০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দ্বীপাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি চরমে বহুমুখী সংকটে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে মহেশখালী আদালত ভবন

প্রান্তিক মানুষের সহজে বিচার পাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য রেখেই সরকার মহেশখালী
উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে নির্মাণ করেছিলেন মহেশখালী আদালত ভবন। একসময় এ
আদালত ভবনে ফৌজধারী ও দেওয়ানী দুই মামলার কার্যক্রম চলমান ছিল। ভবনটি অতি
ঝরাঝির্ণ ও ঝুকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ২০১৫ সালে পরিত্যক্ত ঘোষনা পর থেকেই
নতুনভাবে ভবন নির্মাণ না পর্যন্ত আদালতের যাবতীয় কার্যক্রম চলছে ভাড়ায় নেওয়া
উপজেলা পরিষদ ডাক বাংলোর ৪টি কক্ষে। বর্তমানে শুধুমাত্র সিআরপিসির অধীনে
ফৌজধারী কার্যবিধি অনুসারে কাজ চলমান রয়েছে। এজলাস কক্ষে ১০জন মানুষ
একসাথে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই
বললেই চলে। এতো ছোট পরিসরে আদালতের যাবতীয় নথিপত্র গুছিয়ে রাখতে
হিমসিম খেতে হয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের। বিচারপ্রার্থীদের জন্য নেই
শৌচাগার, বসার জন্য নেই উন্মুক্ত কোন জায়গা। দ্বীপের এই আদালত ভবনটি
চলছে বহুমুখী ও সংকট প্রশাসনিক জঠিলতায়। মহেশখালী আদালতের এডভোকেট
ক্লার্ক নিলয় রফিক জানান, এ আদালতে প্রচুর মামলা আছে। দুর দুরন্ত থেকে আশা
সেবা প্রার্থীদের ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বসার জায়গার অভাবে।
বৃষ্টির দিনে সেবা গ্রহীতাদের পড়তে হয় বিপাকে। আলী হোসেন নামের আরেক
সেবাপ্রার্থী জানান, যে দুই একটা ওয়াশরুম আছে সেগুলোও তালামারা থাকায়
বিচার প্রার্থীরা ছন্নছাড়া হয়ে ঘুরাফেরা করে দিক-বেদিক। স্থানীয়দের
অভিযোগ পুরাতন ভবনটি সরকার কর্তৃক ট্রেডার দিলেও প্রশাসনের গাফিলতি,
নজরদারী ও কঠিন হস্তক্ষেপ না থাকায় কন্ট্রাকদার ভবনের নির্মাণের কাজ এখনো
পর্যন্ত চালু করেনি। এমন কঠিন পরিস্থতি বিচারিক কার্যক্রম চালু রাখা কঠিন
মনে করেছেন স্থানীয় আইনজীবিরা। আইনজীবিরা মনে করছেন বিচার বিভাগের
অবকাঠামো উন্নয়ন ও যাবতীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন নিবার্হী
বিভাগ, কাজের অগ্রগতি ও ধীর গতি তাদের উপর নির্ভরশীল। ফলে নানা ধরণের
প্রশাসনিক জঠিলতার মধ্যে দিয়ে চালু আছে মহেশখালী আদালতের বিচারিক
কার্যক্রম। সাবেক বিচারক শাহজাহান সাজু জানান, যদি সুপ্রিম কোর্ট
কিবা সচিবালয় হতো এ জিনিসগুলোর ভালো মনিটরিং হতো, একক কর্তৃত্বে
আলোচনা না করেই এ কাজটি করে ফেলতেন। আমরা যখন আইন মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে
কাজ করতে যায় তখন গণফুর্ত মন্ত্রনালয়ের সাথে যোগাযোগ করতে হয়, তাদের
সাথে আলোচনা করতে হয়। বাজেটের প্রশ্ন থেকে নানা জঠিলতার দোহায় দিয়ে
কাজগুলো স্থবির হয়ে থাকে বছরের পর বছর। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের
আইনজীবি ওমর ফারুক জানান, আমাদের বড় দুর্ভাগ্য বিচার বিভাগের জন্য
বাজেট রেখেছে পার্সেন্ট দুই। অথচ ফোরটি সেভেন পাসেন্ট কাজ হয় যত রকম
প্রশাসনিক ভবন নির্মাণে। সুতরায় এ সমস্যাটি দীর্ঘদিনের পুরানো সমস্যা।

অতি সহায়তা এ ভবনটির কাজ শুরু না হলে দ্বীপাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের
জনদুর্ভোগ আদৌ কমবে কিনা সন্দেহ।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

দ্বীপাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি চরমে বহুমুখী সংকটে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে মহেশখালী আদালত ভবন

আপডেট সময় : ০১:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

প্রান্তিক মানুষের সহজে বিচার পাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য রেখেই সরকার মহেশখালী
উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে নির্মাণ করেছিলেন মহেশখালী আদালত ভবন। একসময় এ
আদালত ভবনে ফৌজধারী ও দেওয়ানী দুই মামলার কার্যক্রম চলমান ছিল। ভবনটি অতি
ঝরাঝির্ণ ও ঝুকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ২০১৫ সালে পরিত্যক্ত ঘোষনা পর থেকেই
নতুনভাবে ভবন নির্মাণ না পর্যন্ত আদালতের যাবতীয় কার্যক্রম চলছে ভাড়ায় নেওয়া
উপজেলা পরিষদ ডাক বাংলোর ৪টি কক্ষে। বর্তমানে শুধুমাত্র সিআরপিসির অধীনে
ফৌজধারী কার্যবিধি অনুসারে কাজ চলমান রয়েছে। এজলাস কক্ষে ১০জন মানুষ
একসাথে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই
বললেই চলে। এতো ছোট পরিসরে আদালতের যাবতীয় নথিপত্র গুছিয়ে রাখতে
হিমসিম খেতে হয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের। বিচারপ্রার্থীদের জন্য নেই
শৌচাগার, বসার জন্য নেই উন্মুক্ত কোন জায়গা। দ্বীপের এই আদালত ভবনটি
চলছে বহুমুখী ও সংকট প্রশাসনিক জঠিলতায়। মহেশখালী আদালতের এডভোকেট
ক্লার্ক নিলয় রফিক জানান, এ আদালতে প্রচুর মামলা আছে। দুর দুরন্ত থেকে আশা
সেবা প্রার্থীদের ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বসার জায়গার অভাবে।
বৃষ্টির দিনে সেবা গ্রহীতাদের পড়তে হয় বিপাকে। আলী হোসেন নামের আরেক
সেবাপ্রার্থী জানান, যে দুই একটা ওয়াশরুম আছে সেগুলোও তালামারা থাকায়
বিচার প্রার্থীরা ছন্নছাড়া হয়ে ঘুরাফেরা করে দিক-বেদিক। স্থানীয়দের
অভিযোগ পুরাতন ভবনটি সরকার কর্তৃক ট্রেডার দিলেও প্রশাসনের গাফিলতি,
নজরদারী ও কঠিন হস্তক্ষেপ না থাকায় কন্ট্রাকদার ভবনের নির্মাণের কাজ এখনো
পর্যন্ত চালু করেনি। এমন কঠিন পরিস্থতি বিচারিক কার্যক্রম চালু রাখা কঠিন
মনে করেছেন স্থানীয় আইনজীবিরা। আইনজীবিরা মনে করছেন বিচার বিভাগের
অবকাঠামো উন্নয়ন ও যাবতীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন নিবার্হী
বিভাগ, কাজের অগ্রগতি ও ধীর গতি তাদের উপর নির্ভরশীল। ফলে নানা ধরণের
প্রশাসনিক জঠিলতার মধ্যে দিয়ে চালু আছে মহেশখালী আদালতের বিচারিক
কার্যক্রম। সাবেক বিচারক শাহজাহান সাজু জানান, যদি সুপ্রিম কোর্ট
কিবা সচিবালয় হতো এ জিনিসগুলোর ভালো মনিটরিং হতো, একক কর্তৃত্বে
আলোচনা না করেই এ কাজটি করে ফেলতেন। আমরা যখন আইন মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে
কাজ করতে যায় তখন গণফুর্ত মন্ত্রনালয়ের সাথে যোগাযোগ করতে হয়, তাদের
সাথে আলোচনা করতে হয়। বাজেটের প্রশ্ন থেকে নানা জঠিলতার দোহায় দিয়ে
কাজগুলো স্থবির হয়ে থাকে বছরের পর বছর। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের
আইনজীবি ওমর ফারুক জানান, আমাদের বড় দুর্ভাগ্য বিচার বিভাগের জন্য
বাজেট রেখেছে পার্সেন্ট দুই। অথচ ফোরটি সেভেন পাসেন্ট কাজ হয় যত রকম
প্রশাসনিক ভবন নির্মাণে। সুতরায় এ সমস্যাটি দীর্ঘদিনের পুরানো সমস্যা।

অতি সহায়তা এ ভবনটির কাজ শুরু না হলে দ্বীপাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের
জনদুর্ভোগ আদৌ কমবে কিনা সন্দেহ।