১১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাটহাজারীতে সম্পত্তির জেরে ভাইয়ের হামলায় আহত বোনের মৃত্যু, গর্ভপাত অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূর

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় বোনকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে কাতারপ্রবাসী ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় আহত হন নিহতের অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূও, যিনি মারধরের ফলে গর্ভে থাকা তিন মাসের সন্তান হারান।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ জুন (শুক্রবার) রাত ১০টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জান আলি চৌধুরী বাড়িতে। গত মঙ্গলবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় গুরুতর আহত হোসনে আরা বেগমের (৬০)। তিনি ওই বাড়ির মৃত ইমাম শরীফের মেয়ে ও মো. হোসেনের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাতে এশার নামাজ শেষে নিজের কক্ষে দোয়া করছিলেন হোসনে আরা। এ সময় তার ছোট ভাই কাতারপ্রবাসী আমির হোসেন (৫৫) ও তার স্ত্রী মুন্নি আকতার (৪৫) ঘরে ঢুকে আগরবাতি জ্বালানোর অজুহাতে তাকে লাঠি দিয়ে মাথা ও শরীরে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
শাশুড়িকে রক্ষা করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা রোশা আক্তার (৩২)। অভিযোগ রয়েছে, তাকে বুকে ও পেটে লাথি মারা হয়, যার ফলে হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, তার গর্ভস্থ সন্তান মারা গেছে।
ঘটনার পর আহতদের প্রথমে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়া হয়। হোসনে আরার অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। প্রায় ২৫ দিন পর ৯ জুলাই দুপুরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, পৈতৃক ভিটায় বসবাস করায় দীর্ঘদিন ধরে আমির হোসেন ও তার স্ত্রী মুন্নি বেগম হোসনে আরাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। রমজানের আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরেই আমির হুমকি-ধমকির মাত্রা বাড়ান। ঘটনার আগের দিন রাতেও বাড়ির চারপাশ ঘুরে অবস্থান বুঝে হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় হোসনে আরার পুত্রবধূ রোশা আক্তার হাটহাজারী মডেল থানায় এবং নিহতের ছেলে চট্টগ্রাম আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—কাতারপ্রবাসী আমির হোসেন, তার স্ত্রী মুন্নি বেগম, ছেলে আরফাত হোসেন, এবং সহযোগী আলি আকবর ও অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছাত্রলীগ নেতা লিটন।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু কাওসার মাহমুদ হোসেন বলেন, “অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
নিহতের ভাই ও বোনেরা জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। প্রবাসী ভাই আমির হোসেন দেশে ফিরে একাধিকবার হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। ঘটনার পরদিন তিনি আবার কাতারে চলে গেছেন বলে তারা জানিয়েছেন। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, বিশেষ করে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।
এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

হাটহাজারীতে সম্পত্তির জেরে ভাইয়ের হামলায় আহত বোনের মৃত্যু, গর্ভপাত অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূর

আপডেট সময় : ০৬:০৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় বোনকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে কাতারপ্রবাসী ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় আহত হন নিহতের অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূও, যিনি মারধরের ফলে গর্ভে থাকা তিন মাসের সন্তান হারান।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ জুন (শুক্রবার) রাত ১০টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জান আলি চৌধুরী বাড়িতে। গত মঙ্গলবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় গুরুতর আহত হোসনে আরা বেগমের (৬০)। তিনি ওই বাড়ির মৃত ইমাম শরীফের মেয়ে ও মো. হোসেনের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাতে এশার নামাজ শেষে নিজের কক্ষে দোয়া করছিলেন হোসনে আরা। এ সময় তার ছোট ভাই কাতারপ্রবাসী আমির হোসেন (৫৫) ও তার স্ত্রী মুন্নি আকতার (৪৫) ঘরে ঢুকে আগরবাতি জ্বালানোর অজুহাতে তাকে লাঠি দিয়ে মাথা ও শরীরে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
শাশুড়িকে রক্ষা করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা রোশা আক্তার (৩২)। অভিযোগ রয়েছে, তাকে বুকে ও পেটে লাথি মারা হয়, যার ফলে হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, তার গর্ভস্থ সন্তান মারা গেছে।
ঘটনার পর আহতদের প্রথমে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়া হয়। হোসনে আরার অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। প্রায় ২৫ দিন পর ৯ জুলাই দুপুরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, পৈতৃক ভিটায় বসবাস করায় দীর্ঘদিন ধরে আমির হোসেন ও তার স্ত্রী মুন্নি বেগম হোসনে আরাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। রমজানের আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরেই আমির হুমকি-ধমকির মাত্রা বাড়ান। ঘটনার আগের দিন রাতেও বাড়ির চারপাশ ঘুরে অবস্থান বুঝে হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় হোসনে আরার পুত্রবধূ রোশা আক্তার হাটহাজারী মডেল থানায় এবং নিহতের ছেলে চট্টগ্রাম আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—কাতারপ্রবাসী আমির হোসেন, তার স্ত্রী মুন্নি বেগম, ছেলে আরফাত হোসেন, এবং সহযোগী আলি আকবর ও অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছাত্রলীগ নেতা লিটন।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু কাওসার মাহমুদ হোসেন বলেন, “অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
নিহতের ভাই ও বোনেরা জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। প্রবাসী ভাই আমির হোসেন দেশে ফিরে একাধিকবার হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। ঘটনার পরদিন তিনি আবার কাতারে চলে গেছেন বলে তারা জানিয়েছেন। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, বিশেষ করে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।
এমআর/সবা