০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
উৎপাদন ছাড়িয়ে যেতে পারে লক্ষ্যমাত্রা

রংপুর অঞ্চলে আমন ধানের চাষে রেকর্ড

দেশের উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার খ্যাত রংপুর অঞ্চলে এ বছর আমন ধানের চাষ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত এক দশকে এই অঞ্চলে আমনের চাষ বেড়েছে ৩৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে, উৎপাদনও বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমন ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধা—এই পাঁচ জেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ লাখ ২০ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে। তবে বাস্তবে চাষ হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে। এসব জমি থেকে উৎপাদনের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১০ হাজার ৪০৫ মেট্রিক টন।

২০১৬ সালে এই অঞ্চলে আমনের চাষ হয়েছিল ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৬১৩ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন হয়েছিল ১৪ লাখ মেট্রিক টনের বেশি। প্রতি বছরই চাষের পরিমাণ ও উৎপাদন উভয়ই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

তবে কৃষকরা বলছেন, এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় সেচ দিয়ে চাষ করতে হচ্ছে, এতে ব্যয় বেড়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, “এ বছর মৌসুমি বৃষ্টি হয়নি। তাই প্রতি ঘণ্টায় ১২০ টাকায় ১৬ ঘণ্টা সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত করেছি। এতে খরচ বেড়েছে দুই হাজার টাকারও বেশি।”

নীলফামারীর কৃষক আব্দুর রহমান জানান, দুই একর জমিতে চাষ করতে গিয়ে তাকে নিয়মিত সেচ দিতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও ব্যয় বেড়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে এখন আমন চাষে আগ্রহ বেড়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার রংপুর অঞ্চল থেকে চাল উদ্বৃত্ত থাকবে।”

কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না বলেন, “আমন ধান রংপুর অঞ্চলের কার্তিকের মঙ্গা দূর করেছে। ফলে এখন কৃষকের মুখে হাসি ফোটে।”

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিবি পরিচালক পদত্যাগ না করলে ক্রিকেট বর্জনের আলটিমেটাম

উৎপাদন ছাড়িয়ে যেতে পারে লক্ষ্যমাত্রা

রংপুর অঞ্চলে আমন ধানের চাষে রেকর্ড

আপডেট সময় : ০৪:২৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

দেশের উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার খ্যাত রংপুর অঞ্চলে এ বছর আমন ধানের চাষ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত এক দশকে এই অঞ্চলে আমনের চাষ বেড়েছে ৩৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে, উৎপাদনও বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমন ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধা—এই পাঁচ জেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ লাখ ২০ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে। তবে বাস্তবে চাষ হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে। এসব জমি থেকে উৎপাদনের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১০ হাজার ৪০৫ মেট্রিক টন।

২০১৬ সালে এই অঞ্চলে আমনের চাষ হয়েছিল ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৬১৩ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন হয়েছিল ১৪ লাখ মেট্রিক টনের বেশি। প্রতি বছরই চাষের পরিমাণ ও উৎপাদন উভয়ই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

তবে কৃষকরা বলছেন, এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় সেচ দিয়ে চাষ করতে হচ্ছে, এতে ব্যয় বেড়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, “এ বছর মৌসুমি বৃষ্টি হয়নি। তাই প্রতি ঘণ্টায় ১২০ টাকায় ১৬ ঘণ্টা সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত করেছি। এতে খরচ বেড়েছে দুই হাজার টাকারও বেশি।”

নীলফামারীর কৃষক আব্দুর রহমান জানান, দুই একর জমিতে চাষ করতে গিয়ে তাকে নিয়মিত সেচ দিতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও ব্যয় বেড়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে এখন আমন চাষে আগ্রহ বেড়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার রংপুর অঞ্চল থেকে চাল উদ্বৃত্ত থাকবে।”

কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না বলেন, “আমন ধান রংপুর অঞ্চলের কার্তিকের মঙ্গা দূর করেছে। ফলে এখন কৃষকের মুখে হাসি ফোটে।”

এমআর/সবা