০২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে

Oplus_131072

মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে বাড়িতে গিয়ে তল্লাশী চালানো ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশরা বলেন, মোঃ জুলহাস ফকির (৫০), মোঃ পলাশ ফকির (৪৫), মোঃ মিজান (৪৩), সর্ব পিতা-মৃত-শাহজাহান, মোছাঃ লাভলী আক্তর (৩৫), স্বামী-মোঃ জুলহাস ফকির। সবাই একই পরিবারের সদস্য। তারা সবাই জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত আছেন।
সরজমিনে দেখা যায় মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দমহেসপুর গ্রামের মৃত-সমরেশ শিকদারের ছেলে শহিদ শিকদার (৩৫) জমেলা নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। ঐ নারীর পরিবারের অমতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় ঐ নারীর বাবা জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেন। যা পরিপ্রেক্ষিতে ঐ পরিষদের গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান পারভীন আক্তার ও ইউপি সদস্য ফজলু মেম্বর, শহিদ শিকদার ও জমেলাকে ডেকে আনতে ঐ চার গ্রাম পুলিশকে শহিদের বাড়িতে পাঠান। তাদের নির্দেশনায় গত ১১ জুন রাত ১০টার দিকে শহিদের বাড়িতে গিয়ে শহিদ ও জমেলাকে খোজাখুজি করে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা। আশেপাশে শহিদের আত্মীয় স্বজনের বাসায়ও তল্লাশী চালান ঐ গ্রাম পুলিশরা।
পরের দিন ১২ই জুন বিকালে আবার গ্রাম পুলিশ প্রতিবেশীদের ঘরও তল্লাশী করে। একপর্যায়ে শহিদ শিকদারের প্রতিবেশী ও শহিদ শিকদারের মেয়ে সীমা আক্তর (২৭) এর সাথে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয় গ্রাম পুলিশের সাথে। পরে আশে পাশের অন্যান্য লোকজন এসে তাদের শান্ত করেন। এ বিষয় নিয়ে গ্রাম পুলিশ মহিদ শিকদার ও তার ভাই শহিদ শিকদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। গ্রাম পুলিশদের মারধর করার অভিযোগ করেন জুলহাস।
মামলার বিষয়ে গ্রাম পুলিশ জুলহাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজী হয়নি। পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন ঐ দিন ০৪ জন গ্রাম পুলিশ শহিদের বাড়ীতে নোটিশ নিয়ে যায় বলে শুনেছি, তখন আমি ছুটিতে ছিলাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেন ওরা ০৪ গ্রাম পুলিশ একই পরিবারের সদস্য। অর্থাৎ আপন তিন ভাই ও একজন জুলহাসের স্ত্রী। তারা অনেক সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বলে জানা যায়। তবে গ্রাম পুলিশের এমন আচরণ স্থানীয় জনগনের মধ্যে অনাস্থা ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
তবে জুলহাসের এই মিথ্যা মামলা নিয়ে শঙ্কায় দিন পার করছেন এই দরিদ্র পরিবারটি। শহিদের ভাই মনসুর সরকারের কাছে অনুরোধ করে বলেন, এই মিথ্যা মামলাটি সঠিকভাবে যেন তদন্ত করা হয়। সাংবাদিকরা এই বিষয়ে ফজলু মেম্বার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে কথা বলেন।
এই বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিয়ান নুরেন বলেন, এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশরা একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন। তবে এ বিষয়ে উভয় পক্ষ রাজী থাকলে আপোষ মিমাংশা করতে পারবেন তিনি জানান।
এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে বাড়িতে গিয়ে তল্লাশী চালানো ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশরা বলেন, মোঃ জুলহাস ফকির (৫০), মোঃ পলাশ ফকির (৪৫), মোঃ মিজান (৪৩), সর্ব পিতা-মৃত-শাহজাহান, মোছাঃ লাভলী আক্তর (৩৫), স্বামী-মোঃ জুলহাস ফকির। সবাই একই পরিবারের সদস্য। তারা সবাই জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত আছেন।
সরজমিনে দেখা যায় মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দমহেসপুর গ্রামের মৃত-সমরেশ শিকদারের ছেলে শহিদ শিকদার (৩৫) জমেলা নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। ঐ নারীর পরিবারের অমতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় ঐ নারীর বাবা জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেন। যা পরিপ্রেক্ষিতে ঐ পরিষদের গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান পারভীন আক্তার ও ইউপি সদস্য ফজলু মেম্বর, শহিদ শিকদার ও জমেলাকে ডেকে আনতে ঐ চার গ্রাম পুলিশকে শহিদের বাড়িতে পাঠান। তাদের নির্দেশনায় গত ১১ জুন রাত ১০টার দিকে শহিদের বাড়িতে গিয়ে শহিদ ও জমেলাকে খোজাখুজি করে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা। আশেপাশে শহিদের আত্মীয় স্বজনের বাসায়ও তল্লাশী চালান ঐ গ্রাম পুলিশরা।
পরের দিন ১২ই জুন বিকালে আবার গ্রাম পুলিশ প্রতিবেশীদের ঘরও তল্লাশী করে। একপর্যায়ে শহিদ শিকদারের প্রতিবেশী ও শহিদ শিকদারের মেয়ে সীমা আক্তর (২৭) এর সাথে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয় গ্রাম পুলিশের সাথে। পরে আশে পাশের অন্যান্য লোকজন এসে তাদের শান্ত করেন। এ বিষয় নিয়ে গ্রাম পুলিশ মহিদ শিকদার ও তার ভাই শহিদ শিকদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। গ্রাম পুলিশদের মারধর করার অভিযোগ করেন জুলহাস।
মামলার বিষয়ে গ্রাম পুলিশ জুলহাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজী হয়নি। পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন ঐ দিন ০৪ জন গ্রাম পুলিশ শহিদের বাড়ীতে নোটিশ নিয়ে যায় বলে শুনেছি, তখন আমি ছুটিতে ছিলাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেন ওরা ০৪ গ্রাম পুলিশ একই পরিবারের সদস্য। অর্থাৎ আপন তিন ভাই ও একজন জুলহাসের স্ত্রী। তারা অনেক সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বলে জানা যায়। তবে গ্রাম পুলিশের এমন আচরণ স্থানীয় জনগনের মধ্যে অনাস্থা ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
তবে জুলহাসের এই মিথ্যা মামলা নিয়ে শঙ্কায় দিন পার করছেন এই দরিদ্র পরিবারটি। শহিদের ভাই মনসুর সরকারের কাছে অনুরোধ করে বলেন, এই মিথ্যা মামলাটি সঠিকভাবে যেন তদন্ত করা হয়। সাংবাদিকরা এই বিষয়ে ফজলু মেম্বার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে কথা বলেন।
এই বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিয়ান নুরেন বলেন, এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশরা একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন। তবে এ বিষয়ে উভয় পক্ষ রাজী থাকলে আপোষ মিমাংশা করতে পারবেন তিনি জানান।
এমআর/সবা