চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য নগরের পূর্ব মাদারবাড়িতে ১৪ তলা একটি ভবন নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে আরডিপিপি চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই। এমনকি এ বিষয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনও কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে গত ৬ জুন এই দরপত্র আহ্বান করা হয়, যার প্রাক্কলন মূল্য ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ ৯৩ হাজার ২৭১ টাকা। দরপত্র জমার শেষ তারিখ ছিল ১৩ জুলাই, এতে অংশ নেয় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। তবে এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি।
চসিকের ‘পরিচ্ছন্ন কর্মী নিবাস নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় পূর্ব মাদারবাড়িতে এ ভবন নির্মাণের প্রস্তাব আরডিপিপির খসড়ায় রয়েছে। তবে এখনও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পায়নি সংশোধিত এ প্রকল্প প্রস্তাব। আরডিপিপিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা আগের তুলনায় প্রায় ৭৮ কোটি টাকা বেশি। এই অতিরিক্ত অর্থের ৮০ শতাংশ সরকারি অনুদান (জিওবি) এবং ২০ শতাংশ চসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয়ের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ সেটি মানেনি। তারা নির্দেশনা দিয়েছে, পুরো অর্থ যেন চসিক নিজস্ব তহবিল থেকে নির্বাহ করে। অথচ চসিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো ব্যয় বহনের সামর্থ্য তাদের নেই, ফলে আরডিপিপি অনুমোদন নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এমন পরিস্থিতিতে দরপত্র আহ্বানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ ভুলে করে থাকতে পারে। যদি নিয়মবহির্ভূত কিছু হয়ে থাকে, দরপত্র বাতিল করে দেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “অর্থ মন্ত্রণালয় যেখানে অনুদান দিতে সম্মত, সেখানে স্থানীয় সরকার বিভাগ কীভাবে পুরো অর্থ চসিককে দিতে বলছে, সেটা বুঝতে পারছি না। আমরা মন্ত্রণালয়ে লিখব।”
প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান অবশ্য জানিয়েছেন, আরডিপিপিতে প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত থাকায় ‘কাজ এগিয়ে রাখতে’ দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি অনুমোদন না হয়, দরপত্র বাতিল করে দেব।”
তবে অবসরপ্রাপ্ত একাধিক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনুমোদনহীন প্রকল্পে দরপত্র আহ্বান অনিয়মের শামিল। যদি কার্যাদেশ দেওয়া হয়, তা হবে সরাসরি বিধিভঙ্গ। কেউ যেন পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে তাড়াহুড়ো করছেন না— সে প্রশ্নও উঠেছে।
২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদিত ‘পরিচ্ছন্নকর্মী নিবাস নির্মাণ’ প্রকল্পে মোট ব্যয় ছিল ২৩১ কোটি টাকা। এর আওতায় ঝাউতলা, বান্ডেল কলোনি, ফিরিঙ্গিবাজার ও সাগরিকায় ১৪ তলা ৭টি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালে শেষ হলেও বাস্তবায়ন পিছিয়ে এখন ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কিছু ভবনের কাজ আংশিক হয়েছে, কিছু জায়গার অভাবে বন্ধ আছে। দুইটি ভবনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে চুক্তি বাতিলের আবেদন করেছে। এসব কারণে নতুন আরডিপিপির প্রয়োজন হয়। সেই প্রস্তাবে পূর্ব মাদারবাড়িতে একটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা যুক্ত হয়।
কাজ শেষ না হওয়া প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই দরপত্র আহ্বান করায় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভেতরেও। এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই দরপত্র আহ্বান করে চসিক যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আদৌ নিয়মতান্ত্রিক কিনা এবং শেষ পর্যন্ত কী হয় সেই দরপত্রের পরিণতি।
এমআর/সবা






















