০৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে আন্দোলনে বিপাকে স্বাস্থ্যবিভাগ

দেশব্যাপী যখন প্রথমবারের মতো টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি)
ক্যাম্পেইন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার, ঠিক সেই সময় চট্টগ্রাম জেলায়
স্বাস্থ্যবিভাগ পড়েছে বিপাকে। জেলার মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীরা মাসিক
ইপিআই রিপোর্ট, টালিশিট, স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিবেদন, গর্ভবতী তালিকা এমনকি
টাইফয়েড ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রাও জমা দিচ্ছে না। চলমান আন্দোলনের অংশ
হিসেবে এমন কৌশল গ্রহণ করায় ক্যাম্পেইন শুরুর আগে চট্টগ্রামের শিশু
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
মহাপরিচালকের কাছে এ বিষয়ে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল
সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। ২ জুলাই প্রেরিত ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন,
জেলার ১৫টি উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের
পাঠানো তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীরা নিয়মিত
ইপিআই টিকা দিলেও কোনও ধরনের দৈনিক হিসাব, টিসিভি ক্যাম্পেইনের
লক্ষ্যমাত্রা এবং অন্যান্য প্রতিবেদন জমা দিচ্ছেন না। আন্দোলনের অংশ
হিসেবেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অবগত হয়েছেন তিনি। এতে মাঠপর্যায়ের
কার্যক্রমের সঠিক প্রতিবেদন তৈরি এবং জাতীয় ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি নিতে
স্বাস্থ্য বিভাগ চরম সমস্যায় পড়েছে।জানা গেছে, বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট
এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয়ভাবে ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন করছে। এসব দাবিতে প্রায়
মাসখানেক ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য
সহকারীরা। এর অংশ হিসেবে তারা নিয়মিত রিপোর্টিং এবং টাইফয়েড ক্যাম্পেইনের
লক্ষ্যমাত্রা জমা দেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। এতে গোটা জেলার স্বাস্থ্য
ব্যবস্থাপনায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে
প্রথমবারের মতো ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের টাইফয়েড রোগের ঝুঁকি
থেকে বাঁচাতে জাতীয়ভাবে ক্যাম্পেইন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ
কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হলেও চট্টগ্রাম জেলার জন্য প্রয়োজনীয় টিকার
চাহিদা পাঠানো যায়নি। কারণ, মাঠপর্যায় থেকে শিশুর সংখ্যা বা লক্ষ্যমাত্রার
তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও এ জেলার টিকা বরাদ্দ নির্ধারণ
করতে পারছে না। কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার
সাথে কথা হয় এ প্রসঙ্গে। তারা বলেন, ‘একপ্রকার জিম্মি করে আন্দোলন
চালাচ্ছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। বারবার তাগাদা দিলেও মাঠপর্যায় থেকে কোনও
প্রতিবেদন আসছে না। শিশুদের লক্ষ্যমাত্রা না পাওয়ায় আমরা সিভিল সার্জন
কার্যালয়ে পাঠাতেও পারছি না।’জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা.
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘টাইফয়েড ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা এখনও পাইনি।
আন্দোলনের কারণে স্বাস্থ্য সহকারীরা কোনও তথ্য জমা দিচ্ছেন না। বিষয়টি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।’স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত
সময়ের মধ্যে চাহিদা পাঠানো না গেলে চট্টগ্রামে প্রয়োজনীয় টিকা সংকট দেখা
দিতে পারে। এতে ক্যাম্পেইন শতভাগ সফল করা কঠিন হবে। বিশেষ করে,
টাইফয়েডের মতো রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচিতে এমন প্রতিবন্ধকতা স্বাস্থ্য
ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয়, ক্যাম্পেইনের সুযোগ
থেকে বঞ্চিত হবে জেলার ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা।সংশ্লিষ্টদের মতে,
এই সংকট যত দীর্ঘ হবে, ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি তত পিছিয়ে পড়বে। আর সে দায়
থাকবে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের

দীর্ঘসূত্রিতার ওপর।আলোচ্য বিষয়ে অবহিত করা হলে সচেতন নাগরিক কমিটির
(সনাক) সভাপতি এডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘একটি জাতীয়
ক্যাম্পেইন কখনোই আন্দোলনের জন্য নষ্ট হতে পারে না। আন্দোলন করতে হলে
বিকল্প উপায় খুঁজে নিতে হবে। আন্দোলনের যৌক্তিকতা থাকলেও তা কোনভাবেই
শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রেখে চলতে পারে না। কারণ এর খেসারত দিতে হবে
নিষ্পাপ শিশুদের। ক্যাম্পেইনের সাফল্য ও শিশুদের সুরক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে
এই অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন করা উচিত। নইলে ক্যাম্পেইনের সাফল্য তো হারাবেই,
পাশাপাশি বাড়বে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে আন্দোলনে বিপাকে স্বাস্থ্যবিভাগ

আপডেট সময় : ০১:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

দেশব্যাপী যখন প্রথমবারের মতো টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি)
ক্যাম্পেইন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার, ঠিক সেই সময় চট্টগ্রাম জেলায়
স্বাস্থ্যবিভাগ পড়েছে বিপাকে। জেলার মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীরা মাসিক
ইপিআই রিপোর্ট, টালিশিট, স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিবেদন, গর্ভবতী তালিকা এমনকি
টাইফয়েড ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রাও জমা দিচ্ছে না। চলমান আন্দোলনের অংশ
হিসেবে এমন কৌশল গ্রহণ করায় ক্যাম্পেইন শুরুর আগে চট্টগ্রামের শিশু
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
মহাপরিচালকের কাছে এ বিষয়ে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল
সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। ২ জুলাই প্রেরিত ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন,
জেলার ১৫টি উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের
পাঠানো তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীরা নিয়মিত
ইপিআই টিকা দিলেও কোনও ধরনের দৈনিক হিসাব, টিসিভি ক্যাম্পেইনের
লক্ষ্যমাত্রা এবং অন্যান্য প্রতিবেদন জমা দিচ্ছেন না। আন্দোলনের অংশ
হিসেবেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অবগত হয়েছেন তিনি। এতে মাঠপর্যায়ের
কার্যক্রমের সঠিক প্রতিবেদন তৈরি এবং জাতীয় ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি নিতে
স্বাস্থ্য বিভাগ চরম সমস্যায় পড়েছে।জানা গেছে, বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট
এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয়ভাবে ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন করছে। এসব দাবিতে প্রায়
মাসখানেক ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য
সহকারীরা। এর অংশ হিসেবে তারা নিয়মিত রিপোর্টিং এবং টাইফয়েড ক্যাম্পেইনের
লক্ষ্যমাত্রা জমা দেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। এতে গোটা জেলার স্বাস্থ্য
ব্যবস্থাপনায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে
প্রথমবারের মতো ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের টাইফয়েড রোগের ঝুঁকি
থেকে বাঁচাতে জাতীয়ভাবে ক্যাম্পেইন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ
কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হলেও চট্টগ্রাম জেলার জন্য প্রয়োজনীয় টিকার
চাহিদা পাঠানো যায়নি। কারণ, মাঠপর্যায় থেকে শিশুর সংখ্যা বা লক্ষ্যমাত্রার
তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও এ জেলার টিকা বরাদ্দ নির্ধারণ
করতে পারছে না। কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার
সাথে কথা হয় এ প্রসঙ্গে। তারা বলেন, ‘একপ্রকার জিম্মি করে আন্দোলন
চালাচ্ছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। বারবার তাগাদা দিলেও মাঠপর্যায় থেকে কোনও
প্রতিবেদন আসছে না। শিশুদের লক্ষ্যমাত্রা না পাওয়ায় আমরা সিভিল সার্জন
কার্যালয়ে পাঠাতেও পারছি না।’জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা.
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘টাইফয়েড ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা এখনও পাইনি।
আন্দোলনের কারণে স্বাস্থ্য সহকারীরা কোনও তথ্য জমা দিচ্ছেন না। বিষয়টি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।’স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত
সময়ের মধ্যে চাহিদা পাঠানো না গেলে চট্টগ্রামে প্রয়োজনীয় টিকা সংকট দেখা
দিতে পারে। এতে ক্যাম্পেইন শতভাগ সফল করা কঠিন হবে। বিশেষ করে,
টাইফয়েডের মতো রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচিতে এমন প্রতিবন্ধকতা স্বাস্থ্য
ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয়, ক্যাম্পেইনের সুযোগ
থেকে বঞ্চিত হবে জেলার ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা।সংশ্লিষ্টদের মতে,
এই সংকট যত দীর্ঘ হবে, ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি তত পিছিয়ে পড়বে। আর সে দায়
থাকবে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের

দীর্ঘসূত্রিতার ওপর।আলোচ্য বিষয়ে অবহিত করা হলে সচেতন নাগরিক কমিটির
(সনাক) সভাপতি এডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘একটি জাতীয়
ক্যাম্পেইন কখনোই আন্দোলনের জন্য নষ্ট হতে পারে না। আন্দোলন করতে হলে
বিকল্প উপায় খুঁজে নিতে হবে। আন্দোলনের যৌক্তিকতা থাকলেও তা কোনভাবেই
শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রেখে চলতে পারে না। কারণ এর খেসারত দিতে হবে
নিষ্পাপ শিশুদের। ক্যাম্পেইনের সাফল্য ও শিশুদের সুরক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে
এই অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন করা উচিত। নইলে ক্যাম্পেইনের সাফল্য তো হারাবেই,
পাশাপাশি বাড়বে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি।