রাজনীতি ও বালুর ব্যবসার প্রভাবের জটিলতায় আরও এক প্রাণহানি ঘটেছে চট্টগ্রামের রাউজানে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয়েছে ব্যবসায়ী মো. আবদুল হাকিমকে।
পুলিশ জানায়, নিহতের ব্যবহৃত গাড়িতে মোট ২২টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। গাড়ির সামনের দুটি চাকা, কাচ ও বডি, চালকের পাশের জানালা ও হাকিমের পাশে থাকা জানালায় গুলি লেগেছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
আবদুল হাকিমের ভাই পারভেজ আলম জানিয়েছেন, তার ভাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি হ্যামিম এগ্রো ও ভেষজ ওষুধসহ অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা করতেন। হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি বাগানবাড়ি থেকে গরুর খামারে যান এবং শহরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে গাড়ি আটকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়। পারভেজ আলম দাবি করেছেন, হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
নিহতের দেশ হারবাল নামে ভেষজ ওষুধ কারখানা নোয়াপাড়ায় ছিল। ২০১৯ সালে র্যাব-৭ অভিযানে তার কারখানা ও দোকান থেকে নকল ওষুধ জব্দ করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অস্ত্র আইনে সাতটি মামলা রয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালে কিছু সময়ের জন্য আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুনরায় বিএনপিতে সক্রিয় হন।
পুলিশ বলেছে, হাকিম কর্ণফুলী এলাকায় অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। হত্যাকাণ্ড বালু ব্যবসা না রাজনীতি-সংক্রান্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে হেলমেট ও মাস্ক পরা চারজন অস্ত্রধারী পালিয়ে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে তাদের সনাক্ত ও চারজনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
রাউজান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহম্মদ বলেন, নিহত আবদুল হাকিম বিএনপির সমর্থক ছিলেন। তবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছেন, হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের কেউ বিএনপির নেতা-কর্মী নন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট থেকে রাউজানে সহিংসতায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১২ জন রাজনৈতিক হত্যার শিকার। বিএনপির দুইপক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক গুলিবিদ্ধ ও অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে, কিন্তু গ্রেপ্তার সংখ্যা তুলনামূলক কম।




















