০৬:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাই শহীদদের কবর সংরক্ষণের উদ্যোগ

  • বিনা খরচে হবে আদর্শিক স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন
  • দেশের ৬৪ জেলা পরিষদের চিহ্নিত কবরের সংখ্যা ৬৭২টি
  • সিটি করপোরেশনের আওতায় চিহ্নিত কবরের সংখ্যা ৬৮টি
  • বাঁধাই করা কবরের সংখ্যা ৩৫১টি, সম্পন্ন হয়েছে ৩৩৫টি
  • গণকবর ও অশনাক্ত কবর যাচাইয়ের কাজ রয়েছে চলমান
  • সব কবর স্থায়ীকরণে চিঠি দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনার সরকারের। তৎকালীন সময়ে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলমান আন্দোলন দমাতে সরকারের নির্দেশে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নগ্ন হামলায় প্রাণ হারান শত শত ছাত্র-জনতা। সেই সময়ে হামলা-গুলিতে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদদের কবরগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেইসব শহীদদের কবরগুলো স্থায়ীভাবে সংরক্ষণসহ বিনা খরচে আদর্শিক স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করবে সরকার। দেশের ৬৪ জেলা পরিষদের চিহ্নিত কবরের সংখ্যা ৬৭২টি। এছাড়া সিটি করপোরেশনের আওতায় চিহ্নিত কবরের সংখ্যা রয়েছে ৬৮টি। সরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে বাঁধাই করা কবরের সংখ্যা ৩৫১টি। তবে ইতোমধ্যে বাঁধাই সম্পন্ন হয়েছে ৩৩৫টি। এখনও গণকবর ও অশনাক্ত কবর যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে এ পর্যন্ত নিহত শহীদদের সব কবর স্থায়ীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠি দেওয়া হয়েছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে।
জানা যায়, গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে শহীদ ছাত্র-জনতার কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে চলতি বছরের ৩১ আগস্ট সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, সংশ্লিষ্ট জেলা ও সকল পৌরসভায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব চিঠির অনুলিপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভায় সব পৌরসভা এলাকায় বীর শহীদের কবর চিরস্থায়ী হিসেবে সংরক্ষণের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এমতাবস্থায় বীর শহীদের কবর স্থায়ী হিসেবে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয় চিঠিতে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট সভায় জানানো হয়, দেশের মোট বাঁধাই করা কবরের সংখ্যা ৩৫১টি। ৬৪ জেলায় জেলা পরিষদের চিহ্নিত কবরের সংখ্যা ৬৭২টি এবং এর মধ্যে কবর বাঁধাই সম্পন্ন করা হয়েছে ৩৩৫টি; সিটি কর্পোরেশনের আওতায় মোট চিহ্নিত কবরের সংখ্যা ৬৮টি এবং এর মধ্যে কবর বাঁধাই করা হয়েছে ১৬টি। সনাতন ধর্মালম্বী শহীদের সংখ্যা ৮ জন এবং পটুয়াখালী জেলায় স্থানীয়ভাবে ডিজাইন অনুযায়ী ১টি সমাধি সৌধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী একজন। স্থানীয়ভাবে ডিজাইন সম্পন্ন করে সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের সিদ্ধান্তে গণকবর ও অশনাক্ত কবর যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। কয়েকটি জেলায় শহীদ পরিবার নিজস্বভাবে কবর সংরক্ষণ করেছে। কয়েকটি শহীদ পরিবারের কবর পাকাকরণে আপত্তি আছে বিধায় কবর সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। বর্ষার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকটি জেলায় কবর সংরক্ষণের কাজ শুরুর ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গণকবরের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান আছে বলেও ওই সভায় জানানো হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

চবিতে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

জুলাই শহীদদের কবর সংরক্ষণের উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৭:১৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
  • বিনা খরচে হবে আদর্শিক স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন
  • দেশের ৬৪ জেলা পরিষদের চিহ্নিত কবরের সংখ্যা ৬৭২টি
  • সিটি করপোরেশনের আওতায় চিহ্নিত কবরের সংখ্যা ৬৮টি
  • বাঁধাই করা কবরের সংখ্যা ৩৫১টি, সম্পন্ন হয়েছে ৩৩৫টি
  • গণকবর ও অশনাক্ত কবর যাচাইয়ের কাজ রয়েছে চলমান
  • সব কবর স্থায়ীকরণে চিঠি দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনার সরকারের। তৎকালীন সময়ে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলমান আন্দোলন দমাতে সরকারের নির্দেশে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নগ্ন হামলায় প্রাণ হারান শত শত ছাত্র-জনতা। সেই সময়ে হামলা-গুলিতে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদদের কবরগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেইসব শহীদদের কবরগুলো স্থায়ীভাবে সংরক্ষণসহ বিনা খরচে আদর্শিক স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করবে সরকার। দেশের ৬৪ জেলা পরিষদের চিহ্নিত কবরের সংখ্যা ৬৭২টি। এছাড়া সিটি করপোরেশনের আওতায় চিহ্নিত কবরের সংখ্যা রয়েছে ৬৮টি। সরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে বাঁধাই করা কবরের সংখ্যা ৩৫১টি। তবে ইতোমধ্যে বাঁধাই সম্পন্ন হয়েছে ৩৩৫টি। এখনও গণকবর ও অশনাক্ত কবর যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে এ পর্যন্ত নিহত শহীদদের সব কবর স্থায়ীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠি দেওয়া হয়েছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে।
জানা যায়, গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে শহীদ ছাত্র-জনতার কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে চলতি বছরের ৩১ আগস্ট সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, সংশ্লিষ্ট জেলা ও সকল পৌরসভায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব চিঠির অনুলিপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভায় সব পৌরসভা এলাকায় বীর শহীদের কবর চিরস্থায়ী হিসেবে সংরক্ষণের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এমতাবস্থায় বীর শহীদের কবর স্থায়ী হিসেবে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয় চিঠিতে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট সভায় জানানো হয়, দেশের মোট বাঁধাই করা কবরের সংখ্যা ৩৫১টি। ৬৪ জেলায় জেলা পরিষদের চিহ্নিত কবরের সংখ্যা ৬৭২টি এবং এর মধ্যে কবর বাঁধাই সম্পন্ন করা হয়েছে ৩৩৫টি; সিটি কর্পোরেশনের আওতায় মোট চিহ্নিত কবরের সংখ্যা ৬৮টি এবং এর মধ্যে কবর বাঁধাই করা হয়েছে ১৬টি। সনাতন ধর্মালম্বী শহীদের সংখ্যা ৮ জন এবং পটুয়াখালী জেলায় স্থানীয়ভাবে ডিজাইন অনুযায়ী ১টি সমাধি সৌধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী একজন। স্থানীয়ভাবে ডিজাইন সম্পন্ন করে সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের সিদ্ধান্তে গণকবর ও অশনাক্ত কবর যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। কয়েকটি জেলায় শহীদ পরিবার নিজস্বভাবে কবর সংরক্ষণ করেছে। কয়েকটি শহীদ পরিবারের কবর পাকাকরণে আপত্তি আছে বিধায় কবর সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। বর্ষার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকটি জেলায় কবর সংরক্ষণের কাজ শুরুর ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গণকবরের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান আছে বলেও ওই সভায় জানানো হয়।