নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোহেল (৩৮) কে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। চলতি মাসে এটি ওই ইউনিয়নে পিটিয়ে হত্যার দ্বিতীয় ঘটনা।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, সোমবার সকালে বালিয়াপাড়া এলাকায় স্থানীয়রা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। সোহেল ওই গ্রামের প্রয়াত মকবুল হোসেনের ছেলে এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন সোহেল বালিয়াপাড়া মার্কেটের মালিক শরীফ হোসেনের কাছে চাঁদা দাবি করেন। পরে বাকবিতণ্ডা এবং গ্রামের আরও মানুষজনের উপস্থিতিতে সোহেলকে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ সোহেলের মরদেহ বালিয়াপাড়া বটতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
নিহতের স্ত্রী জান্নাত আক্তার চৈতি দাবি করেছেন, সোহেল মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কথা বলায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সোহেলের শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং মুখ থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। জুনে তিনি র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে আসেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছেন, সোহেল একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলায় এলাকায় তার অবাধ বিচরণ ছিল, যা গ্রামবাসীর মধ্যে অসন্তোষের কারণ ছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, সোহেল হত্যার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর ওই ইউনিয়নের প্রভারকরদী গ্রামে ডাকাতি মামলার আসামি মো. আয়নাল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
এমআর/সবা




















