মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান খানকে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২৩ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে সিংগাইর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ছাত্রীদের বয়স মাত্র ১৩ বছর। ঘটনাটি জানাজানির পর ১৩ জুলাই এবং পরদিন ছাত্রীদের অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউএনও তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. আব্দুল্লাহ বিন শফিক। তদন্ত চলাকালীন উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়।
ছাত্রীদের পরিবারের অভিযোগ, মনিরুজ্জামান খান মেসেঞ্জার ও মোবাইল ফোনে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর বার্তা পাঠান। এতে মেয়েরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, “একজন শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও লজ্জাজনক।”
এছাড়া, একজন নারী সরকারি কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, তার সঙ্গেও মনিরুজ্জামান একই ধরনের অনৈতিক আচরণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মনিরুজ্জামান ‘ইয়ার্কি-ফাইজলামি’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, “আমি অন্যায় করেছি, ডিপার্টমেন্ট আমাকে শাস্তি দেবে। তবে দয়া করে সংবাদটি আপনার পত্রিকায় প্রকাশ করবেন না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, “অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে নেয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
এমআর/সবা






















