খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার উদাল বাগান এলাকার নব রতন চাকমা একসময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তবে বেতনের টাকায় সংসারের খরচ মেটানো সম্ভব হতো না। অসুস্থ হলে ঋণ করতে হতো। তাই জীবিকা ও বাড়তি আয়ের কথা ভেবে চাকরি ছেড়ে কৃষি কাজে ঝুঁকেন তিনি।
কৃষি অফিসের পরামর্শ ও প্রণোদনায় ১ একর ২০ শতক জমিতে বারি-১ ও ভিয়েতনাম জাতের সাড়ে তিনশ সবুজ মাল্টার চারা রোপণ করেন নব রতন। তিন বছর পর ফলন আসা শুরু হয়। এবছর তার বাগানে প্রায় ৮ টন মাল্টার ফলন হয়েছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। বেশিরভাগ ফল আগেই অগ্রিম অর্ডার দিয়ে বাগান থেকেই ক্রেতারা নিয়ে যাচ্ছেন।
নব রতন চাকমা বলেন, “প্রথমে কিছুটা দোটানায় ছিলাম। পরে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে মাল্টার বাগান করি। এবছর ৮ টন মাল্টা হবে বলে আশা করছি। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার বিক্রি হবে। খরচ বাদ দিয়ে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকার মতো লাভ হবে। মাল্টার পাশাপাশি আঁদা, হলুদ, কচু, করলা, বেগুনসহ নানা শাকসবজি চাষ করছি। এতে বাড়তি আয় হচ্ছে। এখন আমার বাগানে নিয়মিত ৩-৪ জন শ্রমিক কাজ করছে, তাদেরও কর্মসংস্থান হয়েছে।”

দীঘিনালা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান সুমন জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রদর্শনী প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় নব রতনকে মাল্টার চারা দেওয়া হয়েছিল। সঠিক পরিচর্যায় চার বছরে ব্যাপক ফলন এসেছে। তিনি বলেন, “সবুজ মাল্টা অত্যন্ত লাভজনক। দেশি মাল্টা কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকা, অথচ বিদেশি মাল্টা বাজারে ৪০০-৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, ক্যানসার প্রতিরোধী। পাহাড়ে মাল্টা চাষ বাড়ানো গেলে স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ ইনামুল হাসান বলেন, “আমরা নব রতন চাকমার মাল্টা বাগান পরিদর্শন করেছি। বাজারে বিদেশি মাল্টা ৪০০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও স্থানীয় মাল্টা পাওয়া যাচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজিতে। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়াতে পারলে স্বল্পমূল্যে জনগণের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব। এতে পুষ্টি নিশ্চিত হবে এবং পাহাড়ে তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে ফল চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।”
নব রতনের এই সাফল্যে স্থানীয় কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন মাল্টা ও অন্যান্য ফল চাষে।
এমআর/সবা






















