০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমরা দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবো – ইবিতে হাসনাত

মুক্তিচিন্তার পরিবেশ উন্মুক্ত রেখে দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, “যারা আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করতে চায়, সমাজে তাদের একসেস আর থাকবে না। কিন্তু আমাদের মতপার্থক্যকে আমরা এন্টারটেইন করবো। আমরা প্রশ্ন করবো, দ্বিতীয় প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবো। সবাই আমার সাথে একমত হবে এটা মুখ্য বিষয় না। যারা নেকাব করে তাদের স্বাধীনতা যেমন থাকবে, যারা করতে চাইবে না তাদের স্বাধীনতাও থাকবে। ”

গতকাল রাত ১১ টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা প্রমুখ।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, একটা সিটের বিনিময়ে বা ভালো রেজাল্টের বিনিময়ে নিজের মেরুদণ্ড বিক্রি করে দিয়েন না। আমরা আবার সেই বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইনা যে বাংলাদেশে একটা স্ট্যাটাস দিলে সিনিয়ররা রুম থেকে ডেকে নিয়ে তা ডিলিট ত করায় ই, এমনকি হল থেকে বের করে দেয়। পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনাদের সাথে আমাদের দেখা হবে, আপনাদের প্রশ্নের উর্ধ্বে আমরা উঠতে পারব না।

জুলাই সনদ দেওয়া না হলে পেছনে ফেরার কোনো উপায় থাকবে না উল্লেখ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, জুলাই সনদের জন্য আবার ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে মিলিত হব। ড. ইউনূসকে বলেছি—এই জুলাই সনদ কিন্তু কোনো কবিতা না, কোনো রাজনৈতিক রেটোরিক না, এটা আমাদের পরবর্তীতে বাঁচার সনদ। এটা দ্বিতীয় বাংলাদেশের তফশিল, তাই জুলাই সনদ দিতেই হবে।

উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা সামনে বড় বড কথা বলে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ইন্টারনাল নেগোসিয়েশন চলে। তারা একে নিয়ে, ওকে নিয়ে অনেক বড় কথা বলে কিন্তু ভেতরে ভেতরে একসাথে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালায়। আমরা কখনো লড়াইয়ে স্লো হয়ে গেলে দেখা যায় পুরাতন এস্টাবলিশমেন্ট ঐক্যবদ্ধ ভাবে ভাগ-বাঁটোয়ারার পার্সেন্টেজ চেঞ্জ করে। কিন্তু চাদাবাজি, সিন্ডিকেট, দখলদারিত্ব সব আগের মতোই চলে।

এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরাই আমাদের প্রধান অনুপ্রেরণা ও শক্তি। সম্মিলিত লড়াইয়ের মাধ্যমেই আমরা গণঅভ্যুত্থান সফল করতে পেরেছি। আমরা গণঅভ্যুত্থানকে শুধু রেজিম চেঞ্জ হিসেবে দেখি না। আমাদের বিশ্বাস, এই আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, রাষ্ট্রের কাঠামোয় সংস্কার হবে। এই অভ্যুত্থানের প্রধান বৈধতা বা লেজিটিমেসি এসেছে ছাত্রদের কাছ থেকেই। গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের সেই নেতৃত্বের বিকাশের জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রয়োজন। নিজের মতপ্রকাশের অধিকারের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার এবং অধিকারের জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আপনারা সরব হোন, আমরা আপনাদের দাবির সঙ্গে আছি।’

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবো – ইবিতে হাসনাত

আপডেট সময় : ০২:১০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

মুক্তিচিন্তার পরিবেশ উন্মুক্ত রেখে দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, “যারা আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করতে চায়, সমাজে তাদের একসেস আর থাকবে না। কিন্তু আমাদের মতপার্থক্যকে আমরা এন্টারটেইন করবো। আমরা প্রশ্ন করবো, দ্বিতীয় প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবো। সবাই আমার সাথে একমত হবে এটা মুখ্য বিষয় না। যারা নেকাব করে তাদের স্বাধীনতা যেমন থাকবে, যারা করতে চাইবে না তাদের স্বাধীনতাও থাকবে। ”

গতকাল রাত ১১ টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা প্রমুখ।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, একটা সিটের বিনিময়ে বা ভালো রেজাল্টের বিনিময়ে নিজের মেরুদণ্ড বিক্রি করে দিয়েন না। আমরা আবার সেই বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইনা যে বাংলাদেশে একটা স্ট্যাটাস দিলে সিনিয়ররা রুম থেকে ডেকে নিয়ে তা ডিলিট ত করায় ই, এমনকি হল থেকে বের করে দেয়। পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনাদের সাথে আমাদের দেখা হবে, আপনাদের প্রশ্নের উর্ধ্বে আমরা উঠতে পারব না।

জুলাই সনদ দেওয়া না হলে পেছনে ফেরার কোনো উপায় থাকবে না উল্লেখ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, জুলাই সনদের জন্য আবার ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে মিলিত হব। ড. ইউনূসকে বলেছি—এই জুলাই সনদ কিন্তু কোনো কবিতা না, কোনো রাজনৈতিক রেটোরিক না, এটা আমাদের পরবর্তীতে বাঁচার সনদ। এটা দ্বিতীয় বাংলাদেশের তফশিল, তাই জুলাই সনদ দিতেই হবে।

উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা সামনে বড় বড কথা বলে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ইন্টারনাল নেগোসিয়েশন চলে। তারা একে নিয়ে, ওকে নিয়ে অনেক বড় কথা বলে কিন্তু ভেতরে ভেতরে একসাথে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালায়। আমরা কখনো লড়াইয়ে স্লো হয়ে গেলে দেখা যায় পুরাতন এস্টাবলিশমেন্ট ঐক্যবদ্ধ ভাবে ভাগ-বাঁটোয়ারার পার্সেন্টেজ চেঞ্জ করে। কিন্তু চাদাবাজি, সিন্ডিকেট, দখলদারিত্ব সব আগের মতোই চলে।

এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরাই আমাদের প্রধান অনুপ্রেরণা ও শক্তি। সম্মিলিত লড়াইয়ের মাধ্যমেই আমরা গণঅভ্যুত্থান সফল করতে পেরেছি। আমরা গণঅভ্যুত্থানকে শুধু রেজিম চেঞ্জ হিসেবে দেখি না। আমাদের বিশ্বাস, এই আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, রাষ্ট্রের কাঠামোয় সংস্কার হবে। এই অভ্যুত্থানের প্রধান বৈধতা বা লেজিটিমেসি এসেছে ছাত্রদের কাছ থেকেই। গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের সেই নেতৃত্বের বিকাশের জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রয়োজন। নিজের মতপ্রকাশের অধিকারের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার এবং অধিকারের জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আপনারা সরব হোন, আমরা আপনাদের দাবির সঙ্গে আছি।’