০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে: গত দেড় মাসেই আক্রান্ত ৬০ শতাংশ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু গত দেড় মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৬০ শতাংশ রোগী। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাও বেড়েছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়েই এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্র স্পষ্ট।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২,১২০ জন। আগস্টে আক্রান্ত হন ৭০৫ জন এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৮ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪০ জন। এই দুই মাসেই ৯ জন মারা গেছেন, যা মোট ১৮ জন মৃত্যুর অর্ধেক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমের কারণে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে। বিশেষ করে ফুলের টব, ডাবের খোসা, গাড়ির টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে মশা ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, তিন দিনের বেশি পানি না জমতে দেওয়া এবং দিনে-রাতে মশারি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।

এদিকে আইইডিসিআর-এর জরিপ বলছে, নগরীর ছয়টি ওয়ার্ডে ১২৮টি বাড়ির মধ্যে ৬২টিতেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এতে মশক নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুত। তবে নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে বাড়িতে কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৪,৩২৩ জন এবং মারা যান ৪৫ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪,০৮৭ জন, মৃত ১০৭ জন। এসব পরিসংখ্যানই সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসনাত আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বহাল, মঞ্জুরুল মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে: গত দেড় মাসেই আক্রান্ত ৬০ শতাংশ

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু গত দেড় মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৬০ শতাংশ রোগী। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাও বেড়েছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়েই এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্র স্পষ্ট।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২,১২০ জন। আগস্টে আক্রান্ত হন ৭০৫ জন এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৮ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪০ জন। এই দুই মাসেই ৯ জন মারা গেছেন, যা মোট ১৮ জন মৃত্যুর অর্ধেক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমের কারণে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে। বিশেষ করে ফুলের টব, ডাবের খোসা, গাড়ির টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে মশা ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, তিন দিনের বেশি পানি না জমতে দেওয়া এবং দিনে-রাতে মশারি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।

এদিকে আইইডিসিআর-এর জরিপ বলছে, নগরীর ছয়টি ওয়ার্ডে ১২৮টি বাড়ির মধ্যে ৬২টিতেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এতে মশক নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুত। তবে নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে বাড়িতে কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৪,৩২৩ জন এবং মারা যান ৪৫ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪,০৮৭ জন, মৃত ১০৭ জন। এসব পরিসংখ্যানই সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

এমআর/সবা