০১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আবু সাঈদ হত্যাকান্ডের বিচার হবে: ড.আসিফ নজরুল

ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, শেখ হাসিনা কথায় কথায় তার বাবার মৃত্যুর কথা বলতেন। এরপরও তার বাবার হত্যার
বিচার করতে সাড়ে তিন বছর সময় লেগেছে। আমরা সেই শেখ হাসিনার আমলে বিচার করতে
আসিনি। আমরা সারা পৃথিবীর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এমন একটি বিচার করতে চাই। আমরা
আশাবাদী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে আবু সাঈদ হত্যাকান্ডের বিচার আপনারা দেখে
যাবেন। আজ ১৬ জুলাই বুধবার দুপুরে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের প্রথম শাহাদত বার্ষিকী ও জুলাই
শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আয়োজিত
আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, আবু সাঈদের মৃত্যুর
ভিডিও দেখে একজন অভিভাবক হিসেবে বসে থাকতে পারিনি। আমার মনে হয়েছিল, আমাদের আর
ভয় পাওয়ার অধিকার নেই। আবু সাঈদের আদর্শ ছিল সত্য ও ন্যায়ের। মৃত্যুর জন্য সে প্রস্তুত ছিল।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বহু মানুষ বহু ভাবে মারা যায়। কিন্তু তার মতো এভাবে
কেউ মারা যাননি। এটা জেনে শতশত তরুণ আত্মত্যাগ করেছে। আবু সাঈদ হত্যাকান্ডের বিচার
কাজ পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলছে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শহীদ আবু সাঈদের
বাবা মকবুল হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকত আলী।
এসময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু
পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের
(ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব
সিদ্দিক জোবায়ের ও মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. তানজীমউদ্দীন খান প্রমুখ। এর আগে
বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় পীরগঞ্জের জাফরপাড়ায় আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও ফুলেল শ্রদ্ধা জানান
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ৯টায়
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কালো ব্যাজ ধারণ করে একটি শোক র‍্যালি বের করা হয়। সকাল সাড়ে
১০টায় উদ্বোধন করা হয় আবু সাঈদ তোরণ ও মিউজিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর এবং তার নিহত হওয়ার
স্থানে আবু সাঈদ চত্ত্বর ঘোষণার মাধ্যমে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়। এদিকে
জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে ভোর থেকেই শহীদ আবু সাঈদের কবরের চারপাশে নীরবতা ভাঙে কান্না,
শোক আর শ্রদ্ধার স্রোতে। শহীদ আবু সাঈদের কবরে ফুল হাতে দাঁড়িয়েছিলেন তার মা-বাবা,
শিক্ষক, সহপাঠী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, বিএনপি, ছাত্রদলসহ
বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী এবং ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা
জুলাই আন্দোলনের মহানায়কের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আবু সাঈদ হত্যাকান্ডের বিচার হবে: ড.আসিফ নজরুল

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, শেখ হাসিনা কথায় কথায় তার বাবার মৃত্যুর কথা বলতেন। এরপরও তার বাবার হত্যার
বিচার করতে সাড়ে তিন বছর সময় লেগেছে। আমরা সেই শেখ হাসিনার আমলে বিচার করতে
আসিনি। আমরা সারা পৃথিবীর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এমন একটি বিচার করতে চাই। আমরা
আশাবাদী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে আবু সাঈদ হত্যাকান্ডের বিচার আপনারা দেখে
যাবেন। আজ ১৬ জুলাই বুধবার দুপুরে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের প্রথম শাহাদত বার্ষিকী ও জুলাই
শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আয়োজিত
আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, আবু সাঈদের মৃত্যুর
ভিডিও দেখে একজন অভিভাবক হিসেবে বসে থাকতে পারিনি। আমার মনে হয়েছিল, আমাদের আর
ভয় পাওয়ার অধিকার নেই। আবু সাঈদের আদর্শ ছিল সত্য ও ন্যায়ের। মৃত্যুর জন্য সে প্রস্তুত ছিল।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বহু মানুষ বহু ভাবে মারা যায়। কিন্তু তার মতো এভাবে
কেউ মারা যাননি। এটা জেনে শতশত তরুণ আত্মত্যাগ করেছে। আবু সাঈদ হত্যাকান্ডের বিচার
কাজ পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলছে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শহীদ আবু সাঈদের
বাবা মকবুল হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকত আলী।
এসময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু
পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের
(ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব
সিদ্দিক জোবায়ের ও মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. তানজীমউদ্দীন খান প্রমুখ। এর আগে
বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় পীরগঞ্জের জাফরপাড়ায় আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও ফুলেল শ্রদ্ধা জানান
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ৯টায়
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কালো ব্যাজ ধারণ করে একটি শোক র‍্যালি বের করা হয়। সকাল সাড়ে
১০টায় উদ্বোধন করা হয় আবু সাঈদ তোরণ ও মিউজিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর এবং তার নিহত হওয়ার
স্থানে আবু সাঈদ চত্ত্বর ঘোষণার মাধ্যমে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়। এদিকে
জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে ভোর থেকেই শহীদ আবু সাঈদের কবরের চারপাশে নীরবতা ভাঙে কান্না,
শোক আর শ্রদ্ধার স্রোতে। শহীদ আবু সাঈদের কবরে ফুল হাতে দাঁড়িয়েছিলেন তার মা-বাবা,
শিক্ষক, সহপাঠী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, বিএনপি, ছাত্রদলসহ
বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী এবং ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা
জুলাই আন্দোলনের মহানায়কের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন।