নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ব্যস্ততম সড়ক মোগরাপাড়া থেকে বৈদ্যেরবাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশটি এখন অবৈধ ড্রেজার পাইপলাইনের কবলে। মাত্র এক কিলোমিটার এলাকায় তিনটি স্থানে রাস্তা কেটে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে বালুবাহী পাইপ, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নিম্নোক্ত তিনটি স্থানে দুই পাশেই পাইপ বসানো হয়েছে—
১. সোনারগাঁ থানার সামনে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে,
২. হাতকোপা এলাকায়, রাস্তার নিচ দিয়ে ও
৩. পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন, বৃহৎ পাইপলাইন স্থাপন।
স্থানীয়রা জানান, এসব পাইপলাইন সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বাঁধা সৃষ্টি করছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের যাতায়াতে নিত্যদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির দুই পাশে রয়েছে—সোনারগাঁ থানা, উপজেলা পরিষদ, এসিল্যান্ড অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। স্থানীয় আদালত, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান।
তবে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করতে গিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা জানান, কাজের সঠিক তদারকি না থাকায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছে না।
আইনের দৃষ্টিতে এসব কার্যক্রম গুরুতর অপরাধ, দণ্ডবিধি ১৮৬০ ধারা ৪২৭: সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি – ২ বছর জেল, ধারা ৪৩০: জনসাধারণের ব্যবহারের রাস্তায় ক্ষতি – ৫ বছর জেল, ভূমি ব্যবহার ও সংরক্ষণ আইন, ২০০১: সরকারি জমিতে অবৈধ কার্যক্রম – ২ বছর জেল বা মোটা অংকের জরিমানা, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০): পরিবেশ ক্ষতির জন্য – ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা জেল, সওজ নীতিমালা: অনুমতি ছাড়া রাস্তা কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ, উচ্ছেদ ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান রয়েছে।
প্রশাসনের নীরবতায় জনমনে প্রশ্ন- পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে এমনকি থানার সামনে এবং এসিল্যান্ড অফিস সংলগ্ন এলাকাতেও, অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাই এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এটা কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, না কি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব হচ্ছে?
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য- সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “সড়কে পাইপ বসানো নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঞ্জুরুল মোর্শেদ-এর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এছাড়া সওজের নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহরিয়ার-এর সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।
জনগণের দাবি: অবৈধ পাইপলাইন দ্রুত অপসারণ, রাস্তা কাটা ও নিম্নমানের কাজের তদন্ত, ঠিকাদার ও সওজ কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত, জনসাধারণের চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রশাসনের জোরালো ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বর্তমানে এলাকাবাসীর জোরালো দাবি—আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
প্রশাসনের নীরবতা দীর্ঘমেয়াদে জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
“আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তবে এই বেআইনি কাজের দায় কোনোভাবেই এড়ানো চলবে না”—মন্তব্য করেছেন আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা।
























