১১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বর্ষার কারণে চট্টগ্রামে মৎস্যখাতে সংকট

মাছ ধরার জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। অপেক্ষায় আছেন পুরো সেক্টরের
কয়েক হাজার মানুষ। বর্ষায় মাছের ভর মৌসুম চলে যাচ্ছে। অথচ উত্তাল সাগরে মাছ শিকারে যেতে
পারছেন না জেলেরা। ছোটখাটো বোট তো দূরের কথা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ফিশিং
ভ্যাসেলগুলোও কর্ণফুলী নদীতে অলস ভাসছে। সাগরে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা ৬৫ দিন থেকে
কমিয়ে ৫৮ দিন করা হয়েছিল। সেই দিনগুলো ফুরানোর অপেক্ষায় ছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। গত
১১ জুন ৫৮ দিনের সময় ফুরালে মধ্যরাতেই সাগরে যাত্রা শুরু করেন জেলেরা। কিন্তু দিন তিনেকের
মাথায় মাঝপথ থেকে সবাই শূন্য হাতে কূলে ফিরে আসতে বাধ্য হন। এরপর গত ২৩ দিনে আর
কোনো জাহাজ সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেনি। ইলিশের ভর মৌসুমে মাছ শিকার করতে না পেরে
চোখে–মুখে অন্ধকার দেখছেন এই সেক্টরে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ী
এবং জেলেরা। কোটি কোটি টাকা দামের জাহাজ অলস বসে থাকায় ব্যাংক ঋণসহ নানাভাবে
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।জানা যায়, সাগরের অবস্থা খারাপ। আবহাওয়া বিভাগ থেকে ৩ নম্বর
সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের সংকেতের মাঝেও অন্যান্য বছর বড় বড় জাহাজ মাছ
শিকার করে। কাঠের বডির ট্রলারগুলোও এমন সিগন্যালে সাগরে মাছ শিকার করে। তবে এবার
পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মন্তব্য করে একটি ফিশিং ভ্যাসেলের মাস্টার বলেন, ১৪ জুন রাতে সাগরের
যে তাণ্ডব দেখে ফিরে এসেছিলাম তা বর্ণনাতীত। একেকটি ঢেউ পাহাড়ের মতো। পুরো জাহাজ
নাগরদোলার মতো দুলছিল। জাল ফেলে মাছ শিকার তো দূরের কথা, জীবন বাঁচাতে ফিরে আসতে
বাধ্য হয়েছিলাম। আশা করেছিলাম, দুয়েকদিনের মধ্যে সাগরের অবস্থা ভালো হবে। মাছ শিকার
করতে যাব। কিন্তু গত ২৩ দিন ধরে অলস বসে আছি।অপর একজন জাহাজ মালিক বলেন, প্রতিদিন
খবর নিই, কিন্তু সুখবর পাই না। দুয়েকদিনের মধ্যে সাগর শান্ত হবে বলে শুনতে পাচ্ছি। এখনো
নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।সামুদ্রিক মাছের প্রজনন মৌসুমকে নিরাপদ করতে ২০১৫ সাল
থেকে প্রতি বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছিল
সরকার। তবে এই সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে নিষেধাজ্ঞা থাকত না। ফলে ওই দেশের জেলেরা
মাছ শিকার করত। এতে করে বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞাটা পুরোপুরি কার্যকর হতো না। ভারতীয়
জেলেদের অনেকে বাংলাদেশের জলসীমায় এসেও মাছ ধরে নিয়ে যেত বলে অভিযোগ রয়েছে।চলতি
বছর ভারতের সঙ্গে মিল রেখে ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিন নিষেধাজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞা ৬৫ দিন থেকে কমিয়ে ৫৮ দিন নির্ধারণ করায় জেলেরা খুশী হন। গত ১৫ এপ্রিল থেকে
৫৮ দিন সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরা, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
থাকে। ১১ জুন মধ্যরাতে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়। অনেক জেলে ওই রাতেই সাগরের পথে
নৌযান ভাসান, কেউ কেউ যাত্রা করেন ১২ জুন সকালে। উৎসবমুখর পরিবেশে মাছ শিকারের জন্য
সাগরমুখো যাত্রা করলেও মাঝপথ থেকেই জাহাজ, ট্রলারসহ শত শত নৌযান ফেরত আসতে বাধ্য
হয়েছে।জাহাজের একজন মাস্টার জানান, এবার আগাম বর্ষা এসেছে। মাছের ভর মৌসুম। এ সময়
প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। অথচ আমরা সাগরেই যেতে পারছি না। ছোটখাটো বোট তো দূরের কথা,
গভীর সাগরে মাছ ধরার প্রযুক্তি সমৃদ্ধ অত্যাধুনিক ফিশিং ভ্যাসেলগুলোও সাগরমুখো হচ্ছে না।
কর্ণফুলী নদীর উজানে এসে মাছ ধরার অনেক জাহাজ ও ট্রলার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নিয়েছে
আনোয়ারা, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও সীতাকুণ্ড উপকূলীয় এলাকায়।একাধিক
ফিশিং ভ্যাসেলের একজন মালিক গতকাল জানান, গত প্রায় তিন মাস জাহাজের মাস্টার নাবিক ও
জেলেদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন–ভাতা দিতে হচ্ছে। জাহাজগুলোতে কয়েক কোটি টাকা ব্যাংকের ঋণ
রয়েছে। ঋণের সুদ গুনতে গুনতে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছি। ৫৮ দিনের বন্ধের পর গত ২৩ দিন অলস
বসে থাকায় আমার প্রতিষ্ঠানই কয়েক কোটি টাকা ক্ষতির কবলে পড়েছে। এভাবে প্রায় প্রতিটি
কোম্পানি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।কাঠের বডির ট্রলারগুলোও প্রচুর মাছ শিকার করে।
কিন্তু এবার তারাও বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। মাছ শিকারে নিয়োজিত জেলেরা আর্থিক সংকটে
দিনতিপাত করছেন বলে জানান তারা।ট্রলার মালিক এস এম মামুন মিয়া জানান, আমাদের
ট্রলারগুলো অলস বসে আছে। দুয়েকদিনের মধ্যে সাগর শান্ত হবে বলে শুনছি। দেখা যাক। চরম
আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এতগুলো দিন অলস বসে থাকা কঠিন।ফিশিং
ভ্যাসেলের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি খুবই খারাপ। কখন ঠিক হবে জানি না।
আমাদের জাহাজগুলো নদীর উজানে নোঙর করে আছে। ভর মৌসুমে মাছ শিকার করতে না পারায়
আমাদের মতো অন্যান্য কোম্পানিগুলোও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।চট্টগ্রামের মৎস্য

অবতরণ কেন্দ্রে দেখা গেছে, তেমন কোন মাছ আসছে না, মাছ নেইও। বর্ষার এই মৌসুমে ইলিশসহ
প্রচুর মাছ ধরা পড়ে। তবে এবার পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। বাজারে দেখা গেছে পুরনো ইলিশ
বিক্রি হচ্ছে। মাছের সরবরাহ না থাকায় এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ১৭শ থেকে ১৮শ টাকা
হাঁকা হচ্ছে। তবে ইলিশের তেমন ক্রেতাও নেই বলে জানান মাছ ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, কিছু কিছু
হোটেল–রেস্টুরেন্ট ইলিশ কিনছে। গৃহস্থদেরমধ্যে তেমন কাউকে দেখা যাচ্ছে না।মৎস্য বিভাগের
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাগরে মৌসুমি নিম্নচাপ ও শক্তিশালী বায়ুচাপের প্রভাবে উত্তাল
পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আবহাওয়া বিভাগের
বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান।আবহাওয়া বিভাগের পতেঙ্গা
অফিস জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সাগর উত্তাল। আজকালের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা
স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ফোনে জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্ষার কারণে চট্টগ্রামে মৎস্যখাতে সংকট

আপডেট সময় : ০১:২২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

মাছ ধরার জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। অপেক্ষায় আছেন পুরো সেক্টরের
কয়েক হাজার মানুষ। বর্ষায় মাছের ভর মৌসুম চলে যাচ্ছে। অথচ উত্তাল সাগরে মাছ শিকারে যেতে
পারছেন না জেলেরা। ছোটখাটো বোট তো দূরের কথা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ফিশিং
ভ্যাসেলগুলোও কর্ণফুলী নদীতে অলস ভাসছে। সাগরে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা ৬৫ দিন থেকে
কমিয়ে ৫৮ দিন করা হয়েছিল। সেই দিনগুলো ফুরানোর অপেক্ষায় ছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। গত
১১ জুন ৫৮ দিনের সময় ফুরালে মধ্যরাতেই সাগরে যাত্রা শুরু করেন জেলেরা। কিন্তু দিন তিনেকের
মাথায় মাঝপথ থেকে সবাই শূন্য হাতে কূলে ফিরে আসতে বাধ্য হন। এরপর গত ২৩ দিনে আর
কোনো জাহাজ সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেনি। ইলিশের ভর মৌসুমে মাছ শিকার করতে না পেরে
চোখে–মুখে অন্ধকার দেখছেন এই সেক্টরে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ী
এবং জেলেরা। কোটি কোটি টাকা দামের জাহাজ অলস বসে থাকায় ব্যাংক ঋণসহ নানাভাবে
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।জানা যায়, সাগরের অবস্থা খারাপ। আবহাওয়া বিভাগ থেকে ৩ নম্বর
সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের সংকেতের মাঝেও অন্যান্য বছর বড় বড় জাহাজ মাছ
শিকার করে। কাঠের বডির ট্রলারগুলোও এমন সিগন্যালে সাগরে মাছ শিকার করে। তবে এবার
পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মন্তব্য করে একটি ফিশিং ভ্যাসেলের মাস্টার বলেন, ১৪ জুন রাতে সাগরের
যে তাণ্ডব দেখে ফিরে এসেছিলাম তা বর্ণনাতীত। একেকটি ঢেউ পাহাড়ের মতো। পুরো জাহাজ
নাগরদোলার মতো দুলছিল। জাল ফেলে মাছ শিকার তো দূরের কথা, জীবন বাঁচাতে ফিরে আসতে
বাধ্য হয়েছিলাম। আশা করেছিলাম, দুয়েকদিনের মধ্যে সাগরের অবস্থা ভালো হবে। মাছ শিকার
করতে যাব। কিন্তু গত ২৩ দিন ধরে অলস বসে আছি।অপর একজন জাহাজ মালিক বলেন, প্রতিদিন
খবর নিই, কিন্তু সুখবর পাই না। দুয়েকদিনের মধ্যে সাগর শান্ত হবে বলে শুনতে পাচ্ছি। এখনো
নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।সামুদ্রিক মাছের প্রজনন মৌসুমকে নিরাপদ করতে ২০১৫ সাল
থেকে প্রতি বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছিল
সরকার। তবে এই সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে নিষেধাজ্ঞা থাকত না। ফলে ওই দেশের জেলেরা
মাছ শিকার করত। এতে করে বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞাটা পুরোপুরি কার্যকর হতো না। ভারতীয়
জেলেদের অনেকে বাংলাদেশের জলসীমায় এসেও মাছ ধরে নিয়ে যেত বলে অভিযোগ রয়েছে।চলতি
বছর ভারতের সঙ্গে মিল রেখে ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিন নিষেধাজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞা ৬৫ দিন থেকে কমিয়ে ৫৮ দিন নির্ধারণ করায় জেলেরা খুশী হন। গত ১৫ এপ্রিল থেকে
৫৮ দিন সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরা, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
থাকে। ১১ জুন মধ্যরাতে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়। অনেক জেলে ওই রাতেই সাগরের পথে
নৌযান ভাসান, কেউ কেউ যাত্রা করেন ১২ জুন সকালে। উৎসবমুখর পরিবেশে মাছ শিকারের জন্য
সাগরমুখো যাত্রা করলেও মাঝপথ থেকেই জাহাজ, ট্রলারসহ শত শত নৌযান ফেরত আসতে বাধ্য
হয়েছে।জাহাজের একজন মাস্টার জানান, এবার আগাম বর্ষা এসেছে। মাছের ভর মৌসুম। এ সময়
প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। অথচ আমরা সাগরেই যেতে পারছি না। ছোটখাটো বোট তো দূরের কথা,
গভীর সাগরে মাছ ধরার প্রযুক্তি সমৃদ্ধ অত্যাধুনিক ফিশিং ভ্যাসেলগুলোও সাগরমুখো হচ্ছে না।
কর্ণফুলী নদীর উজানে এসে মাছ ধরার অনেক জাহাজ ও ট্রলার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নিয়েছে
আনোয়ারা, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও সীতাকুণ্ড উপকূলীয় এলাকায়।একাধিক
ফিশিং ভ্যাসেলের একজন মালিক গতকাল জানান, গত প্রায় তিন মাস জাহাজের মাস্টার নাবিক ও
জেলেদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন–ভাতা দিতে হচ্ছে। জাহাজগুলোতে কয়েক কোটি টাকা ব্যাংকের ঋণ
রয়েছে। ঋণের সুদ গুনতে গুনতে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছি। ৫৮ দিনের বন্ধের পর গত ২৩ দিন অলস
বসে থাকায় আমার প্রতিষ্ঠানই কয়েক কোটি টাকা ক্ষতির কবলে পড়েছে। এভাবে প্রায় প্রতিটি
কোম্পানি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।কাঠের বডির ট্রলারগুলোও প্রচুর মাছ শিকার করে।
কিন্তু এবার তারাও বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। মাছ শিকারে নিয়োজিত জেলেরা আর্থিক সংকটে
দিনতিপাত করছেন বলে জানান তারা।ট্রলার মালিক এস এম মামুন মিয়া জানান, আমাদের
ট্রলারগুলো অলস বসে আছে। দুয়েকদিনের মধ্যে সাগর শান্ত হবে বলে শুনছি। দেখা যাক। চরম
আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এতগুলো দিন অলস বসে থাকা কঠিন।ফিশিং
ভ্যাসেলের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি খুবই খারাপ। কখন ঠিক হবে জানি না।
আমাদের জাহাজগুলো নদীর উজানে নোঙর করে আছে। ভর মৌসুমে মাছ শিকার করতে না পারায়
আমাদের মতো অন্যান্য কোম্পানিগুলোও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।চট্টগ্রামের মৎস্য

অবতরণ কেন্দ্রে দেখা গেছে, তেমন কোন মাছ আসছে না, মাছ নেইও। বর্ষার এই মৌসুমে ইলিশসহ
প্রচুর মাছ ধরা পড়ে। তবে এবার পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। বাজারে দেখা গেছে পুরনো ইলিশ
বিক্রি হচ্ছে। মাছের সরবরাহ না থাকায় এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ১৭শ থেকে ১৮শ টাকা
হাঁকা হচ্ছে। তবে ইলিশের তেমন ক্রেতাও নেই বলে জানান মাছ ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, কিছু কিছু
হোটেল–রেস্টুরেন্ট ইলিশ কিনছে। গৃহস্থদেরমধ্যে তেমন কাউকে দেখা যাচ্ছে না।মৎস্য বিভাগের
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাগরে মৌসুমি নিম্নচাপ ও শক্তিশালী বায়ুচাপের প্রভাবে উত্তাল
পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আবহাওয়া বিভাগের
বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান।আবহাওয়া বিভাগের পতেঙ্গা
অফিস জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সাগর উত্তাল। আজকালের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা
স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ফোনে জানান।