কক্সবাজার শহরে দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে নতুন পানি শোধনাগার ডিসেম্বরে চালু হতে যাচ্ছে।
এতে প্রথম সংযোগ দেয়া হবে ৫ হাজার হোল্ডিং পয়েন্ট। ডিসেম্বরের মধ্যেই শোধনাগার চালু করার প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। ঘন্টায় ১ লক্ষ লিটার বাঁকখালী নদীর পানি উত্তোলন করে পরিশোধিত করা হবে।
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১৫০ কোটি টাকায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে।
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজায় ২ একর জমির ওপর নির্মিত ১৫০ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি শুরু হয় ২০২২ সালে এতে অর্থায়ন করে এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর (ডিপিএইচই) কক্সবাজার পৌর এলাকায় মোট ৬৮ লাখ লিটার ধারণ ক্ষমতার পাঁচটি পানির ট্যাংক স্থাপন করছে। শহরের বাস ট্রমিনাল, হাসেমিয়া মাদ্রাসা, স্টেডিয়াম, সুগন্ধা পয়েন্ট ও ঘোনার পাড়ার টাংকি পাহাড়ে।
প্রকল্পটিতে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছেন একযোগে।
ভুমি অবকাঠামো শেষ হয়েছে গত ১বছর আগে। পানি পরিশোধন ট্যঙ্ক, স্টক হাউস সহ পরিশোধিত করার মটর সংযোগ ঠিক থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে ট্রায়ালে যেতে পারছে না কতৃপক্ষ। বাঁকখালী নদীর পানি উত্তোলন পয়েন্টের পাম্প হাউসে বৈদ্যুতিক মিটার সংযোগ দেয়ার কথা গত রবিবার। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্ম বিরতিতে থাকার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ পিছিয়ে গেছে। অপরদিকে বাসা বাড়ির সংযোগ পাইপলাইন বসানোর কাজ ও চলছে খুব জোরে সুরে। ডিসেম্বর নাগাদ পরীক্ষামূলক উৎপাদন (ট্রায়াল রান) শুরু করে ধাপে ধাপে শহরের প্রতিটি পরিবারে সংযোগ দেওয়া হবে।এমনটি জানান দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিরা।
শুধু শোধনাগার নয়, শহরজুড়ে পানির জোগান বাড়াতে কয়েকটি সহায়ক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে
৬০০ কোটি টাকার আরো একটি প্রকল্পের আওতায় ৩২টি পানি সরবরাহ কার্যক্রম এবং ২ হাজার ২০০টি কমিউনিটি টিউবওয়েল স্থাপনের কাজও চলছে যা শহরের বাহিরে গ্রামিন এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে। বিশেষত সংকটাপন্ন পাড়াগুলোতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে পারে বলে জানান।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবুল মনজুর বলেন, কোন জায়গায় পানির সমস্যাটা বেশি, ওই হিসেবে আমরা টোটাল মাস্টারপ্ল্যানটা করেছি। আমরা প্রথমে ফার্স্ট প্রায়োরোটি হিসেবে হোটেল-মোটেল জোন থেকে শুরু করেছি। এর পর আমরা তিন ও চার নম্বর ওয়ার্ডে যাব। পরে আলটিমেটলি আগামী তিন মাসের মধ্যে এই কাজটা শেষ করে ট্রায়াল রানে যাব। আশা করি, তেমন আর পানির সমস্যা থাকবে না। বিদ্যুৎ সংযোগটি পেয়ে গেলে আমরা ট্রায়ালরান করতে পারবো আশাকরি।
কক্সবাজার শহরের মানুষ বহুদিন ধরে পানির সংকটে ভুগছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূগর্ভস্ত পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায়
সদর উপজেলা গেইট হতে নুনিয়ার ছড়া পযন্ত বিশেষ করে টেকপাড়া, পেশাকার পাড়া, বড় বাজার, এন্ডারসন রোড, নতুন বাহার ছড়া ফিশারিঘাট পযন্ত এলাকা গুলোতে সুপেয় পানির সংকট চরমে। শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকার চিত্র ও একই।
স্থানীয় বাসিন্দা বৃহত্তর টেকপাড়া জনকল্যাণ সমাজ কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, আমাদের টেকপাড়াতে অনেক বছর ধরে পানির সমস্যা। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় আমরা পানি পাচ্ছি না। যতটুকু পাওয়া যায় তাও লবনাক্ততার জন্য ব্যবহার করা যায় না।
সমাজ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগে আমাদের সবার ঘরে ঘরে টিউবওয়েল ছিল। এখন পানি লবণাক্ত হয়ে গেছে। পাড়ার সবাই আমরা কক্সবাজার পৌরসভার দেয়া গভীর নলকূপটি ব্যবহার করি। এই কলটাতেও চাহিদা মতো পানি পাওয়া যায় না।
স্থানীয়রা বলছেন, শোধনাগার চালু হলে শহরের সংকট অনেকটাই কমবে। তবে তারা চান, পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত সংযোগ পৌঁছাক সব সংকটাপন্ন এলাকা গুলোতে।
বিশেষ করে কক্সবাজার পৌর শহরের প্রতিটি ওয়ার্ড মহল্লার ঘরে ঘরে শোধিত পানি নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করে এখন এটাই তাদের প্রত্যাশা।




















