১২:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও পটিয়া নিয়ে জমে উঠেছে রাজনৈতিক সমীকরণ

চট্টগ্রামে তিন আসন চায় হেফাজত

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও পটিয়া — এই তিনটি আসন ভাগে পাওয়ার দাবি জানিয়েছে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ইসলামপন্থী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। একই সঙ্গে সংগঠনটিকে নিজেদের দিকে টানতে তৎপর বিএনপিও। ইতোমধ্যে এ নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতারা হেফাজত নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দল নিয়ে জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতের আমিরের বক্তব্যে জামায়াতের বিরুদ্ধে সমালোচনা শোনা যাওয়ায় সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বিএনপি কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ভোটব্যাংক নিজেদের দিকে আনার কৌশল নিয়েছে। গত ১ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও নজরুল ইসলাম খান চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তীতে ঢাকায়ও হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদের বৈঠক হয়।

হেফাজতে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী জানান, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও পটিয়া — এই তিন আসনে সংগঠনের শক্তিশালী ভোটব্যাংক রয়েছে এবং তাই এসব আসন ভাগে চায় হেফাজত। তিনি বলেন, হাটহাজারীতে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের শক্তিশালী কমিটি রয়েছে, আসনটির প্রতি দাবি জোরালো থাকবে।

হেফাজত সংশ্লিষ্টদের দাবি, হেফাজত অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও এর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ইসলামপন্থী দল নিজ নিজ ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেবে। এরমধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোটসহ কয়েকটি দল রয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকটি বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র। বিএনপি ইসলামি ভোটব্যাংকে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে এবার হেফাজতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে।

হেফাজত ও জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মুনির হোসেন কাসেমী বলেন, বিএনপির সঙ্গে জোট অনেকটাই চূড়ান্ত, তবে আসন ভাগাভাগি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি জানান, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও পটিয়া তিনটি আসনে হেফাজতভুক্ত দলগুলোর ভাগে পাওয়ার দাবি থাকবে, কারণ এলাকায় বড় ভোটব্যাংক রয়েছে।

হেফাজত সংশ্লিষ্টরা আরও দাবি করেন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-চসিক ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড) এবং চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) — এই তিন আসনে বিএনপির তীব্র কোন্দল রয়েছে। একাধিক শক্ত প্রার্থী থাকায় মনোনয়ন নিয়ে বিভাজনের আশঙ্কা রয়েছে। তাই হেফাজতভুক্ত প্রার্থীদের ছাড় দিলে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

তবে বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করেছেন, এই তিনটি আসনে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে এবং আসন ছাড়ার বিষয়টি দলের হাইকমান্ড চিন্তা-ভাবনা করবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির দুই সম্ভাব্য প্রার্থী জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রার্থিতা নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকলেও সবাই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবে।

চট্টগ্রাম-২ আসনে নেজামে ইসলামী পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শেখ শাহজাহান, হাটহাজারী থেকে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির এবং পটিয়া আসনে হেফাজত ও নেজামে ইসলামী পার্টির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী নির্বাচন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী রাজনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে ইসলামপন্থী আলেমদের বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। বিএনপিও চায় আগামী সংসদে বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে ইসলামপন্থী নেতৃত্ব থাকুক।

বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামী ধর্মভিত্তিক আরও কয়েকটি দলকে নিয়ে বিএনপি বিরোধী জোট গঠনে তৎপর। অপরদিকে বিএনপিও বিকল্প হিসেবে হেফাজতভুক্ত দলগুলোকে নিয়ে ইসলামপন্থী একটি জোট গঠনে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও পটিয়া নিয়ে জমে উঠেছে রাজনৈতিক সমীকরণ

চট্টগ্রামে তিন আসন চায় হেফাজত

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও পটিয়া — এই তিনটি আসন ভাগে পাওয়ার দাবি জানিয়েছে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ইসলামপন্থী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। একই সঙ্গে সংগঠনটিকে নিজেদের দিকে টানতে তৎপর বিএনপিও। ইতোমধ্যে এ নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতারা হেফাজত নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দল নিয়ে জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতের আমিরের বক্তব্যে জামায়াতের বিরুদ্ধে সমালোচনা শোনা যাওয়ায় সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বিএনপি কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ভোটব্যাংক নিজেদের দিকে আনার কৌশল নিয়েছে। গত ১ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও নজরুল ইসলাম খান চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তীতে ঢাকায়ও হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদের বৈঠক হয়।

হেফাজতে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী জানান, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও পটিয়া — এই তিন আসনে সংগঠনের শক্তিশালী ভোটব্যাংক রয়েছে এবং তাই এসব আসন ভাগে চায় হেফাজত। তিনি বলেন, হাটহাজারীতে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের শক্তিশালী কমিটি রয়েছে, আসনটির প্রতি দাবি জোরালো থাকবে।

হেফাজত সংশ্লিষ্টদের দাবি, হেফাজত অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও এর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ইসলামপন্থী দল নিজ নিজ ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেবে। এরমধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোটসহ কয়েকটি দল রয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকটি বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র। বিএনপি ইসলামি ভোটব্যাংকে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে এবার হেফাজতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে।

হেফাজত ও জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মুনির হোসেন কাসেমী বলেন, বিএনপির সঙ্গে জোট অনেকটাই চূড়ান্ত, তবে আসন ভাগাভাগি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি জানান, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও পটিয়া তিনটি আসনে হেফাজতভুক্ত দলগুলোর ভাগে পাওয়ার দাবি থাকবে, কারণ এলাকায় বড় ভোটব্যাংক রয়েছে।

হেফাজত সংশ্লিষ্টরা আরও দাবি করেন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-চসিক ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড) এবং চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) — এই তিন আসনে বিএনপির তীব্র কোন্দল রয়েছে। একাধিক শক্ত প্রার্থী থাকায় মনোনয়ন নিয়ে বিভাজনের আশঙ্কা রয়েছে। তাই হেফাজতভুক্ত প্রার্থীদের ছাড় দিলে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

তবে বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করেছেন, এই তিনটি আসনে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে এবং আসন ছাড়ার বিষয়টি দলের হাইকমান্ড চিন্তা-ভাবনা করবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির দুই সম্ভাব্য প্রার্থী জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রার্থিতা নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকলেও সবাই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবে।

চট্টগ্রাম-২ আসনে নেজামে ইসলামী পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শেখ শাহজাহান, হাটহাজারী থেকে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির এবং পটিয়া আসনে হেফাজত ও নেজামে ইসলামী পার্টির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী নির্বাচন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী রাজনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে ইসলামপন্থী আলেমদের বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। বিএনপিও চায় আগামী সংসদে বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে ইসলামপন্থী নেতৃত্ব থাকুক।

বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামী ধর্মভিত্তিক আরও কয়েকটি দলকে নিয়ে বিএনপি বিরোধী জোট গঠনে তৎপর। অপরদিকে বিএনপিও বিকল্প হিসেবে হেফাজতভুক্ত দলগুলোকে নিয়ে ইসলামপন্থী একটি জোট গঠনে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এমআর/সবা