নারায়ণগঞ্জ জেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে দিন দিন বাড়ছে তিন চাকার যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল। মহাসড়কের দুই লেনেই উল্টো পথে চলতে দেখা যায় এসব যান, কিন্তু বাধা দেওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যায় না। হাইওয়ে পুলিশের তদারকি খুব কম থাকায় নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল যেন স্বাভাবিক চিত্রে পরিণত হয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে দেশের ২২টি মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন নিষিদ্ধ। তবুও কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে দেদারসে চলছে সিএনজি, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মিশুক, ভ্যান আর লেগুনা। কাঁচপুর থেকে মদনপুর পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক নিষিদ্ধ যানবাহন প্রতিদিনই চলাচল করছে। শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুর সেতু পর্যন্ত এই ছোট যানগুলোর দাপট স্পষ্ট—কেউ মাঝরাস্তায় যাত্রী তোলে, কেউ উল্টো পথে ছুটে চলে।
এই বিশৃঙ্খলার কারণে সড়কে বারবার যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। দূরপাল্লার বাস ও কাভার্ড ভ্যান চালকরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের অবহেলাই এর মূল কারণ। নিরাপত্তাহীনতা ও যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন শঙ্কায় রয়েছেন যাত্রীরা।
মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় দুপুরে দেখা যায়, এক অটোরিকশা মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলতেই পেছনের কাভার্ড ভ্যান ব্রেক কষে থেমে যায়। এ দৃশ্য নিত্যদিনের মতোই পুনরাবৃত্ত। মেঘনা শিল্পাঞ্চল থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটারজুড়ে ছোট যানবাহনের প্রতিযোগিতামূলক চলাচল মহাসড়কটিকে সীমাহীন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
চালকরা জানান, তারা জানেন এই পথে তাদের গাড়ি চলা নিষেধ; কিন্তু জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই নামেন। অনেক সময় পুলিশ ধরলেও ‘ম্যানেজ’ করেই রাস্তায় নামতে হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ, বাস্তবে নেই কোনো শৃঙ্খলা বা কঠোরতা।
২০১৭ সালে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সব প্রধান মহাসড়ক থেকে তিন চাকার যানবাহন অপসারণ করতে হবে। কিন্তু মেঘনা থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত বাস্তব অবস্থা ঠিক উল্টো। প্রতিদিন হাইওয়ে পুলিশের চোখের সামনেই চলছে এসব যান, আর ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সোনারগাঁ অংশে গত কয়েক মাসেই অন্তত এক ডজন দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার কয়েকটিতে প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা যায়।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদির জিলানি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের প্রায় সব জায়গাতেই থ্রি-হুইলার চলছে। তারা নিয়মিত অভিযান চালান, প্রতি মাসে ১০০–১৫০ মামলা দেওয়া হয়, পাশাপাশি মাইকিং করে সচেতন করা হয়। তবে অসংখ্য সংযোগ সড়কের কারণে ছোট যানবাহন মুহূর্তেই মহাসড়কে উঠে আসে। জনবলও কম থাকায় সব জায়গায় নজর রাখা কঠিন।
এ বিষয়ে জানতে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এমআর/সবা






















