসলামপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের অবসর প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক (৭০), তার ছেলে আল আমিন (৩৫), আরেক ছেলে মাহমুদুল হাসান (২৮) ও মেয়ে মাসুদা আক্তার (৩২)।
হাসপাতাল সূত্রে ও সরোজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১ জানুয়ারী ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ভাটিপাড়া এলাকার মাহমুদুল হাসানের ২০ বছর বয়সী বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বোনকে কে বা কাহারা অপহরণ করে। পরেরদিন মেয়ের বাবা আব্দুল মালেক বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। খোঁজ পেয়ে পার্শ্ববর্তী মেলান্দহ উপজেলার মেলান্দহ বাজারের শাপলা মার্কেট এলাকায় বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে মেয়েকে উদ্ধার করে আনলে প্রতিবন্ধী মেয়ের ইশারা ইঙ্গিতে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এদিকে ধর্ষণের বিষয়টি ডাক্তারী পরীক্ষা নিরীক্ষায় সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারী মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ২০০০ সনের সংশোধিত ২০২০ সনের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯(১) ৩০ ধারায় অজ্ঞাত আসামী দিয়ে মামলা দায়ের করে। এই ঘটনাটি বেশ আলোচিত হলে পুলিশ তদন্ত করে ১৯ ফেব্রুয়ারী একই এলাকার আবুল কালামের ছেলে মো. সবুজ (২১) ও গত ১১ জুন আব্দুল গফুরের ছেলে মুজাহিদুল (২৮) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে।
এদিকে ২৫ জুন ধর্ষণ মামলায় তাদের জামিন আবেদন আদালত না মঞ্জুর করায় মুজাহিদুল ও মো. সবুজ এর পরিবারের লোকজন গিয়ে বাসার গেট ভেংগে ধর্ষণ মামলার বাদী মাহমুদুল হাসানের বাড়ীতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৫ জনকে আহত করে এবং ঘরে থাকা আসবাব পত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় । এতে মাহমুদুল হাসানের স্ত্রী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও ৪ জনের অবস্থা অবনতি দেখে ইসলামপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। পরদিন মো. আব্দুল মালেকের ছেলে মো. আতিকুল্লাহ বাদী হয়ে ১৮৬০ পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৪২৭/ ৫০৬(২)/১১৪/৩৪ ধারায় প্রতিবেশী ইলিয়াস মো. সজিব, মো. মোখলেছুর রহমান, আবু সামাদ, মো. আব্দুল মোতালেব, হাফিজুর , রমজান, কালু, কমলা বেগম, বানেছা বেগম, খাদিজা বেগম, মো. মোস্তফা, আবু কালাম ,মো. শাহীন, মোছা. শাপলা, কবিতা, ফাহিমা, ফুলেছা বেগম, মর্জিনা বেগম এর নাম উল্লেখ্য করে আরো ৩/৪জনকে অজ্ঞাত আসামী করে ইসলামপুর থানায় মামলা দায়ের করে।
এদিকে ঘটনার পর পরই আবু সামাদ, কমলা বেগম, খাদিজা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে গত ২৬ জুন আদালতে প্রেরণ করেন। অন্যান্য আসামীরা এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও ইসলামপুর থানা পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না।
এবিষয়ে ধর্ষণ মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান জানান, আমার বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বোনকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে প্রতিবেশী মোতালেব রাতভর গণধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেছে । পরে থানা পুলিশ তাদের তদন্তে ২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কিনা পুলিশের পাশাপাশি বিচারের স্বার্থে জামালপুর ডিবি পুলিশ ও র‍্যাবের ছায়া তদন্তের দাবী জানাই।
এ বিষয়ে বার বার বিবাদীদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি তারা৷
তবে ইসলামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ আসম আতিকুর রহমান মুঠোফোনে জানান, ঘটনার পরেই অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আসামীদের তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় বাদীর বাড়ীতে হামলায় আহত ৫

আপডেট সময় : ০৬:৫০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

জামালপুরের ইসলামপুরে ধর্ষণ মামলায় বাদীর বাড়ীতে হামলায় ৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০ টায় গুরুত্বর আহত অবস্থায় ৪ জন জামালপুর ২৫০ শয্যা জেলারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতরা হলেন ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ভাটিপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মোমেন এর ছেলে ইসলামপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের অবসর প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক (৭০), তার ছেলে আল আমিন (৩৫), আরেক ছেলে মাহমুদুল হাসান (২৮) ও মেয়ে মাসুদা আক্তার (৩২)।
হাসপাতাল সূত্রে ও সরোজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১ জানুয়ারী ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ভাটিপাড়া এলাকার মাহমুদুল হাসানের ২০ বছর বয়সী বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বোনকে কে বা কাহারা অপহরণ করে। পরেরদিন মেয়ের বাবা আব্দুল মালেক বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। খোঁজ পেয়ে পার্শ্ববর্তী মেলান্দহ উপজেলার মেলান্দহ বাজারের শাপলা মার্কেট এলাকায় বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে মেয়েকে উদ্ধার করে আনলে প্রতিবন্ধী মেয়ের ইশারা ইঙ্গিতে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এদিকে ধর্ষণের বিষয়টি ডাক্তারী পরীক্ষা নিরীক্ষায় সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারী মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ২০০০ সনের সংশোধিত ২০২০ সনের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯(১) ৩০ ধারায় অজ্ঞাত আসামী দিয়ে মামলা দায়ের করে। এই ঘটনাটি বেশ আলোচিত হলে পুলিশ তদন্ত করে ১৯ ফেব্রুয়ারী একই এলাকার আবুল কালামের ছেলে মো. সবুজ (২১) ও গত ১১ জুন আব্দুল গফুরের ছেলে মুজাহিদুল (২৮) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে।
এদিকে ২৫ জুন ধর্ষণ মামলায় তাদের জামিন আবেদন আদালত না মঞ্জুর করায় মুজাহিদুল ও মো. সবুজ এর পরিবারের লোকজন গিয়ে বাসার গেট ভেংগে ধর্ষণ মামলার বাদী মাহমুদুল হাসানের বাড়ীতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৫ জনকে আহত করে এবং ঘরে থাকা আসবাব পত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় । এতে মাহমুদুল হাসানের স্ত্রী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও ৪ জনের অবস্থা অবনতি দেখে ইসলামপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। পরদিন মো. আব্দুল মালেকের ছেলে মো. আতিকুল্লাহ বাদী হয়ে ১৮৬০ পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৪২৭/ ৫০৬(২)/১১৪/৩৪ ধারায় প্রতিবেশী ইলিয়াস মো. সজিব, মো. মোখলেছুর রহমান, আবু সামাদ, মো. আব্দুল মোতালেব, হাফিজুর , রমজান, কালু, কমলা বেগম, বানেছা বেগম, খাদিজা বেগম, মো. মোস্তফা, আবু কালাম ,মো. শাহীন, মোছা. শাপলা, কবিতা, ফাহিমা, ফুলেছা বেগম, মর্জিনা বেগম এর নাম উল্লেখ্য করে আরো ৩/৪জনকে অজ্ঞাত আসামী করে ইসলামপুর থানায় মামলা দায়ের করে।
এদিকে ঘটনার পর পরই আবু সামাদ, কমলা বেগম, খাদিজা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে গত ২৬ জুন আদালতে প্রেরণ করেন। অন্যান্য আসামীরা এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও ইসলামপুর থানা পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না।
এবিষয়ে ধর্ষণ মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান জানান, আমার বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বোনকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে প্রতিবেশী মোতালেব রাতভর গণধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেছে । পরে থানা পুলিশ তাদের তদন্তে ২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কিনা পুলিশের পাশাপাশি বিচারের স্বার্থে জামালপুর ডিবি পুলিশ ও র‍্যাবের ছায়া তদন্তের দাবী জানাই।
এ বিষয়ে বার বার বিবাদীদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি তারা৷
তবে ইসলামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ আসম আতিকুর রহমান মুঠোফোনে জানান, ঘটনার পরেই অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আসামীদের তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এমআর/সবা