লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কীটনাশক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অমান্য করে তিনি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স প্রদান করে আসছেন।
সরকারি বিধান অনুযায়ী নতুন কীটনাশক লাইসেন্সের ফি ৩৪৫ টাকা এবং নবায়নে ২৩০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে, যা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছেন।
পাটগ্রামের কাঁঠালতলী বাজারের ব্যবসায়ী মামুনুর রশীদ অভিযোগ করেন,“লাইসেন্স করার জন্য আমাদের পাঁচজনের কাছ থেকে মোট ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন হামিদুল।”
বাউরা বাজারের ব্যবসায়ী তহিরুল ইসলাম জানান, লাইসেন্স বাবদ তার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী রাসেল বলেন, নবায়নের জন্য তাকে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম বলেন,“আমার কাছে তাদের টাকা জমা আছে, চাইলে ফেরত নিতে পারেন। বিভিন্ন ধাপে টাকা দিতে হয়, তাই অতিরিক্ত নিয়েছি।”
তবে তার এই বক্তব্যে আরও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টাকা সরাসরি ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জমা হয়, সেখানে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বৈধতা কোথায়—তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু পাটগ্রাম নয়, আশপাশের বাজারগুলোর অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই এভাবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে অনেকে ভয়ের কারণে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না।
পাটগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জামিয়ার রহমান বলেন,
“সরকারি নিয়মের বাইরে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এমআর/সবা

























