সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ১নং তালম ইউনিয়নের কলামুলা (নামা কলামুলা) গ্রামে সরকারি রাস্তার পাশ থেকে প্রায় লাখ টাকা মূল্যের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ মমিন হোসেন (৬০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অন্তত ১৫টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে পাশের রাস্তার ওপর রাখা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এসব গাছ সরকারি রাস্তার পাশে রোপণ করা হয়েছিল। কিন্তু গ্রামেরই বাসিন্দা মোঃ মমিন হোসেন নিজের দাবি করে গাছগুলো কেটে ফেলেন। গাছ কাটার সময় স্থানীয়রা বাধা দিলেও অভিযুক্ত কোনো কর্ণপাত না করে একের পর এক গাছ কেটে ফেলেন।
গাছগুলো ক্রয় করেছেন পাশের দামড়া গ্রামের মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,
“আমি মমিনের কাছ থেকে গাছ কিনেছি। গাছ সরকারি নাকি ব্যক্তিগত, সে ব্যাপারে আমি জানি না। আমার এখানে কোনো দোষ নেই।”
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাছ কাটার জন্য দুটি ইঞ্জিনচালিত করাত ও দুটি কুড়াল ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মমিন হোসেন আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে রাস্তার গাছ নিজের দাবি করে বিক্রি করেন এবং সেগুলো কর্তন করেন।
তবে মমিন হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এই গাছগুলো আমি অনেক আগে আমার জমিতে রোপণ করেছি। এখানে সরকারি রাস্তা নেই, এটা আমার জমি।”
ঘটনার খবর পেয়ে ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ নাজির উদ্দিন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি জানান,
“উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমাকে ফোন দিলে আমি তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে যাই। গিয়ে দেখি গাছ কাটা শেষ। আমি উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশের সহায়তায় ১৫টি কাটা গাছ এবং ব্যবহৃত করাত ও কুড়াল জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাই। গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা পালিয়ে যায়।”
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন,
“সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কোনোভাবেই ব্যক্তি মালিকানাধীন হতে পারে না। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। গাছ জব্দ করা হয়েছে, এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, এভাবে কেউ যদি সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত দাবি করে কেটে নিতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ গাছ লাগাতে আগ্রহী হবে না। তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এমআর/সবা




















