০১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হালদা নদীর বাঁধে ফের ফাটল, আতঙ্কে পাঁচ শতাধিক পরিবার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভূজপুর ইউনিয়নের সিংহরিয়া এলাকায় হালদা নদীর দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বাঁধে ফের ফাটল দেখা দিয়েছে। গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় এই জায়গা দিয়েই বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছিল আশপাশের এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও গবাদিপশু। সেই ক্ষতির ধাক্কা থেকে এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে।

সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে এবং পাহাড়ি ঢলে আবারও পুরনো ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও কোথাও বাঁধ ধসে পড়েছে। এতে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার নতুন করে পানিবন্দি হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত বছর বন্যার পর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও ব্যাগ দিয়ে অস্থায়ী সংস্কার করলেও তা স্রোতে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাবাসীর আতঙ্ক কমেনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধে বড় ফাটল ও জিও ব্যাগ সরে যাওয়ার ফলে বাঁধ আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় বাঁধই স্থানীয়দের চলাচলের একমাত্র পথ ছিল। বাঁধ ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া, বাজারে যাওয়া-আসা সবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় পাখি বালা বড়ুয়া বলেন, “দুই বছর ধরে জিও ব্যাগ দিয়ে সামান্য সংস্কার করা হলেও তা টেকে না। এবার যদি বাঁধ ভেঙে যায়, সন্তানদেরও রক্ষা করতে পারব না।”

কৃষক দিদারুল আলমের আশঙ্কা, “তিন একর জমিতে ধান লাগাতে চাচ্ছি, কিন্তু বাঁধ ভাঙলে সব শেষ হয়ে যাবে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লোকমান বলেন, “স্থায়ীভাবে কংক্রিট ব্লক দিয়ে বাঁধ সংস্কার না করলে এলাকাবাসী রক্ষা পাবে না।”

পাউবো ফটিকছড়ির প্রকৌশলী সোহাগ তালুকদার জানান, “ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারে ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছি। তবে স্থায়ী সংস্কারের জন্য নতুন বরাদ্দ প্রয়োজন।”

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

হালদা নদীর বাঁধে ফের ফাটল, আতঙ্কে পাঁচ শতাধিক পরিবার

আপডেট সময় : ০৭:০১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভূজপুর ইউনিয়নের সিংহরিয়া এলাকায় হালদা নদীর দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বাঁধে ফের ফাটল দেখা দিয়েছে। গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় এই জায়গা দিয়েই বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছিল আশপাশের এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও গবাদিপশু। সেই ক্ষতির ধাক্কা থেকে এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে।

সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে এবং পাহাড়ি ঢলে আবারও পুরনো ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও কোথাও বাঁধ ধসে পড়েছে। এতে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার নতুন করে পানিবন্দি হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত বছর বন্যার পর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও ব্যাগ দিয়ে অস্থায়ী সংস্কার করলেও তা স্রোতে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাবাসীর আতঙ্ক কমেনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধে বড় ফাটল ও জিও ব্যাগ সরে যাওয়ার ফলে বাঁধ আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় বাঁধই স্থানীয়দের চলাচলের একমাত্র পথ ছিল। বাঁধ ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া, বাজারে যাওয়া-আসা সবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় পাখি বালা বড়ুয়া বলেন, “দুই বছর ধরে জিও ব্যাগ দিয়ে সামান্য সংস্কার করা হলেও তা টেকে না। এবার যদি বাঁধ ভেঙে যায়, সন্তানদেরও রক্ষা করতে পারব না।”

কৃষক দিদারুল আলমের আশঙ্কা, “তিন একর জমিতে ধান লাগাতে চাচ্ছি, কিন্তু বাঁধ ভাঙলে সব শেষ হয়ে যাবে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লোকমান বলেন, “স্থায়ীভাবে কংক্রিট ব্লক দিয়ে বাঁধ সংস্কার না করলে এলাকাবাসী রক্ষা পাবে না।”

পাউবো ফটিকছড়ির প্রকৌশলী সোহাগ তালুকদার জানান, “ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারে ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছি। তবে স্থায়ী সংস্কারের জন্য নতুন বরাদ্দ প্রয়োজন।”

এমআর/সবা