০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নানা অনিয়মের অভিযোগে ফেনী কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সহ-সভাপতির পদত্যাগ

ফেনী জেলা কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সহ-সভাপতি ও শহরের ট্রাংক রোডের মিন্টু মেডিকেল হলের মালিক পুলিন কুমার দেব নাথ নানা অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন।

সমিতির সদস্যরা জানান, পুলিন কুমার দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে সমিতির পদ আঁকড়ে ধরে ছিলেন। এ সময়ে তিনি নকল ওষুধ বিক্রি, ফার্মেসি কাউন্সিল কোর্সে ভর্তি বাণিজ্য, সার্টিফিকেট বিক্রি, টোকেন বাণিজ্য, এমনকি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জিম্মি করে সুবিধা আদায়ের অভিযোগের মুখে পড়েন।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর সমিতির এক জরুরি বৈঠকে এসব অনিয়মের হিসাব চাইলে তা দিতে না পেরে তোপের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে নিজেকে অসুস্থ দাবি করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। জেলা কমিটি পদত্যাগপত্রটি কেন্দ্রে পাঠালে ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটি তা গ্রহণ করে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।

এ বিষয়ে পুলিন কুমার দেব নাথ বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম করিনি। অনেকে অনেক কথা বলছে, আমার কিছু করার নেই। আমি এক বছর আগেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলাম, তখন তা গ্রহণ করা হয়নি।”

জেলা সমিতির সভাপতি নাছির উদ্দিন মিলন জানান, “সর্বশেষ বৈঠকে তিনি নিজেকে অসুস্থ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। আমরা তা গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠাই এবং কেন্দ্রীয় কমিটি তা অনুমোদন করেছে।”

উল্লেখ্য, পুলিন কুমার দেব নাথের বিরুদ্ধে দৈনিক ৫০০ টাকা হারে কেমিস্টদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে দুই বছরে প্রায় ৬৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে সরকারি ভাতা গ্রহণ করছেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

নানা অনিয়মের অভিযোগে ফেনী কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সহ-সভাপতির পদত্যাগ

আপডেট সময় : ০৪:২১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফেনী জেলা কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সহ-সভাপতি ও শহরের ট্রাংক রোডের মিন্টু মেডিকেল হলের মালিক পুলিন কুমার দেব নাথ নানা অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন।

সমিতির সদস্যরা জানান, পুলিন কুমার দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে সমিতির পদ আঁকড়ে ধরে ছিলেন। এ সময়ে তিনি নকল ওষুধ বিক্রি, ফার্মেসি কাউন্সিল কোর্সে ভর্তি বাণিজ্য, সার্টিফিকেট বিক্রি, টোকেন বাণিজ্য, এমনকি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জিম্মি করে সুবিধা আদায়ের অভিযোগের মুখে পড়েন।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর সমিতির এক জরুরি বৈঠকে এসব অনিয়মের হিসাব চাইলে তা দিতে না পেরে তোপের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে নিজেকে অসুস্থ দাবি করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। জেলা কমিটি পদত্যাগপত্রটি কেন্দ্রে পাঠালে ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটি তা গ্রহণ করে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।

এ বিষয়ে পুলিন কুমার দেব নাথ বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম করিনি। অনেকে অনেক কথা বলছে, আমার কিছু করার নেই। আমি এক বছর আগেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলাম, তখন তা গ্রহণ করা হয়নি।”

জেলা সমিতির সভাপতি নাছির উদ্দিন মিলন জানান, “সর্বশেষ বৈঠকে তিনি নিজেকে অসুস্থ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। আমরা তা গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠাই এবং কেন্দ্রীয় কমিটি তা অনুমোদন করেছে।”

উল্লেখ্য, পুলিন কুমার দেব নাথের বিরুদ্ধে দৈনিক ৫০০ টাকা হারে কেমিস্টদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে দুই বছরে প্রায় ৬৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে সরকারি ভাতা গ্রহণ করছেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

এমআর/সবা