১২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিনভর যানজটের পর স্বাভাবিক গতিতে ফিরেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

সংগৃহীত ছবি

দিনভর যানজটের পর বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দু’টিতে যান চলাচল স্বাভাবিক গতিতে ফিরেছে বলে নিশ্চিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ।

দূর্গাপূজার টানা চার দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে বাড়তি যানবাহনের চাপে এ যানজট সৃষ্টি হয়।

এতে করে দিনভর যানজটে আটকে পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এছাড়া বৃষ্টির কারণে গর্তে পানি জমে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয় ধীরগতি।

আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার ও সিলেট মহাসড়কে কাঁচপুর থেকে রূপসী এলাকা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে দুটি মহাসড়ক চলাচলকারী দূরপাল্লার যানবাহন ও যাত্রী দিনভর ভোগান্তিতে পড়েন।

পূজায় বাড়িফেরা যাত্রী লক্ষণ দাস বলেন, মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষা করেই চার ঘণ্টা পার হয়েছে। রাস্তায় দীর্ঘ জ্যাম থাকায় আর বাড়ি ফেরা হলো না। তাই পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি।

মহাসড়কের মোগরাপাড়া এলাকায় কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের যাত্রী তপন কুমার মজুমদার বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় যানজট সকাল সাড়ে ৯টা থেকে আটকা পড়ে দুপুরের দিকে মদনপুর পৌঁছাই। অথচ এ সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে গিয়ে কুমিল্লায় পৌঁছানো সম্ভব। যানজটে তিনি পরিবার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন বলে জানান।

মদনপুর এলাকায় শ্যামলী পরিবহনে আটকা পড়া যাত্রী আবুল হোসেন জানান, সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনার হওয়ার পর মেঘনা আসতে তিন ঘণ্টা সময় পার হয়েছে। এটুকু পথ মাত্র ১০ মিনিটের রাস্তা।

শ্যামলী পরিবহনের বাস চালক রিয়াজউদ্দিন পলাশ বলেন, তিন ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় বসে থাকার পরও যানজট নিরসন করতে পারেনি পুলিশ। এমন পরিস্থিতি বিরক্তিকর। সন্ধ্যায় যানবাহন চলাচল শুরু করেছে।

দিনভর যানজটের পর সন্ধ্যায় মহাসড়ক দুটিকে যানচলাচল স্বাভাবিক গড়িতে ফিরেছে বলে জানান হাইওয়ে পুলিশের কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) আব্দুল কাদির জিলানি।

তিনি বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও ঢাকাগামী লেনে দড়িকান্দি এলাকায় একটি লরি বিকল হওয়ার কারণে এ দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি। তার মধ্যে সকাল থেকে পূজার ছুটির কারণে মহাসড়কে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রী কয়েকগুণ বেশি। যানবাহনের চাপও ছিলে কয়েকগুণ। এতে করে মেঘনা টোল প্লাজা থেকে যানবাহন টোল আদায়ে বাড়তি সময় ব্যয় হয়। তাই যানজট নিরসনে দীর্ঘ সময় লেগেছে।

অপর দিকে বৃষ্টিতে সিলেট মহাসড়কে গর্তে পানি জমে যানচলাচল ধীর গতি হয়ে পড়ায় এ সড়কেও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে রূপসী এলাকা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার জুরে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করে।

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ জুলহাসউদ্দিন জানান, এ মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে রূপগঞ্জের রূপসী পর্যন্ত যানবাহনের ধীরগতি ছিল। তবে ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। বৃষ্টিতে সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে পানি জমে যান চলাচল ধীরগতি হয়ে পড়ে। তবে বিকালের দিকে যান চলাচলের স্বাভাবিক গতি ফিরে আসে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে আল হাবিব ইন্টা.ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাঝে বই বিতরণ

দিনভর যানজটের পর স্বাভাবিক গতিতে ফিরেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

দিনভর যানজটের পর বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দু’টিতে যান চলাচল স্বাভাবিক গতিতে ফিরেছে বলে নিশ্চিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ।

দূর্গাপূজার টানা চার দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে বাড়তি যানবাহনের চাপে এ যানজট সৃষ্টি হয়।

এতে করে দিনভর যানজটে আটকে পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এছাড়া বৃষ্টির কারণে গর্তে পানি জমে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয় ধীরগতি।

আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার ও সিলেট মহাসড়কে কাঁচপুর থেকে রূপসী এলাকা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে দুটি মহাসড়ক চলাচলকারী দূরপাল্লার যানবাহন ও যাত্রী দিনভর ভোগান্তিতে পড়েন।

পূজায় বাড়িফেরা যাত্রী লক্ষণ দাস বলেন, মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষা করেই চার ঘণ্টা পার হয়েছে। রাস্তায় দীর্ঘ জ্যাম থাকায় আর বাড়ি ফেরা হলো না। তাই পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি।

মহাসড়কের মোগরাপাড়া এলাকায় কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের যাত্রী তপন কুমার মজুমদার বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় যানজট সকাল সাড়ে ৯টা থেকে আটকা পড়ে দুপুরের দিকে মদনপুর পৌঁছাই। অথচ এ সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে গিয়ে কুমিল্লায় পৌঁছানো সম্ভব। যানজটে তিনি পরিবার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন বলে জানান।

মদনপুর এলাকায় শ্যামলী পরিবহনে আটকা পড়া যাত্রী আবুল হোসেন জানান, সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনার হওয়ার পর মেঘনা আসতে তিন ঘণ্টা সময় পার হয়েছে। এটুকু পথ মাত্র ১০ মিনিটের রাস্তা।

শ্যামলী পরিবহনের বাস চালক রিয়াজউদ্দিন পলাশ বলেন, তিন ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় বসে থাকার পরও যানজট নিরসন করতে পারেনি পুলিশ। এমন পরিস্থিতি বিরক্তিকর। সন্ধ্যায় যানবাহন চলাচল শুরু করেছে।

দিনভর যানজটের পর সন্ধ্যায় মহাসড়ক দুটিকে যানচলাচল স্বাভাবিক গড়িতে ফিরেছে বলে জানান হাইওয়ে পুলিশের কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) আব্দুল কাদির জিলানি।

তিনি বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও ঢাকাগামী লেনে দড়িকান্দি এলাকায় একটি লরি বিকল হওয়ার কারণে এ দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি। তার মধ্যে সকাল থেকে পূজার ছুটির কারণে মহাসড়কে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রী কয়েকগুণ বেশি। যানবাহনের চাপও ছিলে কয়েকগুণ। এতে করে মেঘনা টোল প্লাজা থেকে যানবাহন টোল আদায়ে বাড়তি সময় ব্যয় হয়। তাই যানজট নিরসনে দীর্ঘ সময় লেগেছে।

অপর দিকে বৃষ্টিতে সিলেট মহাসড়কে গর্তে পানি জমে যানচলাচল ধীর গতি হয়ে পড়ায় এ সড়কেও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে রূপসী এলাকা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার জুরে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করে।

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ জুলহাসউদ্দিন জানান, এ মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে রূপগঞ্জের রূপসী পর্যন্ত যানবাহনের ধীরগতি ছিল। তবে ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। বৃষ্টিতে সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে পানি জমে যান চলাচল ধীরগতি হয়ে পড়ে। তবে বিকালের দিকে যান চলাচলের স্বাভাবিক গতি ফিরে আসে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এমআর/সবা