০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজস্থলীতে প্রবারণা পূর্ণিমা শুরু, ছোয়াইং দান ও প্রার্থনায় মুখর বৌদ্ধ বিহার

রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা শুরু হয়েছে। উৎসবটি পালিত হচ্ছে ধর্মীয় দেশনা, প্রার্থনা এবং ছোয়াইং (দান) এর মাধ্যমে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন বিহার, উপাসনালয় ও গৃহে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র দিন। তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষু সংঘ একত্র হয়ে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের দোষত্রুটি পর্যালোচনা করেন এবং মঙ্গল প্রার্থনা করেন। এই উপলক্ষে রাজস্থলীর প্রতিটি বিহারে সকাল থেকে শুরু হয় বুদ্ধ পূজা, সংঘদান, অষ্টশীল গ্রহণ ও প্রার্থনা।

উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া, ঘিলাছড়ি, গাইন্দ্যা ও রাজস্থলী সদর এলাকার বিভিন্ন বিহারে সকাল থেকেই ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, শিশু ও তরুণরা নতুন পোশাক পরে অংশ নিয়েছেন ছোয়াইং দান ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে।

 

রাজস্থলী বাঙ্গালহালিয়া হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহারের প্রধান ভিক্ষু ভদন্ত উ নাইন্দাওয়াসা মহাথের বলেন,

“প্রবারণা পূর্ণিমা আত্মশুদ্ধি ও পরম মঙ্গল কামনার উৎসব। এই দিনে ভিক্ষু সংঘ একে অপরের কাছে ভুল স্বীকার করে নেয়, যা ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও শান্তির প্রতীক। আমাদের সমাজে শান্তি, সত্য ও সদাচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রবারণা উৎসব একটি বড় অনুপ্রেরণা। এ উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা অশুভকে দূরে সরিয়ে মঙ্গলের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করি।”

দিনব্যাপী চলা এই উৎসবে বৌদ্ধ ভক্তরা দান, পূজা ও প্রার্থনার মাধ্যমে নিজের ও সমাজের কল্যাণ কামনা করেন। সন্ধ্যায় ফানুস উড়ানো ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে আকাশ আলোকিত হবে, যা প্রবারণার আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলবে।

উপজেলার বিভিন্ন বিহারে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন, যেখানে মানবজীবনে শান্তি, সহনশীলতা ও করুণার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করা হয়। ভক্তরা মনোযোগ দিয়ে ধর্মদেশনা শ্রবণ করেন এবং শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন।

উৎসব উপলক্ষে রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও প্রবারণা পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে পাহাড়ি জনপদ রাজস্থলী আজ সত্যিই মুখর হয়ে উঠেছে ছোয়াইং দান, ধর্মীয় সংগীত, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও প্রার্থনার মধুর সুরে। বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের মুখে মুখে এখন একটাই বার্তা—
“অশুভ বিদায়, মঙ্গল আগমন—শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা।”

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজস্থলীতে প্রবারণা পূর্ণিমা শুরু, ছোয়াইং দান ও প্রার্থনায় মুখর বৌদ্ধ বিহার

আপডেট সময় : ০৫:০০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা শুরু হয়েছে। উৎসবটি পালিত হচ্ছে ধর্মীয় দেশনা, প্রার্থনা এবং ছোয়াইং (দান) এর মাধ্যমে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন বিহার, উপাসনালয় ও গৃহে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র দিন। তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষু সংঘ একত্র হয়ে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের দোষত্রুটি পর্যালোচনা করেন এবং মঙ্গল প্রার্থনা করেন। এই উপলক্ষে রাজস্থলীর প্রতিটি বিহারে সকাল থেকে শুরু হয় বুদ্ধ পূজা, সংঘদান, অষ্টশীল গ্রহণ ও প্রার্থনা।

উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া, ঘিলাছড়ি, গাইন্দ্যা ও রাজস্থলী সদর এলাকার বিভিন্ন বিহারে সকাল থেকেই ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, শিশু ও তরুণরা নতুন পোশাক পরে অংশ নিয়েছেন ছোয়াইং দান ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে।

 

রাজস্থলী বাঙ্গালহালিয়া হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহারের প্রধান ভিক্ষু ভদন্ত উ নাইন্দাওয়াসা মহাথের বলেন,

“প্রবারণা পূর্ণিমা আত্মশুদ্ধি ও পরম মঙ্গল কামনার উৎসব। এই দিনে ভিক্ষু সংঘ একে অপরের কাছে ভুল স্বীকার করে নেয়, যা ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও শান্তির প্রতীক। আমাদের সমাজে শান্তি, সত্য ও সদাচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রবারণা উৎসব একটি বড় অনুপ্রেরণা। এ উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা অশুভকে দূরে সরিয়ে মঙ্গলের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করি।”

দিনব্যাপী চলা এই উৎসবে বৌদ্ধ ভক্তরা দান, পূজা ও প্রার্থনার মাধ্যমে নিজের ও সমাজের কল্যাণ কামনা করেন। সন্ধ্যায় ফানুস উড়ানো ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে আকাশ আলোকিত হবে, যা প্রবারণার আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলবে।

উপজেলার বিভিন্ন বিহারে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন, যেখানে মানবজীবনে শান্তি, সহনশীলতা ও করুণার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করা হয়। ভক্তরা মনোযোগ দিয়ে ধর্মদেশনা শ্রবণ করেন এবং শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন।

উৎসব উপলক্ষে রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও প্রবারণা পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে পাহাড়ি জনপদ রাজস্থলী আজ সত্যিই মুখর হয়ে উঠেছে ছোয়াইং দান, ধর্মীয় সংগীত, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও প্রার্থনার মধুর সুরে। বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের মুখে মুখে এখন একটাই বার্তা—
“অশুভ বিদায়, মঙ্গল আগমন—শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা।”

এমআর/সবা