১১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
জনমনে ক্ষোভ

লক্ষ্মীপুরে গতিহীন রহমতখালী খাল দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান

দখল ও দূষণ সংকুচিত হয়ে এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়া প্রবাহমান লক্ষ্মীপুরের রহমতখালী খাল দখলদারদের উচ্ছেদে নেই কোন গতি। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কিছু উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকলে ও রহমতখালী খালে লক্ষ্মীপুর পৌর অংশের ৮ কি.মি. জুড়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে কার্যকরী উদ্দ্যেগ না থাকায় জনমনে আতংক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফলে এ নিয়ে সাধারন মানুষের মাঝে দিন দিন বাড়ছে ক্ষোভ। এ ছাড়া বিগত সরকারের সময় অবৈধ প্রভাব ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে লীজ নিয়ে খালপাড় দখল সহ ব্যাবিচারে পরিবেশ ও পানি প্রবাহ নষ্ট কারীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়ার দাবী ভুক্তভোগীদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর পৌরসভা সহ রহমতখালী খালের বিভিন্ন অংশে তলদেশ অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্যে ভরাট হয়ে এর গভীরতা কমে যাওয়া সহ খালটির কয়েকটি স্থানে বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় পানি প্রবাহে চরমভাবে বিঘ্ন হচ্ছে। এ ছাড়া খালে বাঁধ, জাল দিয়ে মাছ শিকার এবং পয় ঢেকে থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই গত বর্ষায় টানা বৃষ্টি ও ফেনী-নোয়াখালীর বন্যার পানিতে দুই মাস পানিবন্দি থাকতে হয়েছিল রহমতখালীর দুইপাড়ের বাসিন্দাদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রহমতখালী খালের আট কিলোমিটার লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকায় পড়েছে। এ অংশে সবচেয়ে বেশি দখল, দূষণ, প্রতিবন্ধকতা। অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করতে কমিটি গঠন করেছে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আড়াআড়ি বাঁধ, কচুরিপানা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে পৌরসভার পক্ষ থেকে কর্মসূচি নেওয়া হয়।
দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর শহর, পৌর বাজার, মাদাম, ঝুমুর, জকসিন, মান্দারী, বটতলী ও চন্দ্রগঞ্জ বাজার অংশে খালের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। অনেকে খালের ওপর বহুতল বাণিজ্যিক ভবনও নির্মাণ করেছেন। জেলা শহরের বাজার সংযোগ সেতু থেকে দুপাশে খাল দখল নিয়ে যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। পৌর বাজার, অবৈধ দখলদার, মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শৌচাগার দিয়েও অনেকাংশে খাল দখল করা হয়। ক্ন্তিু তাদের উচ্ছেদে যেন কারো কোন মাথা ব্যাথাই নেই। প্রশাসনের সর্বোচ্চ লেবেল থেকে ও তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যেন তটস্ত। ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানের চলমান উচ্ছেদ অভিযান এখন তাদের ঘিরে অনেকের কাঠে প্রশ্নবিদ্ধ। নাম মাত্র লীজ ও ভুয়া তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে অনেকেই রহমতখালী খালে দুই পাড়া প্রতিযোগিতা দিয়ে গিলে খেলেও যেন দেখার কেউই নেই। আবার জেলার কোথাও কোথাও দভল উচ্ছেদ হলে ঠিক আগের মতো পরে তা দখল হতে দখো গেছে। এমন অবস্থায় খাল পাড়ের বসবাসকারী মানুষ দুশ্চিজন্তায় ভুগছে।
অবসরপ্রাপ্ত স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক জানান, এক সময় রহমতখালী খালে বড় পণ্যবাহী নৌকা চলতো। এখনো খালে স্রোত আছে, তবে আগের মতো নেই। আগে খাল ছিল নদীর মতো চওড়া। এই পাড় থেকে ডাকলে অন্য পাড়ে কিছুই শোনা যেতো না। পানিও ছিল পরিষ্কার। এখন অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ে খাল সরু হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামশেদ আলম রানা বলেন, শিগগিরই জকসিন ও মান্দারী বাজার এলাকায় খাল পরিষ্কার ও দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। মান্দারী বাজারে খালের পাশেই একটি প্লট ব্যক্তি মালিকানায় খতিয়ানভুক্ত হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, রহমতখালী খালে পানি প্রবাহ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দখলদারদের চিহ্নিত করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর প্রতিবেদন পেলে দখলদারদের উচ্ছেদ করতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ-জামান খান বলেন, রহমতখালী খাল ও ভুলুয়া নদী খনন করতে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম শেষে বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে। খাল দখল ও পরিষ্কার করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এমআর.সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

জনমনে ক্ষোভ

লক্ষ্মীপুরে গতিহীন রহমতখালী খাল দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান

আপডেট সময় : ০৬:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

দখল ও দূষণ সংকুচিত হয়ে এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়া প্রবাহমান লক্ষ্মীপুরের রহমতখালী খাল দখলদারদের উচ্ছেদে নেই কোন গতি। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কিছু উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকলে ও রহমতখালী খালে লক্ষ্মীপুর পৌর অংশের ৮ কি.মি. জুড়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে কার্যকরী উদ্দ্যেগ না থাকায় জনমনে আতংক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফলে এ নিয়ে সাধারন মানুষের মাঝে দিন দিন বাড়ছে ক্ষোভ। এ ছাড়া বিগত সরকারের সময় অবৈধ প্রভাব ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে লীজ নিয়ে খালপাড় দখল সহ ব্যাবিচারে পরিবেশ ও পানি প্রবাহ নষ্ট কারীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়ার দাবী ভুক্তভোগীদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর পৌরসভা সহ রহমতখালী খালের বিভিন্ন অংশে তলদেশ অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্যে ভরাট হয়ে এর গভীরতা কমে যাওয়া সহ খালটির কয়েকটি স্থানে বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় পানি প্রবাহে চরমভাবে বিঘ্ন হচ্ছে। এ ছাড়া খালে বাঁধ, জাল দিয়ে মাছ শিকার এবং পয় ঢেকে থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই গত বর্ষায় টানা বৃষ্টি ও ফেনী-নোয়াখালীর বন্যার পানিতে দুই মাস পানিবন্দি থাকতে হয়েছিল রহমতখালীর দুইপাড়ের বাসিন্দাদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রহমতখালী খালের আট কিলোমিটার লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকায় পড়েছে। এ অংশে সবচেয়ে বেশি দখল, দূষণ, প্রতিবন্ধকতা। অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করতে কমিটি গঠন করেছে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আড়াআড়ি বাঁধ, কচুরিপানা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে পৌরসভার পক্ষ থেকে কর্মসূচি নেওয়া হয়।
দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর শহর, পৌর বাজার, মাদাম, ঝুমুর, জকসিন, মান্দারী, বটতলী ও চন্দ্রগঞ্জ বাজার অংশে খালের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। অনেকে খালের ওপর বহুতল বাণিজ্যিক ভবনও নির্মাণ করেছেন। জেলা শহরের বাজার সংযোগ সেতু থেকে দুপাশে খাল দখল নিয়ে যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। পৌর বাজার, অবৈধ দখলদার, মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শৌচাগার দিয়েও অনেকাংশে খাল দখল করা হয়। ক্ন্তিু তাদের উচ্ছেদে যেন কারো কোন মাথা ব্যাথাই নেই। প্রশাসনের সর্বোচ্চ লেবেল থেকে ও তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যেন তটস্ত। ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানের চলমান উচ্ছেদ অভিযান এখন তাদের ঘিরে অনেকের কাঠে প্রশ্নবিদ্ধ। নাম মাত্র লীজ ও ভুয়া তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে অনেকেই রহমতখালী খালে দুই পাড়া প্রতিযোগিতা দিয়ে গিলে খেলেও যেন দেখার কেউই নেই। আবার জেলার কোথাও কোথাও দভল উচ্ছেদ হলে ঠিক আগের মতো পরে তা দখল হতে দখো গেছে। এমন অবস্থায় খাল পাড়ের বসবাসকারী মানুষ দুশ্চিজন্তায় ভুগছে।
অবসরপ্রাপ্ত স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক জানান, এক সময় রহমতখালী খালে বড় পণ্যবাহী নৌকা চলতো। এখনো খালে স্রোত আছে, তবে আগের মতো নেই। আগে খাল ছিল নদীর মতো চওড়া। এই পাড় থেকে ডাকলে অন্য পাড়ে কিছুই শোনা যেতো না। পানিও ছিল পরিষ্কার। এখন অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ে খাল সরু হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামশেদ আলম রানা বলেন, শিগগিরই জকসিন ও মান্দারী বাজার এলাকায় খাল পরিষ্কার ও দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। মান্দারী বাজারে খালের পাশেই একটি প্লট ব্যক্তি মালিকানায় খতিয়ানভুক্ত হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, রহমতখালী খালে পানি প্রবাহ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দখলদারদের চিহ্নিত করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর প্রতিবেদন পেলে দখলদারদের উচ্ছেদ করতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ-জামান খান বলেন, রহমতখালী খাল ও ভুলুয়া নদী খনন করতে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম শেষে বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে। খাল দখল ও পরিষ্কার করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এমআর.সবা