০৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেরীঘাটে দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি নিরসনে একমাত্র সমাধান ব্রীজ নির্মাণ

oplus_2

রাঙামাটির কাপ্তাই ফেরীঘাট এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ভোগান্তি আজ যেন স্থানীয়দের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেরী চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে নদীর দুই তীরের মানুষজন পড়েন চরম দুর্ভোগে। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে দেখা দেয় অচলাবস্থা। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ পথে যাতায়াত করেন, কিন্তু ফেরীর ওপর নির্ভরশীলতা হওয়ায় সামান্য প্রাকৃতিক কারণে বা পানি প্রবাহ বেড়ে গেলেই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
স্থানীয়রা বহুদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন, এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে নদীর ওপর স্থায়ী একটি ব্রীজ নির্মাণ। তারা জানান, প্রতিবার বর্ষা মৌসুমে ফেরী চলাচল ব্যাহত হয়, আর তখন ভোগান্তির মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পণ্য পরিবহনেও দেখা দেয় বিপর্যয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাজারে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, “আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ফেরীর কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পণ্য আসতে দেরি হয়, খরচ বেড়ে যায়, অনেক সময় পণ্য নষ্টও হয়ে যায়। স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই সমস্যা দূর হবে না।”
অন্যদিকে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরাও একই সুরে বলেন, ফেরী বন্ধ থাকলে তাদের নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা অফিসে উপস্থিত হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনে বিঘ্ন ঘটে।
ব্রীজ নির্মাণের দাবি সমর্থন করে স্থানীয়দের বক্তব্য—
যাত্রী সেলিম উদ্দিন বলেন, “সকাল-বিকেল ফেরী নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক সময় জরুরি কাজে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। স্থায়ী ব্রিজ হলে এই সমস্যার আর সমাধান হবে।”
কলেজছাত্রী মিমি চাকমা জানান, “পরীক্ষার দিন ফেরী বন্ধ থাকলে আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। তখন মনে হয় পড়াশোনা আর ক্যারিয়ার সবই অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে।”
ব্যবসায়ী অমল কান্তি দে বলেন, “পণ্য আনার পথে ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরীতে আটকে থাকতে হয়। এতে খরচ বাড়ে, ক্ষতি হয়। দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।”
সেতু নির্মাণের দাবিতে ভোগান্তির চিত্র…….
স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির অন্যতম হলো নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ। বর্তমানে সেতু না থাকায় এলাকাবাসী প্রতিদিন চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছে। নদী পারাপারের জন্য নৌযানের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে এ ভোগান্তি আরও প্রকট হয়ে দেখা দেয়। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে আনার ক্ষেত্রে বাড়তি খরচ বহন করছেন, ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বছরের পর বছর ধরে ব্রীজ নির্মাণের দাবি উঠলেও তা এখনো বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবি করছেন, এই সমস্যার গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকারকে দ্রুত ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ একমাত্র স্থায়ী সেতুই পারে এ অঞ্চলের মানুষের বহুকাল ধরে চলা যাতায়াত সংকটের সমাধান করতে।
সচেতন মহল মনে করেন, রাঙামাটির অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিক্ষা বিস্তার ও স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হলে কাপ্তাই ফেরীঘাট এলাকায় স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। তা না হলে প্রতি বছর বর্ষায় হাজারো মানুষ একই ভোগান্তি পোহাতে থাকবে, যার প্রভাব পড়বে সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে।
এলাকাবাসীর দাবি, কর্ণফুলী নদীর উপরে যদি সেতু নির্মিত হলে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। এতে রোগী দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন কমবে এবং কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ সহজ হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম-২ আসন: বিএনপি-জামায়াতসহ ৩ প্রার্থী বৈধ, ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল

ফেরীঘাটে দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি নিরসনে একমাত্র সমাধান ব্রীজ নির্মাণ

আপডেট সময় : ০৩:১৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাঙামাটির কাপ্তাই ফেরীঘাট এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ভোগান্তি আজ যেন স্থানীয়দের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেরী চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে নদীর দুই তীরের মানুষজন পড়েন চরম দুর্ভোগে। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে দেখা দেয় অচলাবস্থা। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ পথে যাতায়াত করেন, কিন্তু ফেরীর ওপর নির্ভরশীলতা হওয়ায় সামান্য প্রাকৃতিক কারণে বা পানি প্রবাহ বেড়ে গেলেই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
স্থানীয়রা বহুদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন, এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে নদীর ওপর স্থায়ী একটি ব্রীজ নির্মাণ। তারা জানান, প্রতিবার বর্ষা মৌসুমে ফেরী চলাচল ব্যাহত হয়, আর তখন ভোগান্তির মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পণ্য পরিবহনেও দেখা দেয় বিপর্যয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাজারে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, “আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ফেরীর কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পণ্য আসতে দেরি হয়, খরচ বেড়ে যায়, অনেক সময় পণ্য নষ্টও হয়ে যায়। স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই সমস্যা দূর হবে না।”
অন্যদিকে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরাও একই সুরে বলেন, ফেরী বন্ধ থাকলে তাদের নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা অফিসে উপস্থিত হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনে বিঘ্ন ঘটে।
ব্রীজ নির্মাণের দাবি সমর্থন করে স্থানীয়দের বক্তব্য—
যাত্রী সেলিম উদ্দিন বলেন, “সকাল-বিকেল ফেরী নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক সময় জরুরি কাজে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। স্থায়ী ব্রিজ হলে এই সমস্যার আর সমাধান হবে।”
কলেজছাত্রী মিমি চাকমা জানান, “পরীক্ষার দিন ফেরী বন্ধ থাকলে আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। তখন মনে হয় পড়াশোনা আর ক্যারিয়ার সবই অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে।”
ব্যবসায়ী অমল কান্তি দে বলেন, “পণ্য আনার পথে ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরীতে আটকে থাকতে হয়। এতে খরচ বাড়ে, ক্ষতি হয়। দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।”
সেতু নির্মাণের দাবিতে ভোগান্তির চিত্র…….
স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির অন্যতম হলো নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ। বর্তমানে সেতু না থাকায় এলাকাবাসী প্রতিদিন চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছে। নদী পারাপারের জন্য নৌযানের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে এ ভোগান্তি আরও প্রকট হয়ে দেখা দেয়। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে আনার ক্ষেত্রে বাড়তি খরচ বহন করছেন, ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বছরের পর বছর ধরে ব্রীজ নির্মাণের দাবি উঠলেও তা এখনো বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবি করছেন, এই সমস্যার গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকারকে দ্রুত ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ একমাত্র স্থায়ী সেতুই পারে এ অঞ্চলের মানুষের বহুকাল ধরে চলা যাতায়াত সংকটের সমাধান করতে।
সচেতন মহল মনে করেন, রাঙামাটির অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিক্ষা বিস্তার ও স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হলে কাপ্তাই ফেরীঘাট এলাকায় স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। তা না হলে প্রতি বছর বর্ষায় হাজারো মানুষ একই ভোগান্তি পোহাতে থাকবে, যার প্রভাব পড়বে সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে।
এলাকাবাসীর দাবি, কর্ণফুলী নদীর উপরে যদি সেতু নির্মিত হলে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। এতে রোগী দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন কমবে এবং কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ সহজ হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।