০১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দেয়াল নির্মাণে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ক্ষোভ

Oplus_131072

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রুপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে পাকা দেয়াল নির্মাণ করছে পাশের রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

জানা যায়, ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রুপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্রছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুতফুন্নাহার জানান, বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত ৫০ ডিসিমল জমির মধ্যে ৩০ ডিসিমলের খাজনা সরকারি ভাবে পরিশোধ করা হলেও, বাকি ২০ ডিসিমল জমি খাস হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত পাশের রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ইতিপূর্বে এই জমিতে গেট ও পাঠাগার নির্মাণ করেছিল। এবার তারা একতরফাভাবে প্রায় ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৬ ফুট উচ্চতার দেয়াল তুলছে, যা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘২০২০ সালে জমি পরিমাপের আবেদন করা হয়েছিল। ২০২১ সালে ভূমি অফিস থেকে পরিমাপের নোটিশ এলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।’ তিনি লিখিতভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিষয়টি অবহিত করেছেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে অভিভাবক আবিল হোসেন বলেন, ‘আমিও এই স্কুলের ছাত্র ছিলাম। তখন এখানে মাঠে খেলাধুলা করতাম। এখন যদি দেয়াল তোলা হয়, তাহলে শিশুদের খেলার জায়গা, সমাবেশের স্থান কিছুই থাকবে না। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনের কিছু অংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে তৈরি হয়েছে। দেয়াল তোলার ফলে এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাত্র ২০-২৫ ফুট জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে।

এ ব্যাপারে ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সফি উদ্দিন মাহি দাবি করেন, ‘পাঁচ বছর আগে ইউএনও ও ভূমি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সমঝোতা অনুযায়ী এই জমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি আসার অনেক আগেই এ বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে। আমি কোনো দেয়াল নির্মাণের অনুমতি দিইনি। আগের ইউএনও ও ভূমি অফিস যা করেছে, সেই মোতাবেক তারা কাজ করছে।’

এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ কেটে দেয়াল নির্মাণ হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ও মানসিক বিকাশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দেয়াল নির্মাণে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৫:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রুপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে পাকা দেয়াল নির্মাণ করছে পাশের রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

জানা যায়, ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রুপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্রছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুতফুন্নাহার জানান, বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত ৫০ ডিসিমল জমির মধ্যে ৩০ ডিসিমলের খাজনা সরকারি ভাবে পরিশোধ করা হলেও, বাকি ২০ ডিসিমল জমি খাস হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত পাশের রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ইতিপূর্বে এই জমিতে গেট ও পাঠাগার নির্মাণ করেছিল। এবার তারা একতরফাভাবে প্রায় ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৬ ফুট উচ্চতার দেয়াল তুলছে, যা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘২০২০ সালে জমি পরিমাপের আবেদন করা হয়েছিল। ২০২১ সালে ভূমি অফিস থেকে পরিমাপের নোটিশ এলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।’ তিনি লিখিতভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিষয়টি অবহিত করেছেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে অভিভাবক আবিল হোসেন বলেন, ‘আমিও এই স্কুলের ছাত্র ছিলাম। তখন এখানে মাঠে খেলাধুলা করতাম। এখন যদি দেয়াল তোলা হয়, তাহলে শিশুদের খেলার জায়গা, সমাবেশের স্থান কিছুই থাকবে না। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনের কিছু অংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে তৈরি হয়েছে। দেয়াল তোলার ফলে এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাত্র ২০-২৫ ফুট জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে।

এ ব্যাপারে ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সফি উদ্দিন মাহি দাবি করেন, ‘পাঁচ বছর আগে ইউএনও ও ভূমি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সমঝোতা অনুযায়ী এই জমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি আসার অনেক আগেই এ বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে। আমি কোনো দেয়াল নির্মাণের অনুমতি দিইনি। আগের ইউএনও ও ভূমি অফিস যা করেছে, সেই মোতাবেক তারা কাজ করছে।’

এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ কেটে দেয়াল নির্মাণ হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ও মানসিক বিকাশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

এমআর/সবা