০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুমির আতঙ্কে হরিরামপুরের পদ্মার তীরের মানুষ

মানিকগঞ্জ সদর ও হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদী সংলগ্ন শাখা নদীতে প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে একাধিক কুমির। এর ফলে স্থানীয় মানুষরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। মাছ ধরা, গোসল ও নদীসংলগ্ন কাজকর্মে এখন ভর করেছে ভয়।

স্থানীয়রা জানান, চর বংখুরি, ধুলশুড়া, বোয়ালী, আইলকুন্ডি, বাবরহাটি, খামারহাটি, বাকিহাটি, হারুকান্দি ইউনিয়নের কাশিয়াখালি ও তন্ত্রখোলা এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই কুমির দেখা যাচ্ছে। জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না, নদীর পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

চরবংখুড়ি গ্রামের কমেলা বেগম বলেন, “রবিবার সকালে বাড়ির সামনে নদী থেকে পানি আনতে গিয়ে হঠাৎ দেখি একটি কুমির আমার দিকে তেড়ে আসে। আমি দৌড়ে পালিয়ে যাই। পরে দেখি কুমিরটি পাশে থাকা হাঁসকে টেনে নিয়ে গেছে।” একই গ্রামের সাফিয়া বেগম জানান, “এখন আর পানিতে নামার সাহস পাই না, কখন কুমিরে টেনে নিয়ে যাবে কেউ জানে না।”

হারুকান্দি ইউনিয়নের তন্ত্রখোলা এলাকার সিহাব বলেন, “শনিবার রাতে এক ভাই কুমির দেখে টেটা ছুঁড়েছিল, কিন্তু কুমিরটি চলে যায়। হঠাৎ কোথা থেকে এলো বুঝতে পারছি না। আমরা আতঙ্কিত।” ধুলশুড়া ইউনিয়নের নিয়োগীকান্দা এলাকার সুমনও জানান, “রাত ১১টার দিকে কুমির দেখেছি। তারপর থেকে আর নদীতে নামি না।”

নদীর পাড়ের মানুষদের দৈনন্দিন কাজ যেমন গোসল, কাপড় ধোয়া ও রান্নার জন্য নদীর উপর নির্ভর করতে হয়। তবে কুমির আতঙ্কে অনেকেই এখন নদীতে নামার সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয়রা জানান, একাধিক হাঁস ইতিমধ্যেই কুমিরে চলে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “কুমিরের বিষয়ে বন বিভাগকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

কুমির আতঙ্কে হরিরামপুরের পদ্মার তীরের মানুষ

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

মানিকগঞ্জ সদর ও হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদী সংলগ্ন শাখা নদীতে প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে একাধিক কুমির। এর ফলে স্থানীয় মানুষরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। মাছ ধরা, গোসল ও নদীসংলগ্ন কাজকর্মে এখন ভর করেছে ভয়।

স্থানীয়রা জানান, চর বংখুরি, ধুলশুড়া, বোয়ালী, আইলকুন্ডি, বাবরহাটি, খামারহাটি, বাকিহাটি, হারুকান্দি ইউনিয়নের কাশিয়াখালি ও তন্ত্রখোলা এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই কুমির দেখা যাচ্ছে। জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না, নদীর পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

চরবংখুড়ি গ্রামের কমেলা বেগম বলেন, “রবিবার সকালে বাড়ির সামনে নদী থেকে পানি আনতে গিয়ে হঠাৎ দেখি একটি কুমির আমার দিকে তেড়ে আসে। আমি দৌড়ে পালিয়ে যাই। পরে দেখি কুমিরটি পাশে থাকা হাঁসকে টেনে নিয়ে গেছে।” একই গ্রামের সাফিয়া বেগম জানান, “এখন আর পানিতে নামার সাহস পাই না, কখন কুমিরে টেনে নিয়ে যাবে কেউ জানে না।”

হারুকান্দি ইউনিয়নের তন্ত্রখোলা এলাকার সিহাব বলেন, “শনিবার রাতে এক ভাই কুমির দেখে টেটা ছুঁড়েছিল, কিন্তু কুমিরটি চলে যায়। হঠাৎ কোথা থেকে এলো বুঝতে পারছি না। আমরা আতঙ্কিত।” ধুলশুড়া ইউনিয়নের নিয়োগীকান্দা এলাকার সুমনও জানান, “রাত ১১টার দিকে কুমির দেখেছি। তারপর থেকে আর নদীতে নামি না।”

নদীর পাড়ের মানুষদের দৈনন্দিন কাজ যেমন গোসল, কাপড় ধোয়া ও রান্নার জন্য নদীর উপর নির্ভর করতে হয়। তবে কুমির আতঙ্কে অনেকেই এখন নদীতে নামার সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয়রা জানান, একাধিক হাঁস ইতিমধ্যেই কুমিরে চলে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “কুমিরের বিষয়ে বন বিভাগকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

এমআর/সবা