রংপুরে হয়রানিমূলকভাবে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধ না হলে হরতাল ও অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। আজ ৬ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) গ্রাহকদের আপত্তি উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করে চলেছে। গ্রাহকদের আন্দোলনের মুখে পূর্বে জেলা প্রশাসক নেসকোকে এ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেও তা মানা হচ্ছে না। এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গ্রাহকদের মতামত বা গণশুনানি আয়োজনের প্রয়োজন ছিল।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ আইন ২০০৩-এর ৫৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হলে ১৫ দিন পূর্বে নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু প্রিপেইড মিটার রিচার্জ শেষ হলেই তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা আইনের পরিপন্থী। এছাড়া প্রতি ১ হাজার টাকা রিচার্জে ২০ টাকা এজেন্ট কমিশন ও মাসে ৪০ টাকা মিটার ভাড়া গ্রাহকদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ হিসেবে যুক্ত হবে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অ্যাডভোকেট পলাশ জানান, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন চলমান থাকা সত্ত্বেও নেসকো দ্রুততার সঙ্গে সংযোগ দিচ্ছে, যা আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধে জেলা প্রশাসকের নির্বাহী আদেশ না এলে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে হরতাল ও অবরোধ ঘোষণা করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নীপেন্দ্রনাথ রায়, এবিএম মসিউর রহমান, আব্দুল হামিদ বাবু, মাহফুজার হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এমআর/সবা




















