০১:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে মাদকের চালান ধরিয়ে দেওয়ায় যুবককে হত্যা, মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে এক বছর আগে হাসান তারেককে হত্যার ঘটনায় করা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছে থেকে ১২ বোতল মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলাউদ্দীন প্রকাশ আলো (৪১) নোয়াখালীর সুধারাম থানার মাসিমপুর এলাকার হাজী তোফায়েল আহমেদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সিএমপির বিভিন্ন থানায় হত্যা, চুরি ও মাদকসহ ১৮টি মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত বছরের ১০ জানুয়ারি হাসান তারেক একটি মাদকের চালান পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেন। ওই চালানের মালিক ছিলেন শওকত আকবর, আলাউদ্দিন আলো ও মোর্শেদ আলম প্রকাশ সোহেল। এ ঘটনায় আলাউদ্দিন ও মোর্শেদ আলম গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে তারা হাসান তারেককে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

জামিনে বের হওয়ার পর আলাউদ্দিন, শওকত ও মোর্শেদ জামালখান এলাকার একটি গলিতে বসে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টায় আলাউদ্দিন, মোর্শেদ ও শওকত কাজির দেউড়ি এলাকায় অবস্থান নেয়। সাকিব ও ইকবাল হোসেন বাবু নামে আরও দুইজন হাটহাজারী এলাকা থেকে একটি সিএনজি নিয়ে সেখানে আসে। শওকত হত্যাকাণ্ডের খরচ বাবদ আলাউদ্দিনের হাতে ২০ হাজার টাকা দেয়।

পরে সবাই সিএনজি নিয়ে গরীবউল্লাহ শাহ মাজারের সামনে সেজুতি ট্রাভেলস কাউন্টারে যায়। সেখানে শওকত সিএনজি থেকে নেমে হাসান তারেককে সিএনজিতে তোলে। ওই সিএনজিতে করে হাসান তারেককে বায়েজিদ লিংক রোডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নাইলনের রশি দিয়ে প্রথমে তার হাত বেঁধে ফেলা হয়, এরপর গলায় পেঁচিয়ে দুই পাশে টান দেয় দুজন। প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে তারেক মারা যান।

তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আলাউদ্দিনসহ অন্য আসামিরা তার লাশ রাসমণি ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ফেলে দেয়। এরপর তারা ওয়াসার মোড়ের কুটুম বাড়ি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে। খাওয়া শেষে আলাউদ্দিন শওকত থেকে পাওয়া ২০ হাজার টাকার মধ্যে মোর্শেদকে ৫ হাজার, সাকিবকে ২ হাজার, ইকবাল প্রকাশ বাবুকে ২ হাজার এবং সিএনজি চালককে ২ হাজার টাকা দেয়। টাকা ভাগ করে নেওয়ার পর সবাই যার যার মতো করে চলে যায়, সাকিব ও ইকবাল সিএনজি নিয়ে হাটহাজারী ফিরে যায়।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিবিতে শুরু হলো প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের প্রদর্শনী

চট্টগ্রামে মাদকের চালান ধরিয়ে দেওয়ায় যুবককে হত্যা, মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৭:৩১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে এক বছর আগে হাসান তারেককে হত্যার ঘটনায় করা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছে থেকে ১২ বোতল মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলাউদ্দীন প্রকাশ আলো (৪১) নোয়াখালীর সুধারাম থানার মাসিমপুর এলাকার হাজী তোফায়েল আহমেদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সিএমপির বিভিন্ন থানায় হত্যা, চুরি ও মাদকসহ ১৮টি মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত বছরের ১০ জানুয়ারি হাসান তারেক একটি মাদকের চালান পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেন। ওই চালানের মালিক ছিলেন শওকত আকবর, আলাউদ্দিন আলো ও মোর্শেদ আলম প্রকাশ সোহেল। এ ঘটনায় আলাউদ্দিন ও মোর্শেদ আলম গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে তারা হাসান তারেককে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

জামিনে বের হওয়ার পর আলাউদ্দিন, শওকত ও মোর্শেদ জামালখান এলাকার একটি গলিতে বসে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টায় আলাউদ্দিন, মোর্শেদ ও শওকত কাজির দেউড়ি এলাকায় অবস্থান নেয়। সাকিব ও ইকবাল হোসেন বাবু নামে আরও দুইজন হাটহাজারী এলাকা থেকে একটি সিএনজি নিয়ে সেখানে আসে। শওকত হত্যাকাণ্ডের খরচ বাবদ আলাউদ্দিনের হাতে ২০ হাজার টাকা দেয়।

পরে সবাই সিএনজি নিয়ে গরীবউল্লাহ শাহ মাজারের সামনে সেজুতি ট্রাভেলস কাউন্টারে যায়। সেখানে শওকত সিএনজি থেকে নেমে হাসান তারেককে সিএনজিতে তোলে। ওই সিএনজিতে করে হাসান তারেককে বায়েজিদ লিংক রোডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নাইলনের রশি দিয়ে প্রথমে তার হাত বেঁধে ফেলা হয়, এরপর গলায় পেঁচিয়ে দুই পাশে টান দেয় দুজন। প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে তারেক মারা যান।

তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আলাউদ্দিনসহ অন্য আসামিরা তার লাশ রাসমণি ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ফেলে দেয়। এরপর তারা ওয়াসার মোড়ের কুটুম বাড়ি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে। খাওয়া শেষে আলাউদ্দিন শওকত থেকে পাওয়া ২০ হাজার টাকার মধ্যে মোর্শেদকে ৫ হাজার, সাকিবকে ২ হাজার, ইকবাল প্রকাশ বাবুকে ২ হাজার এবং সিএনজি চালককে ২ হাজার টাকা দেয়। টাকা ভাগ করে নেওয়ার পর সবাই যার যার মতো করে চলে যায়, সাকিব ও ইকবাল সিএনজি নিয়ে হাটহাজারী ফিরে যায়।

এমআর/সবা