০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজারহাটে নিখোঁজ শিশু নাজিমের মরদেহ মিললো তিস্তা নদীতে

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীতে নিখোঁজ শিশু নাজিমের(৫) মরদেহের  সন্ধান মিলছে। বুধবার (৯জুলাই) সকাল আটটায় রংপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল বাড়ীর পাশে তিস্তা নদী থেকে নাজিমের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত নাজিম বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পাড়ামৌলা গ্রামের (ডাংরারহাট বাজারের পাশ্ববর্তী) বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের তৃতীয় সন্তান। শিশু নাজিমের এ অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের ন্যায় ৮ই জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে নদীর তীরে অন্যান্য ছেলেমেয়েদের সাথে খেলছিল নাজিম। খেলা শেষে নাজিমকে রেখে অন্য ছেলেমেয়েরা চলে যায়।  পাশেই নাজিমের মা অন্য মহিলাদের সাথে খোশ গল্প করছিলো। হঠাৎ করে সন্তানের কথা মনে পড়লে আশপাশের এলাকা সহ তাদের আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে   নাজিমকে খুঁজতে থাকে। রাতভর মাইকিং সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেলের সন্ধান চেয়ে তার পিতা রফিকুল ইসলাম পোস্ট করেন। পরক্ষণেই স্থানীয় ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। কোথাও নাজিমকে খুঁজে না পেলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় সে নদীতে পড়তে পারে। তার খেলাধূলার স্থানের পাশেই তিস্তানদীর তীরে একটি নৌকা বাঁধা ছিলো। সেই নৌকায় নাজিম সহ অন্য ছেলেমেয়েরা প্রায়ই সেখানে উঠে খেলাধূলা করতো। ঘটনার দিন মঙ্গলবার রাতেই রাজারহাট ফায়ার সার্ভিসের  লিডার আবু তাহেরর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রংপুরের ডুবুরি দলের লিডার কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বুধবার সকাল ৮.০০ ঘটিকার দিকে রাজারহাট ও রংপুর  ফায়ার স্টেশনের যৌথ তত্ত্বাবধায়নে তিস্তা নদীতে নিখোঁজ শিশু নাজিমের মরদেহ উদ্ধার করে।
উল্লেখ থাকে কয়েক  বছর পুর্বে তিস্তা নদীর একই স্থানে রফিকুল ইসলামের বাবা মনতাজ আলী নৌকা ডুবিতে তাদের নৌকা সহ নিখোঁজ হলে রংপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তিন দিন পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও সন্ধান পায়নি। একই স্থানে বাবা ও সন্তান নিহতের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পরে নাজিমের বাবা রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় নেটিজেনদের মাঝেও শোক নেমে আসে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজারহাটে নিখোঁজ শিশু নাজিমের মরদেহ মিললো তিস্তা নদীতে

আপডেট সময় : ০৪:১৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীতে নিখোঁজ শিশু নাজিমের(৫) মরদেহের  সন্ধান মিলছে। বুধবার (৯জুলাই) সকাল আটটায় রংপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল বাড়ীর পাশে তিস্তা নদী থেকে নাজিমের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত নাজিম বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পাড়ামৌলা গ্রামের (ডাংরারহাট বাজারের পাশ্ববর্তী) বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের তৃতীয় সন্তান। শিশু নাজিমের এ অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের ন্যায় ৮ই জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে নদীর তীরে অন্যান্য ছেলেমেয়েদের সাথে খেলছিল নাজিম। খেলা শেষে নাজিমকে রেখে অন্য ছেলেমেয়েরা চলে যায়।  পাশেই নাজিমের মা অন্য মহিলাদের সাথে খোশ গল্প করছিলো। হঠাৎ করে সন্তানের কথা মনে পড়লে আশপাশের এলাকা সহ তাদের আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে   নাজিমকে খুঁজতে থাকে। রাতভর মাইকিং সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেলের সন্ধান চেয়ে তার পিতা রফিকুল ইসলাম পোস্ট করেন। পরক্ষণেই স্থানীয় ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। কোথাও নাজিমকে খুঁজে না পেলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় সে নদীতে পড়তে পারে। তার খেলাধূলার স্থানের পাশেই তিস্তানদীর তীরে একটি নৌকা বাঁধা ছিলো। সেই নৌকায় নাজিম সহ অন্য ছেলেমেয়েরা প্রায়ই সেখানে উঠে খেলাধূলা করতো। ঘটনার দিন মঙ্গলবার রাতেই রাজারহাট ফায়ার সার্ভিসের  লিডার আবু তাহেরর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রংপুরের ডুবুরি দলের লিডার কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বুধবার সকাল ৮.০০ ঘটিকার দিকে রাজারহাট ও রংপুর  ফায়ার স্টেশনের যৌথ তত্ত্বাবধায়নে তিস্তা নদীতে নিখোঁজ শিশু নাজিমের মরদেহ উদ্ধার করে।
উল্লেখ থাকে কয়েক  বছর পুর্বে তিস্তা নদীর একই স্থানে রফিকুল ইসলামের বাবা মনতাজ আলী নৌকা ডুবিতে তাদের নৌকা সহ নিখোঁজ হলে রংপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তিন দিন পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও সন্ধান পায়নি। একই স্থানে বাবা ও সন্তান নিহতের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পরে নাজিমের বাবা রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় নেটিজেনদের মাঝেও শোক নেমে আসে।